নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়

প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত দেশদ্রোহী ও পাচারকারীদের তালিকা প্রকাশ করুন

।। শামসুল আলম লিটন ।।

আমদানি নির্ভর অর্থনীতির দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সম্ভাব্য সংকট মানেই নিশ্চিতভাবে বলা যায়— দেউলিয়াত্বের পথে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সময় প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- আপনি ২০১৯ সালে প্রকৃত দেশদ্রোহী পাচারকারী ও তাদের সহযোগীদের তালিকা প্রণয়ন করেছেন। সেই তালিকা প্রকাশ করুন, তাদের কাছ থেকে পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধার করুন। অন্যথায় নিশ্চিত দেউলিয়াত্বের পথে বাংলাদেশকে ঠেলে দেয়ার রাজনৈতিক পরিণতি বহন করার মানসিক প্রস্তুতি নিন। মনে রাখবেন, সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। উদ্বেগ চারদিকে। একটির পর একটি দেশ দেউলিয়া হচ্ছে একই কারণে। প্রধানমন্ত্রী সবই জানেন বলে অনেকে আপনাকে প্রতিদিন তোষামোদিতে ডুবিয়ে রেখেছেন। কিন্তু আপনাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিপর্যয় সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।

সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক (৪ হাজার কোটি টাকা অর্থাৎ তখনকার হিসেবে ৫০০ মিলিয়ন ডলার), জনতা ব্যাংকের আনোনটেক্স (৫,৫০০ কোটি টাকা/ ৬৭৫ মিলিয়ন ডলার), বেসিক ব্যাংকের বাচ্চু কেলেঙ্কারীতে ৪,৫০০ কোটি টাকা/ ৫৬২.৫০ মিলিয়ন ডলার আর বাংলাদেশ ব্যাংকের সংঘবদ্ধ চক্রের রিজার্ভ চুরির জন্য ৮১ মিলিয়ন ডলার(৬,৫০০ কোটি টাকা) – শুধু এই চারটি কেলেংকারীর জন্য বাংলাদেশকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার দণ্ড দিতে হয়েছে, যার বিপরীতে বাজার সয়লাভ হয়েছে ভুয়া টাকায়। এমন কয়েকশ’ স্ক্যান্ডাল ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে হয়েছে।

যার জন্য সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী কতৃত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনি শেখ হাসিনা আর আপনার বোগাস ও রাবিশ মন্ত্রী খ্যাত আবুল মাল মুহিত(যিনি চার হাজার কোটি মানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার কোনো টাকাই নয় বলে মন্তব্য করে প্রমাণ করেছিলেন মন্ত্রী হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে আপনি তাকে ১০ বছর অর্থমন্ত্রী রেখেছেন, ইংরেজি সাহিত্যের মানুষ অর্থমন্ত্রী হয়ে ১০ বছরে অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে তিনি অগস্ত যাত্রা করেছেন) সবচেয়ে বেশী দায়ী বলে সময়ের কাছে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন। আপনার সমর্থন ও আশীর্বাদ না থাকলে এইসব ডাকাতগণ কখনো এতবড়ো সাগরচুরির সুযোগ পেতোনা।

এসব কেলেংকারীর জন্য পত্র পত্রিকায় (ও আপনার প্রণীত তদন্ত রিপোর্টে ) দায়ী বলে যাদের নাম এসেছে, নাম গুলো মিলিয়ে নিতে পারেন। আপনারই উপদেষ্টা ডা. মোদাচ্ছের আলী হলমার্ক কেলেংকারীর হোতা তানভীরের প্রধান পৃষ্টপোষক। অদক্ষ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন গভর্নর আতিউর রহমান(যিনি আপনারই লোক বলে পরিচিত -রহস্যজনক কারণে একমাস রিজার্ভ চুরির ঘটনা লুকিয়ে রেখে চোরদের সব টাকা সরাতে সাহায্য করেছেন, এরআগে ইন্ডিয়ান নাগরিক রাকেশ আস্তানাকে নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটির দায়িত্ব দিয়েছেন), আবুল বারাকাত(এনোনটেক্স সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ডাকাতির সহযোগী), মশিউর রহমান, আব্দুল হাই বাচ্চু (বেসিক ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকা তসরুফকারী), এসকে সুর(সাবেক ডেপুটি গভর্নর-বাংলাদেশ ব্যাংক), কাজী সাইদুর রহমান(নির্বাহী পরিচালক-বাংলাদেশ ব্যাংক) ও শাহ আলম (বাংলাদেশ ব্যাংক) আর কুখ্যাত পাচারকারীদের মধ্যে পিকে হালদার, ইউনুস বাদল(এনোনটেক্স), তানভীর (হলমার্ক), নজরুল ইসলাম (প্রেসিডেন্ট, ব্যাংকার্স এসো.) ও আরও অন্তত ১১০০ পাচারকারী যাদের তালিকা আপনার কাছে প্রমানসহ সংরক্ষিত আছে। দুর্নীতির শত শত প্রমান আপনার ভ্যানিটি ব্যাগে, আর দুদক এবং আপনার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে থাকার পরেও এইসব লোকেরা এখনো ঢাকার রাস্তায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এদের মধ্যে কেউ কেউ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার গুলোতে বসে আছেন। এমনকি ফোরেক্সের দায়িত্বে চরম দায়িত্বহীনতার জন্য চিহ্নিত ব্যক্তিকে প্রমোশন দিয়ে কারেন্সী ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পদোন্নতিসহ। প্রধানমন্ত্রী আপনি এবং আপনার আশীর্বাদপুষ্ট লোকদের এইসব দেশদ্রোহী অপকর্মের দায় থেকে আপনি নিজেকে কিভাবে দায়মুক্ত ভাবতে পারেন? বছরের পর বছর আপনার নাকের ডগায় এসব চলছে,কিছু কিছু ঘটনা প্রমানসহ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে।অথচ আপনি সবকিছু দেখেওনা দেখার ভান করছেন।

২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী আপনি উচ্চক্ষমতার যে তদন্ত কমিটি করেছিলেন, তাদের ওই তালিকা আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। আমরা চাই আপনিই তালিকাটি প্রকাশ করে অতি দ্রুত আপনার আশীর্বাদপুষ্ট সকল অসৎ, দেশদ্রোহী ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও আমলা নামধারী দুর্বৃত্ত ও ব্যাংকার নামের সাক্ষাৎ শয়তানগুলোকে আটক করুন, তাদের লুটকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনুন। আপনিতো সিটিং সুস্থ প্রধান বিচারপতিকে ক্যানসার রোগী বানিয়ে বিদেশ পাঠিয়ে দিতে পারেন। আবার তার স্বজনদের গুম করে ডিজিএফআই পাঠিয়ে হুমকির মুখে পদত্যাগ করাতে পারেন। আরও ইশারায় দেশে এখন সবকিছুই হতে পারে। দেশের সম্পদ উদ্ধারে সেই অসীম ক্ষমতা কেন আপনি ব্যবহার করছেন না? সময় খুব সীমিত, সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করেনা, মিসেস ওয়াজেদ মিয়া।

আমরা চাই আপনি সফল হোন। কারণ অর্থনীতি সবকিছুর ঊর্ধ্বে, এমনকি রাজনীতিরও অনেক ঊর্ধ্বে। কোটি কোটি মানুষের বাঁচা মরার প্রশ্ন।আপনি ব্যর্থ হলেও নিশ্চিত থাকুন— বাংলাদেশ কখনো ব্যর্থ হবেনা। আর দায়িত্বশীল গণমাধ্যম হিসেবে সাপ্তাহিক সুরমা অবশ্যই পাঠকের সামনে কঠিন সত্য প্রকাশ অব্যাহত রাখবে।

লন্ডন, ১০ আগস্ট ২০২২।

Back to top button
Close
Close