বাংলাদেশ

বন্যা দুর্যোগে আলেমদের অবদান অনস্বীকার্য: শায়খ জিয়া উদ্দিন

সিলেটে ইউকে জমিয়তের নগদ অর্থ বিতরণ সম্পন্ন

সিলেট, ৯ আগস্ট : জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দিন বলেছেন, যে মানুষের উপকার করে সেই সর্বোত্তম মানুষ। সিলেটের আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দুঃখদুর্দশায় গোটা জাতি ব্যথিত, মর্মাহত ও দুঃখিত। উলামায়ে কেরামসহ গোটা জাতি আজ বনার্তদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই বন্যার সময়ে এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে কওমি আলেমরা মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। জমিয়ত আদর্শিক রাজনৈতিক দল। জমিয়তের নেতাকর্মীরা এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে বন্যার্তদের পাশে ছিলেন এখনো আছেন।

উপস্থিতত সুধীবৃন্দ

সকলকে নিজেদের পাপাচার থেকে তাওবা করে এক ও নেক হয়ে আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, বান্দার পাপাচারের কারণেই বিভিন্ন সময় আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকে বিপদ-আপদ দিয়ে হুশিয়ার করে থাকেন। তিনিই মানুষকে বিপদ থেকে মুক্তি ও শান্তি দাতা। ইসলাম সহমর্মিতা ও মানবতার কল্যাণের ধর্ম। তিনি আরও বলেন, ইসলামের আদর্শই হচ্ছে একে অপরের সহযোগিতা করা, একজন আরেকজনের পাশে দাড়ানো। ইসলামের এই সু-মহান শিক্ষার চেতনার আলোকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে সাধ্যমতো সাহায্যের হাত প্রসারিত করে যে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলছে তা চিরস্বরণীয় হয়ে থাকবে।
সিলেট নগরীর দরগাহ গেইটস্থ কেমুসাসের শহীদ সুলেমান হলে অনুষ্ঠিত জমিয়তের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন এবং ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা আহমাদুল হক উমামার যৌথ সঞ্চালনায় নগদ অর্থ  বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শায়খ জিয়া উদ্দিন উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র সহসভাপতি,  শায়খুল হাদীস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, ইসলাম ছাড়া যারা রাজনীতি করতে চায় এদের মতলব ভালো নয়। ইসলামে রাজনীতি ছিল আছে থাকবে। আকাবিরে দেওবন্দ রাজনীতি করেছেন। আমরা তাদের অনুস্মরণ করবো। সহসভাপতি মাওলানা শায়খ আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, সকল দুর্দিনে  মানুষের পাশে জমিয়ত ছিল। নাস্তিকদের নানা প্রসঙ্গ আলোকপাত করে বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ বলেন রোহিঙ্গা থেকে শুরু করে বন্যা পর্যন্ত আমরাই ছিলাম জনগণের কল্যাণে তৎপর।
মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি বলেন, মানবসেবা হচ্ছে জমিয়তের মৌলিক কর্মসূচীর একটি, খেদমতে খালক বা মানবসেবা। দেশের দুর্যোগপূর্ণ সময়ে জমিয়তের নেতাকর্মীরা মাঠে সরব ছিলেন। রাসূল সা. বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার মানুষদের শান্তনা দিলে আল্লাহ তায়াল রেশমি রুমাল পরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। 
তিনি লোডশেডিংসহ দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আজ দেশের সাধারণ জনগণ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অথচ, সুইচ ব্যাংকে ক্ষমতাসীন নেতারা টাকা জমাচ্ছেন। বীজের দাম বাড়িয়ে সরকার কৃষি নির্ভর দেশের মানুষদের পেঠে লাথি মারছে। যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহা উদ্দিন যাকারিয়া বলেন, স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মাঝে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সর্বাগ্রে দাঁড়িয়েছে। এখনো জমিয়ত আছে বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে। ইউকে জমিয়তসহ প্রবাসী জমিয়ত নেতৃবৃন্দ সাহায্যের হাত বাঁড়িয়ে দিয়েছেন। আমি তাদেরকে মোবারকবাদ জানাই। 
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের অর্থায়নে ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রোববার (৭ আগস্ট) সিলেট নগরীর দরগাহ গেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের হলরুমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০০জন আলেমের মাঝে নগদ ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা করে অর্থ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ইউকে জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক ও জময়িতে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ। 

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জমিয়তের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফি, সহসভাপতি মাওলানা শায়খ আব্দুল বছির,  দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহা উদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ, ইউকে জমিয়তের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি আব্দুল মুন্তাকিম, জমিয়তের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নাছির উদ্দীন খান, সিলেট জেলা জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমান কোম্পানীগঞ্জী, মহানগর জমিয়তের সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান।
মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন- আমাদের উচিত ছিল বন্যার্ত আলেমদের বাড়িতে গিয়ে সহযোগীতা পৌঁছে দেওয়া, কিন্তু আমরা সেটা পারিনি। আমরা জমিয়ত করি ইবাদত মনে করে, আপনারা নিজে এবং আপনাদের পরিবারের সবাইকে জমিয়তের দাওয়াত দিবেন। 

আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুফতি আব্দুল মুনতাকিম বলেন— জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম শায়খুল হিন্দের ঝান্ডাবাহী কাফেলা। এর ছায়ায় সমবেত হয়ে দ্বীন দেশ ও মিল্লতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন আমি শোকাহত, আমার আম্মার ইন্তেকালে মাত্র দুই তিনদিনের জন্য আমি দেশে এসেছি, তবুও আমাকে জমিয়তের প্রোগ্রাম উদ্বেলিত করেছে। তাই চলে এসেছি। আপনারা কষ্ট করে এসেছেন, জাজাকাল্লাহ।
অনুষ্ঠানে ১ম অধিবেশনে পরিচালনা করেন সিলেট মহানগর ছাত্র জমিয়তের সভাপতি মাওলানা লুৎফুর রহমান এবং দ্বিতীয় অধিবেশনে কালামে পাক থেকে তেলাওয়াত করেন সিলেট মহানগর ছাত্র জমিয়তের সহ সভাপতি মাওলানা শাহিদ হাতিমী, সংগীত পরিবেশন করেন আব্দুল করিম দিলদার ও জুবায়ের ।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গফফার ছয়ঘরী,  মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা সৈয়দ ছালিম আহমদ কাসেমি, মাওলানা আলী নূর, মাওলানা শিব্বীর আহমদ বিশ্বনাথী, মাওলানা মশতাক গাজিনগরী, মাওলানা আখতারুজ্জামান তালুকদার, মাওলানা কবির আহমদ, মাওলানা আব্দুল হালিম সাতবাকী, মাওলানা রেজাউল কারীম, মাওলানা রায়হান আহমদ, মাওলানা এরশাদ খান আল হাবীব, মাওলানা সৈয়দ রশীদ আহমদ, মাওলানা সৈয়দ মারজান, হাফিজ মাওলানা ফরহাদ আহমাদ, সাংবাদিক মাওলানা আতিকুর রহমান নগরী, শেখ আলবাব হোসেন, মাওলানা লুকমান হাকিম, মাওলানা হাসান বিন ফাহিম, মাওলানা হাবিব ছালেহ প্রমুখ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close