নিউজ

মন্ত্রী, এমপিদের গণ পদত্যাগ: পতনের মুখে বরিস সরকার

চতুর্দিক থেকে পদত্যাগের চাপ, অস্বীকৃতি বরিসের
সমালোচকদের দৃষ্টিতে বরিস ‘বৃটেনের ট্রাম্প’

|| সুরমা প্রতিবেদন ||
লণ্ডন, ৭ জুলাই : এবার হয়তো আর শেষ রক্ষা হবে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের। ৫ জুলাই, মঙ্গলবার চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক ও হেলথ সেক্রেটারি সাজিদ জাবিদের পদত্যাগের পর পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। একে একে পদত্যাগ করেছেন প্রায় অর্ধশত জন। এদের মধ্যে রয়েছেন ২ শীর্ষ কেবিনেট মিনিস্টার, ১৫ জন মিনিস্টার, ১৭ পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারিসহ কনজারভেটিভ পার্টির ভাইস চেয়ারর ও ৩ ট্রেড এনভয় একদিনেই পদত্যাগ করেছেন। এই পদত্যাগের তালিকা আরো দীর্ঘ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে অনেকটা ঝুলে গেছেন বসির জনসনের ভাগ্য। এহেন পরিস্থিতিতে আগাম নির্বাচন কথা নিয়েও কথা উঠেছে। তবে প্রচণ্ড চাপ সত্ত্বেও আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন বরিস। গণ-পদত্যাগের পরও স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা না দেওয়া ইতোমধ্যে অনেক রাজনৈতিক সমালোচক বরিস জনসনকে ‘বৃটেনের ট্রাম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। চতুর্দিক থেকে পদত্যাগের চাপের মুখে পড়েছেন বরিস। মঙ্গলবার ইউগভ‘র এক পোল জরিপে দেখা গেছে যে, ৬৯ শতাংশ সাধারণ ব্রিটিশ জনগণ বরিস জনসনের পদত্যাগ করা উচিৎ মনে করছেন। একই সাথে অর্ধেকের বেশী টোরি ভোটারের বিশ্বাস তাঁর এখনই চলে যাওয়া উচিৎ।

এদিকে, যে কোনো সময় কনজারভেটিভ পার্টির নীতি-নির্ধারণী গ্রুপ ১৯২২ কমিটি আহবান করতে পারে বলেও জানা গেছে। গত ৬ জুন বরিস জনসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আয়োজন করেন কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা। এ দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একবার কোনো অনাস্থা ভোট আয়োজন করলে, আগামী এক বছরের মধ্যে এরকম কোনো ভোট আয়োজন করা যাবে না। কিন্তু এ নিয়ম পরিবর্তন করা হতে পারে এবং সেটি বুধবার সন্ধ্যাতেই হতে পারে বলে ওই কমিটির সাথে সম্পৃক্ত একজন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ দুই কেবিনেট মিনিস্ট্রা যথাক্রমে চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক ও হেলথ সেক্রেটারি সাজিদ জাভিদের পদত্যাগের পর দুইজন মিনিস্টার উইল কুইন্স এবং রবিন ওয়াকার। অতঃপর সামান্য সময়ের ব্যবধানে কয়েকজন করে এক সাথে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগী অন্যান্যরা হচ্ছেনÑ স্কুল মিনিস্টার রবিন ওয়াকার, ইংল্যাণ্ড এবং ওয়েলসের সলিসিটর জেনারেল অ্যালেক্স চক, ট্রান্সপোর্ট সেক্রেটারি গ্রান্ট শ্যাপসের সংসদীয় সহকারী লরা ট্রট, কনজারভোটিভ পার্টির ভাইস-চেয়ার বিম আফোলামি, নর্দান আয়ারল্যাণ্ডের সেক্রেটারির সংসদীয় ব্যক্তিগত সচিব জোনাথন গালিস, হেলথ সেক্রেটারির সংসদীয় একান্ত সচিব সাকিব ভাট্টি, সংসদীয় প্রাইভেট সেক্রেটারি নিকোলা রিচার্ডস, ওয়েলস অফিসে সংসদীয় প্রাইভেট সেক্রেটারি ভার্জিনিয়া ক্রসবি, মরক্কোতে ব্রিটিশ বাণিজ্য দূত অ্যাণ্ডরু মুরিসন, কেনিয়ায় ব্রিটিশ বাণিজ্য দূত থিও ক্লার্ক প্রমুখ।

সব মিলেয়ে কঠিন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ক্রমশ চাপ বাড়ছে তার ওপর। কয়েকদিন আগে অনাস্থা ভোটে টিকে যাওয়ার পর এবার তার পদত্যাগ দাবি জোরালো হয়েছে।
অনলাইন বিবিসি বলছে, মন্ত্রীপরিষদের একটি গ্রুপ তাকে বলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করা উচিত। এসব মন্ত্রীর মধ্যে আছেন গ্রাণ্ড শেপস এবং নতুন চ্যান্সেলর নাদিম জাওয়াহি। ওদিকে মাইকেল গভ এবং কাসি কাওয়ার্তেও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিদায় নেয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট অনুমোদনের নিয়ম পরিবর্তন করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৯২২ কমিটি।
এর পরিবর্তে সোমবার একজন নতুন নির্বাহী বাছাই করা হবে। তারপর তারা নিয়ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ওদিকে বরিস জনসন লিয়াজোঁ কমিটির সামনে উপস্থিত হয়েছেন। সেখানে বিভিন্ন ইস্যুতে ও সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তাকে প্রশ্ন করার জন্য এমপিদেরকে সুযোগ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, সাবেক ডেপুটি চিপ হুইপ ক্রিস পিনচারের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচারণের অভিযোগ বরিস জনসন যেভাবে মোকাবিলা করেছেন তাতে তার ওপর ক্ষুব্ধ এমপিরা। তাদের মত, করোনাকালে বিধিনিষেধের মধ্যে পার্টিগেট কেলেঙ্কারিতে বরিস জনসন জরিমানা দিয়েছেন। দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট হয়েছে। এর ওপর যোগ হয়েছে ক্রিস পিনচারের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ।

https://issuu.com/home/published/sur001_b595350bfd42d9

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close