নিউজ

মুনা তাসনিমের ফতোয়া: বঙ্গবন্ধুর সমালোচকরা বাংলাদেশী হতে পারে না, তারা পাকিস্তানী 

স্মরণসভা


লণ্ডন, ২৩ জুন : যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দা মুনা তাসনিম নতুন ফতোয়া জারি করেছেন। লণ্ডনে বিশিষ্ট সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর স্মরণসভায় তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর যারা সমালোচনা করেন, তারা তো আর যাই হোক বাংলাদেশী হতে পারে না। তারা পাকিস্তানী।

লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাব এর উদ্যোগে গত ১৯ জুন, রবিবার পূর্ব লণ্ডনের ব্রাডি আর্ট সেণ্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিতর্কিত বিষয়গুলো অবতারণা করেন। একজন সিনিয়র সাংবাদিকের বক্তব্যের জের ধরে (নাম উল্লেখ না করে) হাইকমিশনার মুনা তাসনিম আরও বলেন, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী কখনো বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা করেননি। তিনি সব সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে লিখে গেছেন। আজীবন ভূমিকা রেখে গেছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সিনিয়র সাংবাদিক তাঁর বক্তৃতায় বলেছিলেন, গাফফার চৌধুরী ছিলেন অত্যন্ত নির্ভীক। তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রশংসা করেছেন আবার প্রয়োজন যেখানে প্রয়োজন সমালোচনাও করেছেন। 

লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাব সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরী। 
স্মৃতিচারণকালে হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আরো বলেন, “জাতির পিতা” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর একটি অন্যরকম সম্পর্ক ছিল। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তিনি সবসময় আপোসহীন ছিলেন। রাষ্ট্রীয় খরচে আবদুল গাফফার চৌধুরী যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় খরচে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। মৃত্যুর পর বাংলাদেশে মরদেহ প্রেরণে প্রয়োজনীয় সবকিছু করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। তার স্মৃতিতে ‘আবদুল গাফফার চৌধুরী ফাউন্ডেশন’ ও তার লণ্ডনের বাড়িটিকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সেক্ষেত্রে তিনি লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহযোগিতা কামনা করেন।

স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক নতুন দিন সম্পাদক মহিব চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক-কলামিস্ট  গাজিউল হাসান খান, বিবিসি বাংলার সাবেক প্রযোজক উদয় শংকর দাশ, লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক জনমত সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনমতের সাবেক সম্পাদক নবাব উদ্দিন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, সাপ্তাহিক সুরমার সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, শেখ মুজিব রিসার্চ সেণ্টারের পরিচালক লোকমান হোসেন, সাবেক সেক্রেটারি আবদুল আজিজ, লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও মাসিক দর্পণ সম্পাদক রহমত আলী,  স্পেক্ট্রাম রেডিও বাংলার পরিচালক মিসবাহ জামাল, কবি ও ছড়াকার দিলু নাসের, সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক উর্মি মাজহার, চ্যানেল এস-এর  চীফ রিপোর্টার ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়ের, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী হিমাংশু গোস্বামী ও প্রেস ক্লাবের ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা। 

বিবিসি বাংলার সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসাইন গাফফার চৌধুরীর একুশের গান রচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে বলেন— ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় সাংবাদিক শফিক রেহমান ও আবদুল গাফফার চৌধুরী ঢাকার রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ প্রতিপক্ষের আক্রমনে রাস্তায় পড়ে যান গাফফর চৌধুরী। পরবর্তীতে ওই দিন রাতেই শফিক রেহমানের বাসায় বসে একুশে ফেব্রুয়ারির গানটি প্রথমে কবিতা আকারে রচনা করেন । পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে প্রখ্যাত সুরকার আলতাফ মাহমুদ কবিতাটিতে সুর দেন। তখন থেকেই কবিতাটি একুশে ফেব্রুয়ারির গান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট সম্পাদক ব্যারিস্টার তারেক চৌধুর। সংগীতশিল্পী হিমাংশু গোস্বামীর নেতৃত্বে সমবেত কণ্ঠে একুশের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে স্মরণসভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।  

উল্লেখ্য, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া গ্রামের জমিদার পরিবারে  জন্মগ্রহণকারি গাফফার চৌধুরী গত ১৯ মে বৃহস্পতিবার লণ্ডনের বার্নেট হাসপাতালে ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যূবরণ করেন। তাঁর জীবনের ৪৮ বছরই কেটেছে বিলেতে । গত ২৮ মে শনিবার রাজধানী ঢাকার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্ত্রী সেলিনা আফরোজের কবরের পাশে তিনি সমাহিত হন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close