নিউজ

চতুর্থবারের মতো পেছালো নঈম নিজামসহ ৭জনের বিরুদ্ধে মামলার রিপোর্ট জমার সময়-

রিপোর্ট জমার পরবর্তী তারিখ ২৬ জুন

সুরমা প্রতিবেদন।
২২ জুন, ঢাকা। বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন এর মামলায় তদন্ত রিপোর্ট দিতে ৪র্থ বার সময় নেয়া হলো। মামলায় রাষ্ট্র পক্ষ উল্লেখিত তিন তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পরও তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেনি। উল্লেখ, গত ১৫ ফেব্রুয়ারী মিথ্যা, মানহানিকর, অপমানজনক, আপত্তিকর ও হেয় প্রতিপন্ন করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে নঈম নিজামসহ ৭জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারী ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে এই মামলা করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন মামলাটি পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন। ১৫ মার্চের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বেধে দেন আদালত। সিআইডি রিপোর্ট দিতে ব্যর্থ হয়ে সময় চাইলে ১০ মে দ্বিতীয় দফা ও ২৬জুন ৪র্থ দফা তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় নির্ধারন করেন।

মামলায় অপর যে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরী, অনলাইন পোর্টাল বাংলা ইনসাইডারের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ বোরহান কবীর। এ ছাড়া ভাইরাল প্রতিদিন পেজের অ্যাডমিন, বর্ণনাকারী (কণ্ঠ), ভিডিও প্রস্তুতকারী ও টেকনিশিয়ানকে আসামি করা হয়।

মামলায় আরজিতে বাদীপক্ষ দাবি করেছে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সরোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ করে গত বছরের ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিনে মানহানিকর সংবাদ ও তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর অনলাইন পোর্টাল বাংলা ইনসাইডারে আইনজীবী সারোয়ারকে নিয়ে মিথ্যা, মানহানিকর, অপমানজনক, আপত্তিকর ও হেয় প্রতিপন্ন করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।এছাড়া ভাইরাল প্রতিদিন নামক ফেইসবুক পেজে ব্যারিস্টার সারওয়ার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একইভাবে মিথ্যা, মানহানিকর, অপমানজনক, আপত্তিকর ও হেয় প্রতিপন্ন করে ৮টি ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ ও প্রচার করে. মামলার বাদী বলেন যে, মুনিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আইনজীবী হওয়ার কারণে বসুন্ধরার এমডি আনভীর আসামিদের দ্বারা এই মিথ্যা, মানহানিকর খবর ও ভিডিও প্রকাশ ও প্রচার করেছে।

বহুল আলোচিত কয়েকটি চাঞ্চল্যকর কিংবা ভিআইপি আসামি জড়িত মামলার মতো রিপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রে এই মামলাটিও সমান রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে কিনা, সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাগর রুনি হত্যা মামলা ও মুনিয়া হত্যা,ধর্ষণ -হত্যা ও ভ্রূণহত্যার মামলার ক্ষেত্রেও পুলিশের বিশেষ শাখাগুলো দিনের পর দিন, এমনকি বছরের পর বছর সময় নিয়ে জনমনে সংশয় ও অনাস্থা সৃষ্টি করেছেন।

ফৌজদারি তদন্তে ব্যর্থতার অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে আদালতের নিষ্ক্রিয়তা খুবই লক্ষণীয়। এইসব মামলায় আসামিরা বিপুল অর্থশালী, ক্ষমতাধর-এই কারণেই কর্মকর্তারা বিশেষ উদ্দেশ্যে আইনের গতিকে থামিয়ে দিয়ে অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করেন বলে জনমনে বিদ্যমান সংশয় আরও বদ্ধমূল হচ্ছে দিনে দিনে। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি আইন আদালতের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতার যে আশংকা ব্যক্ত করেছেন, এইসব মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা প্রধান বিচারপতির আশঙ্কার বাস্তব উদাহরণ বলে মনে করেন আইন আদালত সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক মহল।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close