নিউজ

ফেসবুকে মহিউদ্দিন আহমেদের শেষ স্টেটাস(১৫মে,২০২২)

ফেসবুকে মহিউদ্দিন আহমেদের শেষ স্টেটাস(১৫মে,২০২২): ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ সম্পাদক নঈম নিজাম কি সম্পাদকদের এই সভায় উপস্থিত ছিল। নাকি, সে এখনও এই পরিষদ থেকে বহিস্কৃতই আছে? এই বান্দা বসুন্ধরা গ্রুপের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, জেনাকারী সায়েম সোবহান আনভীরের বন্দনায় ব্যস্তও থাকতে পারে !! সে কি মতিউর রহমান চৌধুরীর এই বক্তৃতা শুনেছে ?’


বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষত্যাগ করে ইতিহাস সৃষ্টিকারী কূটনীতিক মহিউদ্দিন আহমেদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবসময় একটিভ ছিলেন। বিশেষ করে শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির সময় তিনি তার বন্ধু তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিতকে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে দুহাতে লিখেছিলেন। গত এক দশকে তাঁর পছন্দের সরকারের চোখের দিকে না তাকিয়ে প্রত্যেকটি অনিয়ম, স্বেচ্ছাচার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি নির্ভীক ভাষায় প্রতিবাদ করে গেছেন। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর ওই প্রতিবাদের কারণে পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য সরকারের উর্দ্বতন পদে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। 

গত ১৫মে তাঁর জীবনের শেষ স্ট্যাটাসে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে সংবাদপত্র মালিকদের বৈঠকে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর ভিডিও বক্তব্য ফরওয়ার্ড করেন। মি. চৌধুরী বলছিলেন-  ‘আমি  এরশাদ আমলে জেল খেটেছি, খালেদা জিয়ার আমলে জেলে গেছি। এই আমলে ৮মাস দেশের বাইরে ছিলাম।.. আর এখন সাংবাদিক নিজেই রিপোর্ট লিখেনা, লিখলেও আগেই কিল করে ফেলে।.. আজকে শ্রীলংকায় গণমাধ্যম স্বাধীনতা ভোগ করছে, তারা স্বাধীন। “

১৫ মে’র পর থেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ভর্তি হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০ জুন মৃত্যুর চারদিন আগে চিকিৎসার সব সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসায় ফিরে যান। আদর্শগতভাবে তিনি ছিলেন শেখ মুজিবের রাজনীতি ও আদর্শের অনুসারী। গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবীদের চরম সুবিধাবাদী ও নিষ্ক্রিয়তার ধারার বিপক্ষে গত কয়েকবছর তিনি ছিলেন সরব। ভোটারবিহীন নির্বাচন, সকলক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কঠিন ভাষায় সমালোচনা করে গেছেন গত কয়েক বছর। নির্লোভ একজন কূটনীতিক, দেশ মাতৃকার স্বাধীনতায় ভূমিকা রাখা মহিউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের ক্রান্তিকালে জাতির বিবেকের ভূমিকা রেখে গেছেন। যা সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমের ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close