নিউজ

বন্যায় ভেসে যাচ্ছে বৃদ্ধ-শিশু- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে-১৯জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্কাই নিউজ

মৃত্যুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি- লন্ডনে হাই কমিশনার

সুরমা নিউজ।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যায় এপর্যন্ত ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে  খবর দিয়েছে স্কাই নিউজ। সুরমার সহযোগী সাংবাদিকদের সূত্রে জানা গেছে, সকল উপজেলা এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।  খাবার ও ঔষধের সংকট সর্বত্র। বন্যায় ভেসে যাচ্ছে বৃদ্ধ-শিশু ও নানা বয়সী মানুষ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

এদিকে রবিবার লন্ডনে এক সভায় বন্যা পরিস্থিতি অবহিত করে হাই কমিশনার সৈয়দা মুনা তাসনিম বলেন, সরকারের তরফ থেকে এপর্যন্ত বন্যায় মৃত্যুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিনদিন ধরে সিলেট ও সুনামগঞ্জের উপজেলাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল সংযোগ নেই । বন্যা উপদ্রুত এলাকা ঘুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী সোমবার লন্ডনে সুরমা বার্তাকক্ষকে জানিয়েছেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জে বেশিরভাগ এলাকায় গ্রামগুলো বিচ্ছিন্ন থাকায় একটি সঙ্গে আরেকটির কোন যোগাযোগ নেই।

সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মী হয়েও বিপদের মুখে নিপতিত পরিবারের পাশে দাঁড়ান

পুরো অঞ্চল পানির নিচে থাকায় মানুষের খাবার ঔষধের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী সোমবার নৌকাযোগে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ইরান গঞ্জ ও রানীগঞ্জের জগন্নাথপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য যান। সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি নিয়ে যান কিছু ত্রাণ সামগ্রী। একজন গণমাধ্যমকর্মী হয়েও বিপদের মুখে নিপতিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি জানান ১৫ হাজার টাকা দিয়ে নৌকা ভাড়া করে ওই এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ ও ত্রাণ বিতরণ করেন। কোন কোন এলাকার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন অনেকেই তিন দিন যাবত বিছানার উপরে আছেন। একদিন কোনো রকম রান্না করে ২/৩ দিন খেয়ে কোনোরকমে বেঁচে আছেন। আধপেটা অথবা কোনরকমে বেঁচে আছেন। বাড়িতে ধান পাট থাকায় বাড়ি ছেড়ে তারা দূরের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চান না। এদিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের খাবার কিংবা অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা কোথাও জানাতে পারছেন না। বিছানার উপর সাপ জোক উঠে পড়ার কারণে সেখানেও তারা নিরাপদ নয়।

এদিকে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুসারে তিনি বলছেন সুনামগঞ্জে ৬ জন সিলেটে ২ জন ও মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ২ জনের মৃত্যুর খবর বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জের একটি পরিবারের ৬ জন পানির তোড়ে ভেসে গেছে এরকম খবর জানা গেলেও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় দুই জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা গেছে। গাজিটেকা গ্রামে ৯ বছরের শিশু সুমাইয়া আক্তার নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার লাশ ভেসে ওঠে। এছাড়া আয়েশাবাদ চা বাগান এলাকায় অর্জুন বুরারজি নামে ৬৫ বছরের একজন বৃদ্ধ পাহাড় ধসে ঘরের ভেতর অবস্থানরত অবস্থায় মারা গেছেন।
বিকুল চক্রবর্তী বন্যা দুর্গত এলাকায় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, বয়স্ক অনেকে আশির দশকে এমন বন্যার মুখোমুখি হলেও তরুণ বয়সের লোকদের এরকম কোন অভিজ্ঞতা একেবারেই নেই। যার ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে তাদের কি করতে হবে তারা একটা হতবিহবল অবস্থার মধ্যে আছে।

বন্যার আরো খবর::

রবিবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিলেট সদরে তিনজন এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাও ইউনিয়নের সুজাতপুর গ্রামে- সদর উপজেলা এ কে আবুল কাশেম (২৪) ও তার দাদি ছুরেতুন নেছা (১০৫)।
বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নৌকা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আটকে পড়া বৃদ্ধ দাদি ও চাচাতো বোনদের উদ্ধার করতে যান তিনি।

সবাইকে নিয়ে শহরে ফেরার পথে সুজাতপুর আইডিয়াল স্কুল এলাকায় তীব্র স্রোতে তাদের নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় তার ছোট চাচাতো দুই বোন উল্টে যাওয়া নৌকা ধরে প্রাণে বাঁচলেও তাদের দাদি আবুল কাশেমকে আঁকড়ে বাঁচার চেষ্টা করেন। এতে দুজনই তলিয়ে যান।
একই ইউনিয়নের নলকট গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তীব্র স্রোতে আব্দুল হাদি (১৮) নামের এক তরুণ ভেসে গিয়েছিলেন। রবিবার তার বাড়ির পাশে মরদেহ ভেসে ওঠে।

নলকট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালিক মামুন লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ::

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার থেকে বানের পানিতে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী হানিফা বেগমের (৯) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী কাইতকোনা এলাকা থেকে তার মরেদহ উদ্ধার করা হয়। হানিফা শান্তিগঞ্জ উপজেলার বড়মোহা গ্রামের মৃত জিলু মিয়ার মেয়ে। মামা বাড়িতে বেড়াতে এসে বানের পানিতে ডুবে মারা যায় মেয়েটি।

মৃতের মামা ছফেদ আলী পীর জানান, ঘটনার দিন হানিফাসহ তারা নৌকায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। জাউয়া ডিগ্রি কলেজের কাছে তাদের নৌকাটি ডুবে যায়। বাকি আরোহীরা রক্ষা পেলেও হানিফা বানের পানিতে ভেসে যায়।ঘটনার দু’দিন পর রবিবার বিকেলে তার লাশ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে স্বজনরা লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

ছাতকে পানিতে ডুবে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- ছাতক পৌরসভার কানাখালি রোডের আখড়া এলাকায় পীযুস (৪০) ও ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের রাধানগর এলাকার জুনেদ (২৭)। জুনেদ গত শনিবার ছাতক থেকে বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। রবিবার তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close