নিউজ

বৃটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়াণ্ডা প্রেরণ: প্রথম ফ্লাইট বাতিল, আবার পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

।। সুরমা ডেস্ক ।।
লণ্ডন, ১৭ জুন – বৃটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়াণ্ডা ঠেলে পাঠানোর প্রচেষ্টার শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে ব্রিটিশ সরকার। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও ইউরোপীয় আদালতের হস্তেক্ষেপে মঙ্গলবারের প্রথম ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত উড়তে পারেনি। অন্তত ৭ আশ্রয়প্রার্থীকে নিয়ে ৫শ’ হাজার পাউণ্ড ব্যয়ের একটি চ্যাটার্ড ফ্লাইট উইলশায়ারের একটি মিলিটারি এয়ারপোর্ট থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উড়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও তা আটকে যায়। তবে প্রথম প্রচেষ্টা ভেস্তে গেলেও আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়াণ্ডা প্রেরণে সরকারের অবস্থান একটুও নড়েনি। পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য সরকার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে বুধবার বিবিসি একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে।
বিমানটি উড়ার নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) এক ইরাকি শরণার্থীকে বৃটেন থেকে রুয়াণ্ডা পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদন মঞ্জুর করে।
এরপর অন্য যাত্রীরাও তাদের রুয়াণ্ডা যাত্রা ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হলে ফ্লাইটটি বাতিল হয়ে যায়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়লেও যুক্তরাজ্য এখনও স্ট্রাসবুর্গের ওই ইউরোপীয় আদালতের সদস্য।
হোম সেক্রেটারি প্রীতি প্যাটেল আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়াণ্ডা ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ‘হতাশা’ ব্যক্ত করলেও বলেছেন, “পরবর্তী ফ্লাইটের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
ইউরোপ থেকে ছোট নৌকায় বিপজ্জনকভাবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা ঠেকাতে এপ্রিলে আশ্রয়প্রার্থীদের একাংশকে রুয়াণ্ডায় পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানায় বরিসের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন টোরি সরকার।
তাদের এমন পরিকল্পনায় উদারপন্থি ও বাম—ঘরানার বিরোধীরা স্তম্ভিত হয়ে যান। দাতা সংস্থা ও ধর্মীয় নেতারাও টোরিদের এ পরিকল্পনাকে ‘অমানবিক’ বলে অ্যাখ্যা দিয়ে আসছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রুয়াণ্ডাগামী প্রথম ফ্লাইটে যে আশ্রয়প্রার্থীদের নাম ছিল, তাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন তাদেরকে রুয়াণ্ডায় পাঠানো উচিত হবে না, যুক্তিসঙ্গতভাবে তা বোঝাতে সক্ষম হন। এর ফলে মঙ্গলবারের ফ্লাইটের যাত্রী সংখ্যা হাতেগোণা কয়েকজনে নেমে আসে।
ফ্লাইটটি উড়ার কিছুক্ষণ আগে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) হস্তক্ষেপ করে বসে। তাদের কাছে এক ইরাকি তাকে বৃটেন থেকে রুয়াণ্ডা পাঠানোর সিদ্ধান্তে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। মঙ্গলবার বৃটেন সময় সাড়ে ৭টার কিছু সময় পর ইউরোপীয় আদালত ওই ব্যীক্তর আবেদন মঞ্জুর করে।
তাদের আদেশে বলা হয়, বৃটেনের আদালতে এ বিষয়ে পর্যালোচনা শেষ হওয়ার আগে আবেদনকারীকে রুয়াণ্ডায় পাঠানো যাবে না।

ইসিএইচআরের ওই আদেশের পথ ধরে বাকি ৬ জনও লণ্ডনের আদালতে তাদেরকে রুয়াণ্ডায় পাঠানোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১০টার মধ্যে সব যাত্রীকে বিমানটি থেকে নামিয়ে আনা হয়। পরে আনুমানিক ৫শ’ হাজার পাউণ্ডে ভাড়া করা বোয়িং ৭৬৭ স্পেনে ফিরে যায়।
ব্রিটিশ সরকার বলছে, কিছু অভিবাসনপ্রত্যাশীকে রুয়াণ্ডা পাঠাতে পূর্ব আফ্রিকার দেশটির সঙ্গে ১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের যে চুক্তি হয়েছে তা ইংলিশ চ্যানেলের বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে বৃটেনে অবৈধভাবে প্রবেশের ে¯্রাত কমিয়ে আনবে এবং মানবপাচারের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বন্ধে সহায়ক হবে।
কিন্তু জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক প্রধান বৃটেনের এমন পরিকল্পনাকে ‘সর্বনাশা’ অভিহিত করেছেন। চার্চ অব ইংল্যাণ্ডের পুরো নেতৃত্ব এ প্রক্রিয়াকে ‘অনৈতিক ও লজ্জাজনক’ অ্যাখ্যা দিয়েছে। ব্যক্তিগত আলোচনায় ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকার যুবরাজ চার্লসও এ পরিকল্পনাকে ‘ভয়াবহ’ বলেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে এসেছে।
সরকারের এ সংক্রান্ত নীতি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা ‘বাম’ আইনজীবীদের ওপর চরম ক্ষ্যাপা প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, আইনি দরকষাকষি আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপদ পথ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এজন্য প্রয়োজনে আইন বদলে ফেলারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close