নিউজবাংলাদেশহোম

শীর্ষ মানবাধিকার  সংস্থা ‘অধিকার’-এর নিবন্ধন বাতিল

'বিচারাধীন বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ''এর অভিযোগ

সুরমা প্রতিবেদন। লন্ডন, ৬ জুন। বাংলাদেশের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর নিবন্ধন বাতিল করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিও বিষয়ক ব্যুরো রবিবার ব্যুরোর এক আদেশে সংস্থাটির নিবন্ধন নবায়নের আবেদন বাতিল করে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

হাইকোর্টে অধিকারের পক্ষ  থেকে দায়েরকৃত একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছে। গত ২৬ জুন মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ও আগামী সপ্তাহে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হতে পারে। গত ২৬ জুন মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ও আগামী সপ্তাহে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হতে পারে। বাংলাদেশের হাইকোর্টে নিষ্পত্তির আগেই সরকারের এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টিকে ‘বিচারাধীন বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ”এর অভিযোগ বলে মন্তব্য করেছেন হংকং ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এশিয়ান  হিউমান রাইটস কমিশনের কর্মকর্তা এম আশরাফুজ্জামান।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে এলিট ফোর্স রেপিড একশন বেটালিয়ন (রেব)’এর উপর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারী বিভাগের নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মহলের কঠোর অবস্থানের জন্য নিয়ে হাসিনা সরকার বরাবর “অধিকার”এর রিপোর্টগুলোকে দায়ী করে আসছিলো। সংস্থাটির নিবন্ধন নবায়ন না করে ৭ বছর ঝুলিয়ে রাখা ও সবশেষে বাতিলের ক্ষেত্রেও  এই কারণগুলোই উল্লেখ করা হয়েছে। এশিয়ান  হিউমান রাইটস কমিশনের কর্মকর্তা এম আশরাফুজ্জামান বলেন, সংস্থাটি বাংলাদেশের এসংক্রান্ত ১৯৭৮ সালের আইনে রেজিস্টার্ড ছিলো, কিন্তু ২০১৬ সালের আইনে তাদের আবেদন বিবেচনা প্রমান করে বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্ত যতটা না আইনগত, তারচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনে তাদের অব্যাহত অপচর্চার প্রতিফলন। তাছাড়া উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আদালতকে পাশ কাটিয়ে এই বাতিল আদেশ প্রমান করে বাংলাদেশের সরকার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে তার অঙ্গীকার থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে বিপন্ন মানবাধিকার প্রশ্নে বিশ্বকে একটা চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান ‘অধিকার’ গত তিন দশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে “অধিকার”এর তথ্য নির্ভরতার সঙ্গে গ্রহণ ও প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রতি বছর যে মানবাধিকার রিপোর্ট প্রকাশ করে, তাতে গত দুই দশকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অধিকারের তথ্য ও রিপোর্টসমূহ রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ করেছে। যদিও সরকার বরাবরই এসব রিপোর্ট অস্বীকার করেছে, কখনো কখনো দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবেও উল্লেখ করেছে। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার পর  “অধিকারের” রিপোর্টের জের ধরে সেখানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আসে, যা বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার লঙ্ঘনে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করে. অধিকার’এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও প্রধান নির্বাহী মি. এলানকে গ্রেফতার করে. তাঁরা যথাক্রমে ৬২ দিন ও ২৫ দিন কারারুদ্ধ ছিলেন। সম্ভবতঃ মি. শুভ্র ও মি. এলান বাংলাদেশে গত ৫০ বছরে মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁদের  ভূমিকার জন্য প্রথম ও একমাত্র নিবর্তনের শিকার হয়েছেন।   

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের (২০১৩) রিপোর্টের জের ধরে “অধিকারের” সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র গ্রেফতার হয়ে ৬২ দিন কারারুদ্ধ ছিলেন।

সংগঠনটির নিবন্ধন ২০১৫ সালের মার্চে শেষ হয়। তারা ১০ বছর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য এনজিও ব্যুরোর কাছে আবেদন করেছিল। তবে রোববার তাদের এ আবেদন নামঞ্জুর করে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয় তাদের নিবন্ধন। এনজিও ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে কথিত গুম-খুনসহ বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে অধিকার তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে যে তথ্য উপস্থাপন করেছে, তাতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিদারুণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এনজিও ব্যুরো ব্যক্তির নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা চায়। তবে মামলার কারণ দেখিয়ে সংস্থাটি কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। এনজিও ব্যুরোর জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজে নিয়োজিত হওয়াসহ বেশ কয়েকটি কারণে ‘অধিকার’-এর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সেই কারণগুলো হচ্ছে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য এবং নতুন আইন অনুযায়ী আরোপিত বর্ধিত ফি ও ভ্যাট না দেওয়া, বৈদেশিক অনুদানে বাস্তবায়িত প্রকল্পের আটটি আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনের (অডিট রিপোর্ট) ওপর আপত্তির কোনো জবাব বা ব্যাখ্যা না দেওয়া, অধিকার ডট ওআরজি (odhikar.org) নামের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ইস্যু তৈরি এবং তিনটি প্রকল্পে আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতি বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বিষয়ে যথাযথ জবাব না দেওয়া।  এনজিও ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে কথিত গুম-খুনসহ বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে অধিকার তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে যে তথ্য উপস্থাপন করেছে, তাতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিদারুণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এনজিও ব্যুরো ব্যক্তির নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা চায়। তবে মামলার কারণ দেখিয়ে সংস্থাটি কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি।

ট্যাগ

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close