সম্পাদকীয়

অন্ধ হলেই কি প্রলয় বন্ধ থাকে?

এ সংখ্যার সম্পাদকী ।। ইস্যু ২২৫১

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খবরের কাগজ না পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।  তিনি বলেছেন, খবরের কাগজে যা লিখে তা মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য লেখে। কোন কোন কাগজ একদিন যদি ভালো খবর লেখে সপ্তাহের বাকি কয়দিন নানা রকমের বিভ্রান্তিকর খবর ছাপে।  সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক তিনি আরও বলেছেন, তিনি এইসব মিডিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে তিনি চেনেন। তাদের প্রতি মোটামুটি অনাস্থা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের কাছ থেকে জাতির নতুন করে পাওয়ার কিছু নেই।

আসলে এই কথাগুলোর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কি বোঝাতে চেয়েছেন? দেশের প্রকৃত অবস্থা কি? মেগা প্রজেক্ট-মেগা দুর্নীতি, লক্ষ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা পাচার, বিপুল মুদ্রাস্ফীতি আর দেউলিয়া প্রায় অর্থনীতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যে বেশিরভাগ মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। এই সব পরিস্থিতির উপর খবরের কাগজগুলো প্রতিদিন নানা রকম খবর প্রকাশ করে। তাও অনেক রেখে ঢেকে। মিডিয়া আরেকটা আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে। শ্রীলংকার পরিস্থিতি এমনই ছিলো। এই কমন পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের কোন কোন গণমাধ্যম সরকারকে সতর্ক করছে যে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার পথে হয়তো যাচ্ছে! এখনই সতর্ক এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। আর গত কয়েকবছর গণমাধ্যম মানবাধিকার লংঘন ইত্যাদির উপর প্রকাশ করত। খবর গুলো যে সঠিক ছিল তার সর্বশেষ প্রমাণ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সকল মানবাধিকার রিপোর্টে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্থান। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রিপোর্ট ১৯০টি টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬২। যেখানে আফগানিস্তানের অবস্থান বাংলাদেশের উপরে। এরকম অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সচিব আর কর্মকর্তাদের খবরের কাগজ না পড়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন। যেটি প্রকারান্তরে তিনি তার দলীয় নেতা-কর্মী সমর্থক এবং জনগণকেও একই পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রশ্ন হচ্ছে- অন্ধ হলে কি প্রলয়  বন্ধ থাকে? চরম গণঅসন্তোষের মুখে দেয়ালের কথা না পড়ে, গণমাধ্যম অথবা সংবাদপত্র না পড়ে অথবা দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজের কথা না শুনে আপনি চালিয়ে যেতে পারেন। তবে প্রলয় বন্ধ থাকবে না। অন্ধত্বের পরিনাম সবসময়ই নির্মম হয়ে থাকে। ইতিহাস থেকে স্বৈরশাসকদের পরিণতির অধ্যায়গুলো পাঠ করলে আপনি তার শত শত উদাহরণ পাবেন।  
সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যম এই কথাগুলোই একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলছে। আর তুলে ধরছে প্রতিদিনের বাস্তব চিত্র। আপনার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। সময় থাকতে সাধু সাবধান।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close