সম্পাদকীয়

বৈশাখী উৎসব ও সরকারের “খেলারাম খেলে যা” নীতি

এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় ।। ইস্যু ২২৪৭

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে আশির দশকে প্রতিবাদ ও সংগ্রামের এক বিমূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল বৈশাখী উৎসব। জনগণ উৎসবের মাধ্যমে প্রতিবাদ করতে পারে সেটাই দেখানো হতো পহেলা বৈশাখ কিংবা স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানমালা গুলোর মধ্য দিয়ে।এসব অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। আর ঢাকার বাইরে কদাচিৎ কিছু কিছু জায়গায় এসব উতসব আনুষ্ঠানিকতা হতো। তবে সেটি জাতীয় পর্যায়ের মত ছিল না। আর বর্তমান সময়ে বৈশাখী উৎসবকে অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। আর দুই বছর বাদে গত দশকের প্রথম থেকেই বৈশাখী উৎসব এর উপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি সরকারের এক ঢিলে কয়েক পাখি মারার অপচেষ্টা বলেই প্রতীয়মান হয়। আবারো তরুণ প্রজন্ম ফুঁসে উঠেছে স্বৈরাচার কিংবা তার চেয়েও নিকৃষ্ট ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। সুতরাং বৈশাখ এবং নানা উৎসবগুলোতে তরুণ প্রজন্ম এবং আপামর জনগণের প্রতিবাদ বিক্ষোভ যাতে ঘনীভূত হতে না পারে, সেজন্য উৎসবগুলোকে সীমিত রাখা হচ্ছে। তাও আবার কয়েক ঘন্টা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কড়া নজরদারির আওতায়। গণঅসন্তোষ সামাল দেওয়ার পুরনো কৌশল। অন্যদিকে তথাকথিত গোয়েন্দাদের দিয়ে বলানো হচ্ছে, মৌলবাদী হামলার আশঙ্কার কথা। যদিও গত দুই দশকে রাজধানীতে কোন উৎসবে কোন ধরনের হামলা নাশকতার ঘটনা ঘটেনি।চৌদ্দ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার পরও মৌলবাদী হামলা জঙ্গি আশঙ্কা ইত্যাদি’ প্রচার করে সরকার আর  বসংবদ প্রচার মাধ্যম পশ্চিমাদের এই বার্তা দিতে চায় যে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় না থাকলে বাংলাদেশ আফগানিস্তান হয়ে যাবে। সরকারের এই নগ্ন এবং সস্তা  কৌশলকে বহুল আলোচিত-আলোচিত উপন্যাসের শিরোনাম “খেলারাম খেলে যা”র সঙ্গে তুলনীয়। জনগণের উৎসব, কথা বলার অধিকার আর জনগণ কতৃক রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণের সকল শক্তিকে হাতের মুঠোয় নিয়ে কতদিন খেলে যাওয়া যায় জানিনা, তবে খেলারামের পরিণতি শেষপর্যন্ত সবারই জানা। খেলারামদের উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমের হয়তো একটি কথাই বলা থাকতে পারে, সেটি হচ্ছে- যতক্ষণ ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে পারেন, ততক্ষণ খেলে যান। পরিণতির কথা ভাবার সময় পেলে ভাবতে পারেন, ভাবুন এবং আরো ভালো করে ভাবুন-সময় থাকতে সাধু সাবধান।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close