সম্পাদকীয়

মৃত্যুকূপে নৃশংসতা ও প্রেসক্লাব সদস্যদের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় ।। ইস‍্যু ২২৪০

পাঁচ ভাইয়ের পর দু সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে  ছয় নম্বর ভাই রক্তিম শীলও ২২ফেব্রুয়ারী চলে গেল। সদ্য প্রয়াত বাবা সুরেশ চন্দ্রের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মালুমঘাট এলাকায় পিকআপ ভ্যানচাপায় পাঁচ ভাই অনুপম সুশীল (৪৬), নিরুপম সুশীল (৪০), দীপক সুশীল (৩৫), চম্পক সুশীল (৩০) ও স্মরণ সুশীল (২৯) নিহত হন।  স্থানীয় একটি মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে একসঙ্গে ৯ ভাই-বোন (৭ ভাই ও ২ বোন) হেঁটে বাড়িতে আসার জন্য সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। 
এ ঘটনায় অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান সুরেশ চন্দ্র সুশীলের মেয়ে মুন্নী সুশীল। নিহতদের বোন হীরা শীল মালুমঘাট খ্রিষ্টান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে। 
দুই বছর আগে তাদের এক ভাই মারা যায়। বাকি সাত ভাই ওই ভাইয়ের পরিবারের দায়িত্ব নেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলেও কি মহানুভব এই পরিবার ও তার সদস্যরা। বাবার মৃত্যুর পরপরই একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা এই মানবিক পরিবারটিকে তছনছ করে দিয়েছে। এখন এই পরিবারের মা,  ছেলেদের রেখে যাওয়া অসহায় স্ত্রী ও সন্তানদের কে দেখবে? কিভাবে চলবে তাদের জীবন? পা কেটে ফেলা বোনটিরই বা কি হবে?
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতি ধন্যবাদ।অন্ততঃ এই সংগঠনের সদস্যরা এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তিনশ’ কুড়িজন সদস্যের মধ্যে ৩৫ জন এগিয়ে এসেছেন। সংখ্যা কিংবা পরিমাণের চেয়ে এ উদ্যোগের আবেদন ও সর্বজনীনতা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। ক্লাবের সিনিয়র সদস্য উদয় শংকর দাস ও ইস্ট হ্যান্ডস নামে একটি চ্যারিটি সংস্থা (যার প্রতিষ্ঠাতা নবাব উদ্দীন নিজেও প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি) এই মহতী কাজের উদ্যোগ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশে ও বিদেশে বাঙ্গালীদের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান। দেশে অসংখ্য শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবং ধর্মীয়- সামাজিক -সংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। কোন শিল্প গ্রুপ অথবা ধর্মীয় সংগঠন কিংবা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা রাজনীতিককে এখন পর্যন্ত দেখা গেল না পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে। 
মানবতার চরম সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সর্বত্র নীচুমন ও মানের রাজনীতি। স্বার্থ- হানাহানি- দুর্নীতি আর অনাচার। নানাভাবে  বিপর্যয়ের শিকার মানুষগুলো কোথায় যাবে? কোথায় ধর্ম, কোথায় সংস্কৃতি আর কোথায় মানবতা?
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সদস্যরা তাঁদের পেশাগত দায়িত্বের বাইরে মানবিক কাজের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অনুসরণ করে সকলেই বিপর্যস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারেন। এখান থেকেই শুরু হোক মানবতার  জয়গান। 

সম্পরকিত প্রবন্ধ

এছাড়াও চেক করুন
Close
Back to top button
Close
Close