নিউজ

শেখ হাসিনার মিথ‍্যাচারের রেকর্ড

১৩ বছরে অন্তত পাঁচ হাজারের রেকর্ড

**  শেষ রেকর্ড-৬০+পেনশন ও এক কোটি লোককে খাদ্যে ভর্তুকি
** ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অতিক্রমের সম্ভাবনা
** সুরমার দেওয়া বিশেষণ “বিশ্বমিথ্যুক”র যথার্থতা

।। বিশেষ প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ২৫ ফেব্রুয়ারি : ক্ষমতাসীন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের মিথ্যাচারের রেকর্ড প্রথম প্রকাশ করে সম্ভবত ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমস। যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সাবেক প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদিনের মিথ্যাচারের উপর এই দুটো পত্রিকা নিয়মিত রিপোর্ট প্রকাশ করতো ২৪ জনুয়ারি ২০২০ তারা ওই রিপোর্ট প্রকাশ বন্ধ করে। ওই দিন পর্যন্ত চার বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩০ হাজার ৫৭৩টি মিথ্যা বলেছেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অথবা মিথ্যা অঙ্গীকার করেছেন। পত্রিকার হিসেব মতে দিনে গড়ে তিনি ২০-২৯টি মিথ্যাচার করেছে। মিথ্যাচার ও ভুয়া অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত ও সমালোচিত। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সেই সুযোগ নেই বলে প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যাচারের বিস্তারিত তথ্য এবং এর জনপ্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি । যার ফলে আমরা নিশ্চিত নই আসলে তিনি সর্বমোট কত মিথ্যা কথা বলেছেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অথবা মিথ্যা অঙ্গীকার করেছেন । তবে আপাতত গড়ে প্রতিদিন যদি একটি করে মিথ্যাচারের কথাও ধরা হয়, তাহলে তোমার মিথ্যাচারের রেকর্ড হবে অন্তত ৪ হাজার ৭৯১টি।

“সোনার বাংলা শ্মশান কেন” আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রকাশিত সেই ঐতিহাসিক পোস্টার। বর্তমানে এই ধরনের পোস্টার ছাপিয়ে প্রতিবাদের সুযোগ কি আছে?

সবচেয়ে বেশি ভিত্তিহীন যেই দাবি তিনি করে থাকেন সেটি হচ্ছে জনগণের ভোটে বারবার নির্বাচিত হওয়া  এবং জনগণের উপর তার আস্থা।  ২০১৪ সালে ১৫৪ আসনে ভোট ছাড়া ক্ষমতায় থেকে তিনি অষ্টম বছর অতিক্রম করেছেন অনির্বাচিত সরকার হিসেবে। এটা তিনি নিশ্চিত ভাবে জানেন এবং এ কারণেই তিনি আর অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠানের মুখোমুখি হতে চান না সুতরাং জনগণের উপর আস্থা দাবি একশভাগ ভিত্তিহীন। কিন্তু প্রতিটি ভাষণে কয়েকবার এই দাবিগুলো মিথ্যা দাবি গুলো তিনি উচ্চারণ করে থাকেন।১০ টাকার চাল, বিনামূল্যে সার, রেডিও-টিভির স্বায়ত্তশাসন, নির্দলীয় ভাবে প্রশাসন পরিচালনা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, মদিনা সনদ দিয়ে দেশ পরিচালনা ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। শত শত শত উদাহরণ পাবলিক ডোমেইনে ছড়িয়ে-ছটিয়ে আছে আর কিছু কিছু অংশ আছে সংবাদপত্রের পাতায় আর টেলিভিশনের আর্কাইভে। তাঁর এমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যাবে না যেখানে তিনি এক বা একাধিক ভিত্তিহীন দাবি, অসত্য কৃতিত্ব দাবি করেননি বরং অসত্য এবং অপ্রিয় বিষয়গুলো তিনি এক বক্তৃতায় একাধিকবার এমনকি আট থেকে দশ বার পর্যন্ত উচ্চারণ করতেই যেন বেশি পছন্দ করেন।

সরকারের মন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কিছুর সঙ্গে বাংলাদেশের এখন তুলনা করে থাকেন। মিথ্যাচারের দিক থেকেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুলনাযোগ্য রেকর্ড গড়েছেন।  ট্রাম্প মাত্র চার বছরের বিশ্বরেকর্ড করেছেন। ট্রাম্পের অনুসারী হিসেবে আর কয়েক বছর ক্ষমতায় থাকলে সেই রেকর্ড ভাঙ্গার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান। সমালোচকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে কোন গণমাধ্যম কখনো তার মিথ্যা অঙ্গীকার , মিথ্যা প্রতিশ্রুতি অথবা মিথ্যাচার সম্পর্কে সতর্ক করেনি অথবা ন্যূনতম সমালোচনা করেননি । তবে সাপ্তাহিক সুরমা গণতন্ত্রের মানস কন্যা দাবিদার শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা ও সমালোচনার অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে গতবছর “বিশ্বমিথ্যুক” এই বিশেষণটি দিয়েছিল। আশা করা হয়েছিল গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে তিনি এই জনগণের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি অনুসারে তিনি আর অসত্য অথবা অর্ধসত্য বক্তব্য দেবেন না।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মিথ্যাচারের এ রেকর্ড বেনজির(দয়া করে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আস্থাভাজন ও পুলিশ প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত ড. বেনজির পড়বেন না)। নজির না থাকাকে বে-নজির বলা হয়ে থাকে। বাংলা ভাষায় ‘বে’হায়া , ‘বে’নজির ইত্যাদি শব্দের আগে ‘বে’ ব্যবহৃত হয় ‘কু’ অর্থে। প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যাচারের এ রেকর্ড যেহেতু বেনজির, সেই বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী হাসিনার নতুন নামকরণ হতে পারে ‘বে’-হাসিনা।

ওয়াশিংটন পোস্ট অনেক টাইমস প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে প্রায় ৩১ হাজার বার মিথ্যাচার করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সর্বশেষ দুটি নির্দেশনাকে অনেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসঙ্গতিপূর্ণ, ভিত্তিহীন অঙ্গীকার এবং সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন বা প্রদর্শনের কূটকৌশল বলে মনে করছেন। প্রথমত ষাটোর্ধ্ব প্রতিটি নাগরিকের গণপেনশন প্রদানের ঘোষণা। দেশে জন্ম নিবন্ধনের কোন সঠিক ডাটাবেজ নেই। বেশিরভাগ মানুষের জন্ম তারিখ ১জানুয়ারি অথবা ১ বৈশাখ। ৫৫ বছর বয়সী “বীর মুক্তিযোদ্ধা”র ছড়াছড়ি অনেক ক্ষেত্রে পেশাগত বৈষম্য, প্রশাসনিক ও সামাজিক নৈরাজ্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।আবার অন্যদিকে জনসংখ্যার পরিসংখ্যানের (জনমিতিক তথ্য) যাচ্ছেতাই অবস্থা। নিউইয়র্কে টাইমস টাইমস স্কোয়ারে আর লন্ডনের লেস্টার স্কোয়ারে প্রতিদিন এই দেশগুলোর জনসংখ্যার প্রকৃত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয় । বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কখনো জনসংখ্যা বাড়িয়ে কখনো সমালোচনার মুখে এক কোটি পর্যন্ত কমিয়ে প্রকাশ করে। তাহলে ষাটোর্ধ্ব যে গনপেনশন, সেটা কোন্ ভিত্তিতে? এটাকে দলীয় স্বার্থের আলোকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকার মতো দলের  বেশির ভাগ কর্মীকে গণপেনশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা হিসেবে দেখছেন অনেকে। তাছাড়া এই উদ্যোগ চিরস্থায়ী পারিবারিক শাসন বা ডাইনেস্টি কায়েমের স্বপ্নের অংশ কিনা, সেই প্রশ্ন সমালোচকরা করবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ ইরাক সিরিয়া লিবিয়া মিশর অথবা উত্তর কোরিয়াতে জনসংখ্যার একটা ক্ষুদ্র অংশকে নিয়ে দশকের পর দশক দু:শাসন কায়েমের ইতিহাস নিকট অতীতে বিদ্যমান।

প্রধানমন্ত্রীকে উপরের এই প্রশ্নগুলো করার সুযোগ বাংলাদেশ এখন নেই। সুযোগ থাকলে হয়তো দেশের গণমাধ্যমে প্রশ্ন করতেন প্রধানমন্ত্রীকে যে আপনি ১৩ বছরে দেশকে একটা পুলিশি রাষ্ট্রে (অন্য কথায় বলতে গেলে মাফিয়ার রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন)। কিন্তু কথা বলছেন সব ফেরেশতার মতো। এটা তো আপনি জানেন, কিন্তু কেন এই সত্যকে পাশ কাটিয়ে চলছেন? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বলে কিছু অবশিষ্ট নেই । দ্রব্যমূল্য মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু কেন? এ কথা বলে তো আপনি ক্ষমতায় আসেন নি? আপনি মানুষের প্রশ্ন করার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। সমালোচনার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। দ্বিতীয়তঃ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে লোকেরা তাদের পেনশনের টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে কিনা সেটা উদ্বেগের বিষয়! এমনকি এই পেনশন রাস্তাঘাটে অনেক নিরীহ মানুষের প্রাণহানির কারণও হতে পারে। 
এক কোটি মানুষকে রোজার মাসে ৬টি পণ্য ভর্তুকি মূল্যে দেয়ার উদ্যোগ প্রশংসিত হতে পারতো। কিন্তু এক কোটি কেন? এটা ১৮কোটি কেন নয়? গত দেড় দশকে কয়েকশ’ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। গনমাধ্যমের গবেষণাধর্মী রিপোর্ট অনুসারে এটা এখন নিশ্চিত যে, ৫০ হাজার টাকায় পরিবার চলছেনা। জিনিসপত্রের দাম গত ১২/১৩ বছরে বেড়েছে অন্তত পাঁচ থেকে দশ গুণ। ৫০হাজার বা তদূর্ধ্ব বেতনভোগী সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এক শতাংশের অনেক কম। তাহলে বাকি ৯৯ ভাগ মানুষের কি অবস্থা? তারা সকলেই অর্থাৎ ৯৯.৯৯ শতাংশ মানুষই ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার অধিকার রাখে । আপনি ৯০% মানুষ কে বঞ্চিত করে এক কোটি লোককে কেন বিশেষ সুবিধা দিতে চান? করোনা সহায়তার তালিকা অনুসারে খাদ্য ভর্তুকি দেয়ার কথাও ঘোষণায় বলা হয়েছে তাহলে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে গেল। আর পেনশন গণ পেনশন কাদের দেবেন সেটাও চোখ বন্ধ করেই যে কেউ বোঝার কথা।

এক দশকের বেশি সময়ের বিপুল মুদ্রাস্ফীতি আর উপরোক্ত দুই কর্মসূচি অর্থনীতির ওপর সরাসরি খারাপ প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে সেটা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাতে যদিও আপনার কিছু যায় আসে না। দলীয় লোকদের রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বেহিসাবি বিপুল অর্থায়ন, ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি তো বিনা পয়সায় করা যাবে না। তার জন্য প্রধানমন্ত্রী আপনাকে বিপুল অর্থ ছাপাতে হবে। যেটা আপনি গত কয়েক বছরেও করেছেন। যার প্রতিক্রিয়া একটি সহজ উদাহরণে স্পষ্ট হয়ে যায়। ধরা যাক বাজারে এক লাখ কলম আছে । আর টাকা আছে এক লক্ষ।  তাহলে প্রতি কলমের দাম পড়বে এক টাকা। আর যদি এক লক্ষ কলম এর বিপরীতে আপনি এক কোটি টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়েন তাহলে ওই কলম এর প্রতিটির দাম হবে একশ’ টাকা। এখন জনগণের আয় যতটুকুই বাড়ুক না কেন তাকে একশ’ টাকা দ দিয়েই এক টাকার কলমটা কিনতে হবে। এখানে কলম হচ্ছে দেশের মোট উৎপাদন বা সম্পদ। প্রধানমন্ত্রী আপনি গত বছরে বাজারে মুদ্রা প্রবাহ বাড়িয়েছেন কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গুণ। আপনার দাবিকৃত প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৮ শতাংশ সঠিক  ধরা হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ গত ১৩ বছরে কিন্তু দ্বিগুণ হয় নি. সেই কারণেই দুই টাকার জিনিস বাজার থেকে সর্বোচ্চ তিন অথবা সর্বোচ্চ ৪ টাকায় কেনার কথা থাকলেও কিন্তু হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। কোন কোন ক্ষেত্রে ২৫/৩০ টাকায়। ১২-১৪ টাকার মোটা চাল  ২০-২৫ টাকা দিয়ে কেনার কথা,  সেখানে কিনতে হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। চালের দাম ১০টাকা রাখার অঙ্গীকার করেছিলেন এখন সেটি ৫০-৬০, কখনো কখনো ৬৫/৭০টাকা। কথা আপনার নিজের দেওয়া কথা রক্ষার জন্য ঢাকায় দুই একটা গাড়ি দিয়ে 10 টাকায় চাল বিক্রি শুরু করেছিলেন সেই কর্মসূচি সারাদেশে কেন করতে পারলেন না কেন কথা দিয়ে কথা রাখতে পারেন না এবং তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করার প্রয়োজন মনে করেন না, প্রধানমন্ত্রী?  আপনি কি বুঝতে পারছেন না, আপনি বাজারে মুদ্রা প্রবাহ বেসামাল পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। আর মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রা ও নিম্নবিত্তের দৈনন্দিন জীবনে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে সম্পদ উৎপাদন ও বেহিসেবি মুদ্রা প্রবাহের প্রেক্ষিতে ইতালির একটি উদাহরণ স্মরণ করা যেতে পারে। মুসোলিনির পতনের পর এমনিভাবে টাকা হয়ে গিয়েছিল কাগজের মতো। মানুষ সেই কাগজ উড়িয়ে উৎসব পালন করেছিলো। কারণ তার কোন মূল্য ছিল না। ফ্যাসিবাদী মুসোলিনির পতনের পর নতুন সরকার নতুন অর্থ ছাপিয়ে শাসন শুরু করে।  তেমনি ভাবে আপনি বাংলাদেশী মুদ্রা ৩০/৩৫ বছরের রক্ষণশীল মুদ্রানীতিকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন হিসেবের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। সর্বত্র গুজামিল। তথ্য পাওয়া যায় না বাজারে পরিস্থিতির। কোনো সঠিক পরিসংখ্যান কেউ দিতে পারে না। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাবেক প্রধান নিজেই বলেছেন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে তারা বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেন। সুতরাং বাজার বিশ্লেষক অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন এভাবে চলতে থাকলে ২০২২ শেষ হওয়ার আগেই ১০০ টাকায় কেজি চাল আর ২০০/৩০০ টাকায় তেল কিনতে হবে। ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ভেনিজুয়েলার মতই সরকারগুলোর দূঃশাসন, সীমাহীন প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলার কারণে অর্থনীতি ধসে পড়ে কিন্তু সরকারগুলো টিকে থাকে আর সরকারের হর্তাকর্তারা ইউরোপ আমেরিকাতে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যা। দেশের মানুষ দরিদ্র থেকে চরম দরিদ্র এবং সেখান থেকে দুর্ভিক্ষে নিপতিত হয়।  আপনি কি বাংলাদেশকে তাই বানাতে চান? রপ্তানি নীতি বিপরীতে বাংলাদেশি অর্থের বিনিময় মূল্য আর বেশিদিন কৃত্রিমভাবে ধরে রাখা সম্ভব হবে না। কারণ আইএমএফের যে কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে মনিটরিং করতো, অনেক আগে থেকেই তারা নানা রিপোর্ট দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে এখন আর তারা সেই মনিটরিং করছে না। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের মতো যেদিন তারা অর্থনীতি নিয়ে রেড এলার্ট জারি করবে, সেদিন আপনি আপনার তোষামোদকারী চোরাই অর্থনীতিবিদ আর মাফিয়া ব্যবসায়ীদের দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের মানুষ হিসেবে সাপ্তাহিক সুরমা আপনাকে সময় থাকতেই কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দিতে চায়। যাতে আপনার হাতেই সুশাসন কায়েম হতে পারে। দুঃশাসনের অতল গহবরে আপনি যাতে হারিয়ে না যান।

রাজনীতিতে ভুয়া প্রতিশ্রুতিকে অনেকে ধাপ্পাবাজি বলে থাকে। প্রধানমন্ত্রী আপনার সর্বশেষ দুটি প্রতিশ্রুতি সেরকম ধাপ্পাবাজি কিনা সেটা আপনাকে স্পষ্ট করতে হবে। কারণ, আপনি ষাটোর্ধ্বদের গনপেনশন আর এক কোটি মানুষকে ভর্তুকি দিয়ে দলকে আগামী নির্বাচনে যেনতেন প্রকারে পাস করিয়ে নিতে চান। প্রশাসন পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা আপনার অনুগত বলে অন্যান্য পরিস্থিতি নিয়ে আপনার কোনো উদ্বেগ নেই। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবেছেন, মোটা অংকের বিদেশী ঋণে পদ্মা সেতুর করছেন। কিন্তু সড়ক নৌপথ হয়ে আছে মৃত্যুকূপ। সড়কে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন মারা যাচ্ছে অঘোরে। সেতু হওয়ার আগেই ব্রীজে ফাটল ধরেছে। রেললাইনের অবস্থা আরো খারাপ । ৬০ থেকে ৭০ ভাগ রেল ইঞ্জিন বিকল হয়ে আছে। রেললাইনের ব্রীজগুলো ব্রিটিশ আমলের পরে আর সংস্কার হয়নি । নৌপথে শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। আপনি মানুষকে খাবার দেওয়ার কথা বলছেন, নিরাপত্তার কথা বলছেন। অথচ সড়কে নৌপথে আর রেলপথে নিরাপত্তা কে দেবে ? সেখানে আগে নিরাপত্তা দিন। কারণ আপনি ছাড়া পুরো জাতি প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে চলাচল করে।

শাসন শোষণের ক্ষেত্রে একটা পোস্টার এখনো আমাদের ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।” সোনার বাংলা শ্মশান কেন “(তৎকালীন আওয়ামী লীগেরই প্রকাশিত পোস্টার)। কাগজ চালডাল ইত্যাদি ক্ষেত্রে বৈষম্যের তথ্য সম্বলিত পোস্টার পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বাঙ্গালীদের অসন্তোষকে তুলে ধরেছিল। কিন্তু সে সময় সে প্রতিবাদের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে গুম-খুন কিংবা মামলা দিয়ে দেশ ছাড়া করার কোন উদাহরন ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। আর গত ১৫ বছরে দ্রব্যমূল্য জীবনযাত্রা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তুলনা করে আবারো যদি “সোনার বাংলা শ্মশান কেন ” পোস্টার ছাপিয়ে মানুষ আপনার দুঃশাসনের, বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তার পরিণাম কি হতে পারে? সেটা তো এখন যে কেউ এক বাক্যে বলে দিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আপনি তো সব দণ্ডমুণ্ডের কর্তা তাহলে প্রতিবাদ করলে পোস্টার ছাপালে আর মিছিল সমাবেশ করলে গুম হয়ে যেতে হবে কেন? মামলা খেতে হবে, দেশ ছাড়তে হবে এটা কেমন কথা ? আপনার এই শাসন কি আইয়ুব ইয়াহিয়ার চেয়েও ভয়াবহ নয়?

https://issuu.com/home/published/sur001_0f94ff62863986

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close