নিউজ

৫০-এ বাংলাদেশ

বিলেতে বর্ণাঢ্য উদযাপন

।। কাইয়ূম আবদুল্লাহ ।।
লণ্ডন, ১৮ ডিসেম্বর : ৫০ পূর্ণ হলো বাংলাদেশের। একটি স্বতন্ত্র, স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশে জাতিকে করতে হয়েছে অনেক আত্মত্যাগ। পাকিস্তানী দুঃশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম আর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্যদিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনকারী বাংলাদেশ এবছর (২০২১) পূর্ণ করলো স্বাধীনতার ৫০ বছর বা সুবর্ণ জয়ন্তী। স্বাধীনতা পরবর্তী বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের যে পরিচিতি আর ভাবমূর্তি ছিল সেটি পাল্টেছে বহুভাবে। স্বাধীনতার ৫ দশক তথা ৫০ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ইমেজ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। আবার রাজনীতি ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বে নেতিবাচক ভাবমূর্তী এখনো বিদ্যমান। বিশ্লেষকদের মতে, গত ৫ দশকে যেসব অর্জন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করেছে তার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত দেশের প্রতিনিধি হিসেবে নেতৃত্ব দেয়া, তৈরী পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উঠে আসা, শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যাপক অংশগ্রহণ ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করেছে।

সুরমার বিশেষ আয়োজন

অন্যদিকে ভারতের সহায়তায় স্বাধীনতা অর্জনের পরও সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে এ অঞ্চলে ভূ-রাজনীতিতে একটা নিজস্ব ভাবমূর্তি তৈরী করেছে বাংলাদেশ।
তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট হলো গণতন্ত্রের প্রশ্নে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাটা গত এক দশকে ক্রমাগতভাবে পেছন দিকেই গেছে। বিশেষ করে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে না।
বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রদত্ত প্রতিবেদনের দিকে চোখ বুলালে দেখা যাবে যে, বাংলাদেশে বর্তমানে মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো নেই, গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন। নাগরিক অধিকারগুলো সংকুচিত হয়েছে। মানবাধিকার পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের এখনকার যে পরিস্থিতি সেটাকে গণতন্ত্র থেকে কেবল পশ্চাতযাত্রাই বলা হচ্ছে না, কোনো কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও দেশ এটাকে স্বৈরতন্ত্রও বলছে।
বিশেষ করে গণতন্ত্র আর রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের যে ইমেজ সংকট তৈরী হয়েছে সেটি থেকে বেরিয়ে আসাই আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিলেতে বর্ণাঢ্য উদযাপন :
বহু প্রাণ, রক্ত, পঙ্গুত্ব ও ইজ্জতের দামে অর্জিত স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল সুবর্ণ জয়ন্তীর আনন্দে ভাসছে বাংলাদেশ। সেই আনন্দের ঢেউ বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের প্রাণেও দোলা দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ত্বরান্বিত করার সাথে শুরু থেকে সক্রিয়ভাবে জড়িত বৃটেনপ্রবাসী বাংলাদেশীদের আন্দোলিত করছে সবচেয়ে বেশী। তাই বৃটেনের প্রায় সবগুলো সিটিসহ নানা প্রান্তে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা স্বোৎসাহে পালন করছেন বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী। ক্যাপিটাল সিটি লণ্ডনসহ বিভিন্ন সিটির বাংলাদেশী কমিউনিটি বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন করছে গৌরবের এই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশীর বসবাস বৃটেনের এমন অনেক লোকাল অথোরিটিও ব্রিটিশ—বাংলাদেশীদের আনন্দে সম্পৃক্ত হয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মান ও স্বীকৃতি জানাচ্ছে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী অধ্যুষিত বারা টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল বছরজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে বাংলাদেশের ৫০ বছরে পদার্পনকে উদযাপন করে আসছে। লণ্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ধারাবাহিক নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করে আসছে সুবর্ণ জয়ন্তীর বর্ষপূর্তি। গত মার্চে স্বাধীনতা দিবসেও লণ্ডন আইসহ বৃটেনের বিভিন্ন আইকনিক স্থাপনা লোকাল অথোরিটি, বিভিন্ন বাংলাদেশী সংস্থা ও হাইকমিশনের উদ্যোগে বাংলাদেশের পতাকার রঙে সজ্জিত করা হয়। এবার ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা দিবসে বৃটেনের ঐতিহাসিক আইকনিক স্থাপনা টাওয়ার ব্রিজে বাংলাদেশের পতাকার রঙ লাল-সবুজের চোখ জুড়ানো আলোর প্রেক্ষপন ছিলো অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া বিভিন্ন কমিউনিটি সংস্থা ও সংগঠন ধারাবাহিকভাবে নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করে চলেছে। এছাড়া বৃটেনের বাংলা প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়া সুবর্ণ জয়ন্তীকে গুরুত্বসহ প্রচার করে যাচ্ছে। টিভি চ্যানেলগুলোতে বিভিন্ন বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের পাশাপাশি প্রিন্ট মিডিয়াগুলো বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে চলেছে। এরই বিলেতে বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে কুইন মেরী ইউনিভার্সি হলে সম্পন্ন হয়েছে “ফ্রীডম ফিফটি” শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠান। এতে ৭১-এ ব্রিটিশ মিডিয়ার ভূমিকা, বাংলাদেশে প্রেস ফ্রীডম, ৫০ বছরের অর্জন এবং চ্যালেঞ্জ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ১৭ ডিসেম্বর আয়োজন করেছে “বিডি ফিফটি” শীর্ষক বিশাল কনসার্টের। বাংলাদেশীদের দ্বারা পরিচালিত লণ্ডনের অন্যতম স্বনামধন্য দাতব্য সংস্থা আপাসেন বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন করেছে বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী ও তাদের পথচলার ৩৭ বছর। আগামী ২৮ ডিসেম্বর বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহাম-মিডল্যাণ্ডসের উদ্যোগে বার্মিংহামে বিপুল আয়োজনে উদযাপিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী। এতে বৃটেনে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং এখানে অবস্থানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজকরা। এছাড়া লণ্ডন, স্কটল্যাণ্ড, ওয়েলস ও আয়াল্যাণ্ডের বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তীকে উদযাপন করছে।
বাংলাদেশের সূবর্ণ জয়ন্তীতে সাপ্তাহিক সুরমা পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে শহীদ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী বৃটেনের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের ঐতিহাসিক অবদানকে কৃতজ্ঞতা সাথে স্মরণ করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদানের দাবী জানাচ্ছে সুরমা।

একই সাথে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল সুবর্ণ জয়ন্তীতে সুরমার সকল পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি স্বাধীনতার রক্তিম শুভেচ্ছা জানিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তীর উদযাপনের অংশ হিসেবে সুরমা বিশেষ সাময়িকী প্রকাশ করেছে।

https://www.facebook.com/1757809197881959/posts/3002547006741499/

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close