নিউজ

ব্রিটিশ ক্রিকেটে বর্ণবাদ: এবার মুখ খুললেন এসেক্স কাউন্টির প্রাক্তন খেলোয়াড় জাহিদ

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ৬ ডিসেম্বর : ব্রিটিশ ক্রিকেটের বর্ণবাদ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন এসেক্স কাউন্টি ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড় জাহিদ আহমদ। বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত জাহিদ ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বর্ণবাদের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত ছেড়ে আসতে যে বাধ্য হয়েছিলেন সেসবের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন। এনিয়ে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি যিনি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে ক্লাবে বর্ণবাদী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ উত্থাপন করলেন। এর আগে এমন অভিযোগই করেছিলেন ইয়র্কশায়ার কাউন্টি ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড় পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত আজিম রফিক। এরপর মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। জাহিদও স্বীকার করেছেন যে, বর্ণবাদ বিষয়ে কথা বলার ব্যাপারে আজিম রফিক তার ‘চোখ খুলেছেন দিয়েছেন’।
সাবেক বোলার জাহিদ আহমেদ ২০০৫ থেকে ২০০৯ এর মধ্যে এসেক্সের হয়ে সাতটি প্রথম-শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন। জাহিদ আহমেদ অভিযোগ করেছেন যে, তিনি সবসময় নিজেকে একজন বহিরাগতের মতো অনুভব করতেন।
জাহেদ তার তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বিবিসিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যে ক্লাবের হয়ে খেলেছিলেন, সেই ক্লাবে যাওয়ার জন্য তিনি ভয় পেয়েছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে তাকে একজন সিনিয়র কোচ দ্বারা উত্যক্ত করা হয়েছিল। কিছু খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের কিছু সদস্য তার কণ্ঠকে উপহাস করেছেন। ৩৫ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় বলেন, প্রতিদিন আমি তাদের মনোযোগ এড়াতে চেষ্টা করতাম।
জাহিদ বলেন, একজন কোচ তাকে অতিরিক্ত এশিয়ান উচ্চারণ নিয়ে উপহাস করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে রসিকতা করেছেন, যেমনটা অন্য কিছু খেলোয়াড়ও তার সাথে করেছিলেন।
তিনি বলেন, এসেক্সের পরিবেশ তার মুসলিম বিশ্বাসের প্রতি কোনো সম্মান দেখায় না।
দ্যা ক্রিকেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাহিদ বলেন, এটি ছিল সাদা মানুষের জগৎ যেখানে বাদামী লোকেরা ছিল বহিরাগত।
তিনি বলেন, আমি আমার ভয়েস পরিবর্তন করতে চেয়েছিলাম এবং এব্যাপারে আমি অনেক চেষ্টা করেছি। আমি সত্যিই পরিবেশের সাথে ফিট হতে চেয়েছিলাম।
জাহিদ বলেন, চেমসফোর্ডে থাকাকালীন আমি নিজেকে একজন বহিরাগতের মতো অনুভব করতাম। আমি সর্বদা ভয় পেতাম যে তারা কী নিয়ে আসবে এবং এটি আমার ক্রিকেটে মনোনিবেশ করার বিষয়টি অবিশ্বাস্যভাবে কঠিন করে তুলেছিল।
সম্প্রতি বাংলা টিভি মিডিয়া চ্যানেল এস‘র সাথে সাক্ষাৎকারে জাহিল বলেন, তিনি প্রথম দিন থেকেই বর্ণবাদের গন্ধ পেয়েছিলেন। তাকে ‘কারি মাঞ্চার’ বলে সম্বোধন করা হতো। ল-নে ৭/৭ এর বোমা হামলার পর তাকেও কেউ কেউ চায়, তিনিও কি বোমা মারবেন?
জাহিদের অভিযোগগুলোর মিডিয়ায় যাওয়ার পর এসেক্স এক বিবৃতিতে বলেছে যে তারা আহমেদের অভিযোগ শুনে নিরাশ।
এসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের প্রধান নির্বাহী জন স্টিফেনসন বলেছেন, অভিযোগগুলি পড়া খুবই কঠিন এবং সেগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা ও তদন্ত করা হবে।
তিনি বলেন, তাকে আমাদের পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার জন্য আমি তার কাছে গিয়েছি, এবং আমি আশা করি তিনি আমাদের আসন্ন তদন্তের অংশ হতে উৎসাহিত এবং স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।
জাহিদ এখন কোর্চিং এর মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার এগিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি সাউথ ইস্ট ল-নে প্ল্যাটফরম ক্রিকেটের জন্য কাজ করছেন। এর আগে ৯ বছর তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস ইয়ুথ স্পোর্টস ফাউণ্ডেশনের জন্য কাজ করেন। টাওয়ার হ্যামলেটসে কাজ করার জন্য জাহিদ বাংলাদেশী কমিউনিটির শিশু-কিশোরদের ক্রিকেটে সম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেন।
উল্লেখ্য, জাহিদ আহমদের পরিবার ইস্ট ল-নের ডেগেনহামে বসবাস করেন। ৪ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। জাহিদের বাবা বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবী শেখ ফারুক আহমদ পলাশ সেবা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং সিলেটের সুপরিচিত হোটেল পলাশের স্বত্ত্বাধিকারী।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close