সম্পাদকীয়হোম

বুয়েট অধ্যাপকের কাণ্ড ও আত্মঘাতী বাঙালি

সম্পাদকীয় ।। ইস‍্যু ২২৩০
এবার ব্যাংকিং সেক্টরে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের একজন অধ্যাপক। তার নাম নিখিল রঞ্জন ধর। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাসম্পন্ন একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুয়েট। গত কয়েক বছর পাবলিক পরীক্ষায় টানা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও গণহারে নকল শিক্ষা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য ও ব্যাপক উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। বুয়েট এইসব কলঙ্ক থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করলেও আবরার ফাহাদ হত্যা কান্ড আর বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নৈরাজ্য বুয়েটকে অধঃপতনের দিকে নিতে শুরু করে। সরকারি বেসরকারি সকল পর্যায়ে প্রকৌশল ও কারিগরি বিষয়ক একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান বুয়েটের উপরে সকলে নির্ভর করে।

এবার সেখান থেকে ব্যাংকিং নিয়োগের প্রশ্নপত্র ফাঁস ষোলোকলা পূর্ণ করেছে। দেশের শিক্ষাঙ্গনের নৈরাজ্যের তালিকায় যুক্ত হলো বুয়েট। এই দুর্বৃত্ত শ্রেণীর ব্যক্তিরা বুয়েটের অভ্যন্তরে কি করছেন তা হয়তো অনেকেরই জানার সুযোগ থাকবে না। এভাবেই নকলবাজ কর্মকর্তাদের হাতে ধ্বংস হবে ব্যাংকিং খাত আর দেশের মেরুদন্ড অর্থনীতি। নকলবাজ আর ভুয়া প্রকৌশলীর হাতে তৈরি হওয়া ভবন ও সেতু যেমন একদিন ঝরে পড়বে, ভুয়া আর নকলবাজ ডাক্তারের হাতে রোগীর হবে করুণ মৃত্যু।  নিশ্চিত অন্ধকার ও আতঙ্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হতেও আজকাল ভয় পায়। যদি আবার তার পেছনে দেশদ্রোহিতার কোন আলামত আবিষ্কার করে ফ্যাসিবাদী সরকার। 

বুয়েটের ঘটনায় সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে অভিযুক্ত বুয়েটের অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধরের একাউন্টে ১০কোটি টাকার সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে নিখিল রঞ্জন ধরের সম্পৃক্ততা এবং তার বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য নিশ্চিত করার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি, গ্রেপ্তার তো দূরের কথা। তবে বুয়েটের ভিসি মি. সত্য প্রসাদ মজুমদার  নিখিল রঞ্জনকে তার বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। খুনের দায়ে ১০০ টাকা জরিমানার অবস্থা। আরও চমৎকার বিষয় হচ্ছে মিস্টার নিখিল রঞ্জন দাবি করেছেন 86 সাল থেকে তিনি অধ্যাপনা করছেন এবং তার সকল বেতন জমি 10 কোটি টাকা হয়েছে কিন্তু 86 সালের অধ্যাপক এর বেতন স্কেল ছিল 750 টাকা যেটা 2000 সালে এসে হাজার 850 আর 2003 সালে এসে 850 টাকা হয় এতে গত 35 বছরের বেতন একসঙ্গে করলে এক কোটি টাকার বেশি হবে না এত বড় চুরি আর জাতীয় কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী ব্যক্তির নির্জলা মিথ্যা দাবী থেকে তার সাহস এর উৎস অনুভব করা যায়। এত বড় একটা জাতীয় কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী ডাকাতের বিরুদ্ধে এমনি সামান্য ব্যবস্থা গ্রহণে প্রমাণিত হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আসলে কি চায়?  

নিখিল রঞ্জন ধর আর তার সহযোগী কয়েকশ চিহ্নিত মাফিয়া আর তাদের গডফাদার গডমাদারদের কাছে সবকিছুই জিম্মি। তবে ১৮ কোটি মানুষের সংকট উত্তরণ ১৮ দিনে অথবা ১৮ জনের মাধ্যমে উত্তরণ সম্ভব নয়। ভুক্তভোগী জনগণ যাদের সামনে আজকের অন্ধকার আরো কঠিন আকার ধারণ করছে দিনে দিনে। প্রত্যেকের ঘরে ঘরে আঘাত হানা পর্যন্ত হয়তো আত্মঘাতী বাঙালি অপেক্ষা করবে! তবে যারা বিবেকবান তারা সংখ্যায় যাই হোক না কেন বারবার সেই সাহসী মানুষগুলোই ঘুরে দাঁড়ায় । তৈরি করে মুক্তির ইতিহাস।  সুতরাং গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত বাংলাদেশের সর্বগ্রাসী সংকটের সমাধানে বিবেকবান জনগোষ্ঠীর প্রতি একথাই বলতে হয়-  সময় থাকতে সাধু  সাবধান।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close