নিউজ

সময়ের ভাবনা- ধর্ম ও চেতনা ব্যবসায়ের বিপদ- উভয়ের কবল থেকে সাবধান


।।জিসান সালিম।।

বাংলাদেশ ভুখন্ড এক উর্বর ভুমি,”দাওয়াতে ইসলামের” জন্য।বাংলাদেশ নামক বাগানে শত শত শায়েখের  ফুল ফুটুক,আর সে ফুলের সুরভীতে ছড়িয়ে পড়ুক উম্মার কাছে তাওহীদের বাণী। এটাই চাই……কিন্তু……
ধর্মের নামে….ধর্ম ব্যবসায়ীরা…আর চেতনার নামে নাস্তিকেরা যা করছে….তা  একে একে….সে সুরভী ছড়ানোর চাইতে ধ্বংশ করছে শায়েখদেরকেই….অনেক বেশী।
দেখুন! বাংলাদেশের মাঠ পর্যায়ে তাফসীর মাহফিলের জন্ম যিনি দিয়েছিলেন,যিনি হাটি হাটি পা পা করে, বাংলাদেশের প্রান্ত থেকে প্রান্ত ছুটে গিয়ে মানুষের কাছে তাওহীদের বাণী প্রচার করেছেন, তাঁকেও শেষ করে দিয়েছে কিছু লেবাসধারী  “ধর্ম ব্যবসায়ীরা “ভীষণ শায়েখ সাঈদী ভক্ত আমার আব্বাজান রাহেমাহুল্লাহ ও বলতেন, দায়ী ইলাল্লাহ রা রাজনীতি করলে,  তাদের পথ চলা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই অকালে ঝরে পড়ে।তার চাইতে শায়েখ  সাঈদী দাওয়াতী কাজ করলেই রাজনীতি থেকে ও বেশী কাজ করতে পারতেন ইসলাম ও দেশের জন্য। সাধারন মানুষ উনাকে ভালোবাসেন আল্লাহর জন্য। কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য নয়।এমন ইচ্ছের কথা প্রায় প্রতিটি দলের কাছ থেকেই এসেছে।শায়েখ সাঈদী সর্বজন শ্রদ্বেয় ছিলেন,কোনো সন্দেহ নেই।


আজকের বাস্তবতায়, শায়েখ সাঈদী ও আজহারী “রাজনৈতিক প্রতি হিংসা, নাস্তিক ও ধর্ম ব্যবসায়ী” ত্রিমুখী  রোষানল পড়েছেন।
যা তাদের গ্রহন যোগ্যতা ও দ্বীনের কাজের জন্য চরম এক আঘাত।
অনেকে না বুঝেই অন্যের উপর দোষ চাপাচ্ছে।অথচ তথাকথিত ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের খায়েশ মেটাতে “তারা  ভালো ও সমাজে গ্রহন যোগ্য শায়েখদের ” সম্পৃক্ত করতে মরিয়া হবার কারনেই আজকের এই পরিস্থিতি। 
এতে শায়েখে শায়েখে ও চরম এক বিশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।যা দ্বীনের পথে নাস্তিকদের থেকে ও বড় অন্তরায়। 
বাতেল মুজাহিদ রা, শায়েখ সাঈদীকে চাঁদে উঠিয়ে উনার উপর যে নিকৃষ্ট আর বিকৃত আঘাত করেছে,উনার বিশাল অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে,উনার প্রতি যুলুমের এই খড়গের ইন্ধন দাতা নাস্তিকদের সাথে এই লেবাসধারী মুজাহিদরাও দায়ী।
তারাই…আজ আবার…..আজহারীকে লন্ডন যাত্রায় ‘ইসলামের মোড়কে” উপস্থাপন করে শেষ করে দিয়েছে।তার ক্যারিয়ারে চরম ভাবে আঘাত করেছে।তরুন আজহারীর সামনে….. যে কোনো ভিসা এপ্লিকেশনে নিবীড় পরীক্ষা পরীক্ষানিরীক্ষা করা হবে (বিশেষ করে যেখানে দ্বীন প্রচার জরুরী ছিলো, মুসলিম সংখ্যালঘু দেশগুলোতে),ভিসা না ও দিতে পারে এখন।
কারন খুবই সেন্সিটিভ একটা সুড়ঙ্গ খুঁড়ে দিয়েছে আয়োজকরা, অনভিজ্ঞতার কারনে তারা আজহারীর আগামীর  পথরোধ করে দিয়েছে ” দাওয়াতি কাজের!! খুবই সুক্ষ্ম ভাবে এটি করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। যিনি আয়োজক, তার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে এটাই আমার মনে হয়েছে।
এ দায় যতোনা ” নাস্তিকদের উপর করা যায়” তার চাইতে অনেক বেশী দায় এই আয়োজকদের।
অথচ বিশাল এক সুযোগ ছিলো আজহারীর সামনে,বাংলাদেশের একজন তরুন দায়ী ইলাল্লাহ হিসেবে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশকে প্রেজেন্ট করে  দ্বীনি কাজে  দাবিয়ে বেড়ানোর।
এই উগ্র-ধর্মান্ধরা ” রাজনীতির খায়েশ মিটানোর ” নামে জনপ্রিয় শায়েখদের টার্গেট করেছে বার বার , তাদের দ্বীনের দাওয়াতি কাজকে চরম ভাবে বাধা সৃষ্টি করেছে সেই ৮০’র দশক থেকে।
ফলাফলঃ এই সুযোগে এক এক করে নাস্তিকেরা তাদের সুযোগের ১০০% সদ্য ব্যবহার করেছে। আর মুজাহিদরা ” ইসলাম ” গেলো বলে বলে বুক চাপড়াচ্ছে।
শিক্ষাঃ দুনিয়ায় ” ধর্ম ” কোনো দল ব্যাক্তির উপর নির্ভর করে না।প্রাথমিক ইসলামের যুগে অনেক নবী রাসুল তাদের জীবদ্দশায় একজনকে ও আলোর পথে আনতে পারেন নি। তাদের কে আপনারা কি বলবেন?এটাই মহান রবের মূজেযা”জ্ঞানীদের জন্য চিন্তার খোরাক। 
আবার দেখুন বাংলাদেশের বড় বড় শায়েখেরা, যাদের নাম নিতে নিতে  আপনারা মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন, সেই তুলনায় ধর্মান্তরিত পাহাড়িয়া দ্বীনের দায়ী ” ওমর ফারুকের দ্বীনের কাজের প্রসার কতোটা উচ্চতায়, ভেবেছেন কি?এটাই আল্লাহ পাকের হিকমাহ। 
আমাদের আবেগ দিয়ে ইসলাম বা মুসলমানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের সুযোগ নেই।মাহফিলে মাঠ প্রকম্পিত করার ” চিৎকার,হুংকার,চেচামেচির”  নাম দাওয়াতে ইসলাম নয়।
পৃথিবীর বড় বড় শায়েখ,যারা দায়ী ইলাল্লাহ’র কাজ করে যাচ্ছেন, মুসলিম বিস্ব সহ,আমেরিকা,আফ্রিকা, ইউরোপ, কানাডা,অস্ট্রেলিয়া, ইউকে সহ ভিন্ন ভিন্ন দেশে,তাদের আলোচনা শুনেন?তাদের দাওয়াতী ভাষা কি? শুনেছেন!! তাদের স্পীচ দেয়ার সময় তাদের স্বর কতোটা নীচু আর সুমিষ্ট থাকে, শুনেছেন? যার ফলশ্রুতিতে  আজকে ইয়াহুদী খ্রিস্টানদের দেশে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যার বৃদ্ধ্বি, মসজিদ/মাদ্রাসার বিপ্লব ঘটছে।এটাই দাওয়াতুল ইসলাম।
কেবল বাংলাদেশ, ভারত আর পাকিস্তানের শায়েখেরাই ঈমানের জোশে মঞ্চ ভেংগে ফেলে,মাইক্রোফোন খসে পড়ে , লাফ দিয়ে উঠে,মাঠ এমন ভাবে প্রকম্পিত করে, শ্রোতারা বাঁশে ঊঠে যায় কেউ কেউ,গানে গানে হাসি তামাশায় পরিনত করে মাহফিল কে।
এই ভাবে যতোদিন মাঠ প্রকম্পিত করবেন, ততদিন আপনাদের এই দাওয়াতি কাজ সমাজে বিন্দুমাত্র  ” ভালো কিছু ” দিতে পারবে না।
যে দিন মাঠভরা মানুষ কে শায়েখের প্রতিটি কথায় জীবন – মরন ও পরকালীন কঠিন আযাবের ভয়ে উপস্থিত জনতার হৃদয় কে প্রকম্পিত করতে না পারবে, ততদিন আপনাদের এহেন কাজ ” সমাজে “কোনো প্রভাব ফেলবে না,  এবং  আল্লাহর দ্বীনের জন্য সহায়ক হবে না।
সেটা আজ আমাদের সামনেই দৃশ্যমান।প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে,প্রতিটি উপজেলা,শহর,জেলা, ও  বিভাগীয় শহরে মাহফিল হচ্ছেই।পরিসংখ্যানে অনেকটা বছরে বাংলাদেশের মাহফিলের সংখ্যা প্রায় -১ লাখের উপ-র।আর এই মাহফিল ও আয়োজন করেন অনেক অনৈতিক মানুষ!এই অনৈতিকতা, ধর্ষণ,ঘুষ,সুদ অবাদে চলছে প্রতিটি জনপদে।আবার এরাই যখন মাহফিলের আয়োজক হয়, তখন মাহফিলের  সুফল সে ভাবে জনগোষ্ঠীর উপর প্রভাব ফেলে না।যতটুকু হবার কথা ছিলো।
মাহফিলের শিক্ষা নিতে হলে, মাহফিলের আয়োজক ও শায়েখ দের আরো উদার ও সাবলীল হতে হবে।দ্বীন প্রচারের মুল বিষয় গুলিকে প্রাধান্য দিতে হবে।সালাত,সাওম,আদেশ – নিষেধ,হালাল- হারাম কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।(যাকাত ও হাজ্জ এলিট শ্রেনীর পরিবেশ, পরিস্থিতির উপর আলোচনা করবে)ফরজ কাজগুলিকে প্রায়োরিটি দিয়ে এটিকে বাস্তবায়নের চেস্টা করতে হবে,ফরজ প্রতিষ্টিত হবার পর ওয়াজিব,  সুন্নাহ, মুস্তাহাব ও অনেকটাই এসে যাবে।
ছোট ছোট বিষয়,যেমন বুকে হাত,নাভিতে হাত,আমীন আস্তে জোরে,বিতির রাকাত একসাথে না দুই ভাবে, মুনাজাত করলে না করলে, মিলাদ করলে বা না করলে,এ বিষয় গুলিকে এড়িয়ে যাওয়াই উচিৎ। তাতে শায়েখদের মাঝে দুরুত্ব কমে আসবে।যা উম্মার জন্য আজ বড়ই প্রয়োজন। 
মাহফিলের চেয়ে শায়েখেরা যদি প্রতিদিন এশার সালাতের পর  মসজিদ ভিত্তিক ১৫ মিনিট আলোচনা কন্টিনিউ করেন, সেটার ফলাফল মাহফিল থেকে বেশী আসবে বলে মনে করি।
মুল কথা শায়েখেরা প্ল্যান নিয়ে দাওয়াতি কাজ করতে হবে।সেটা মাঠে বা স্টুডিও বা উভয় থেকেই হোক।ডঃ আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহেমাহুল্লাহ, তিনি তো অনেক এগিয়ে দিয়েছেন এই কাজ কে।
একে অন্যের প্রতি বিরুপ আচরন করা যাবে না শায়েখদের।এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে “দ্বীন ও দাঈ রা”। যেটা আমাদের চোখের সামনেই।
আল্লাহ পাক আমাদের ভুল বুঝার তাওফিক দান করুন। যাজাকাল্লাহ খাইরান।
জুম্মাবার,১২ ই নভেম্বর -২০২১
লেখক- ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close