নিউজ

সুন্দরবনকে অসুন্দর করে পরিবেশ সম্মেলনে আসছেন হাসিনা

স্বাস্থ্যগত কারণে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না রাণী
নিজ নিজ দেশে কার্বন নিঃসরণ অব্যাহত রেখে পৃথিবী বাঁচানো কি সম্ভব?
শেখ হাসিনার সফরকে ঘিরে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ২৮ অক্টোবর : স্কটল্যাণ্ডের গ্লাসগোতে এবার বসছে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু সম্মেলন। বৃটেনের আয়োজনে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে ৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত ১৩ দিনের ‘কপ-২৬’ নামের এ সম্মেলন হতে যাচ্ছে। সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে ইতালি। ২০১৫ সালের প্যারিস সম্মেলনের পর এটি সবচেয়ে বড় জলবায়ু সম্মেলন। গত বছর হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারীর কারণে এক বছর পিছিয়ে এ বছর সম্মেলন হচ্ছে। এতে ২০০ দেশের ১২০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বলা হচ্ছে, এ সম্মেলনে ৩০ হাজারের বেশী মানুষ অংশ নেবে। এর মধ্যে বিশ্বনেতারা ছাড়াও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, পরিবেশবাদী কর্মী, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীরাও থাকবেন।

অন্যান্য দেশের সরকারপ্রধানদের ন্যায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যোগ দিচ্ছেন এই সম্মেলনে। ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ থেকে তিনি সরাসরি স্কটল্যাণ্ডের গ্লাসগোতে যাবেন। এরপর কয়দিন বৃটেনে অবস্থান করবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা না গেলেও ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সিক্যুরিটি এক্সেস কমিশনের সাথে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। আর যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সিটি অব ওয়েস্টমিন্সটারের পার্লামেন্ট সংলগ্ন কুইন এলিজাবেথ হলে ৭ নভেম্বর বৃদাকারের সমাবেশের আয়োজন করেছে বলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক কবি শাহ শামীম জানিয়েছেন। এছাড়া গ্লাসগোতে শতধিক নেতাকর্মী তাদের নেত্রীকে স্বাগত জানাতে সেখানে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর লণ্ডনের সমাবেশসহ সকল কর্মসূচীতে জমায়েত হয়ে প্রতিবাদ জানানোর ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে তারা।

ফিরেয়ে দাও অরণ‍্য: শুধু এই প্রাণীই ধ্বংস হবে না। ধ্বংস হবে মানুষের জীবন। বাতাসে ক্রমশঃ অক্সিজেন ফুরিয়ে আসবে। তাই সৌন্দর্যকে রক্ষা করতে মানুষকেই দাঁড়াতে হবে। অরণ‍্য ধ্বংস মানে নিজেকে ধ্বংস করা, পৃথিবীকে ধ্বংস করা।

বিশ্বনেতাদের এই জলবায়ু সম্মেলন কতোটা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সমালোচনা ও সন্দেহ বিরাজমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ বিশ্ব নেতৃত্বদানকারী অনেক দেশ রয়েছে যাদের কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ আশানুরূপ নয়। আর বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনকে ধ্বংসের মুখে রেখে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শত প্রতিবাদ সত্ত্বেও সুন্দরবনের কাছে ভারতীয় কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে পরে জাতিসংঘসহ আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সকল গবেষণায়ই সুন্দরবন ধ্বংসের চিত্র ওঠে আসলেও শেখ হাসিনার সরকার তাতে কোনো কর্ণপাত করছে না। শুরু থেকে বামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধীতা অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী ঢাকা অনেকবার প্রতিবাদ সভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্প্রতিও তা বন্ধের দাবীতে সেখানকার স্থানীয় মানুষ অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছেন। এতোসব সত্ত্বেও বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার তাতে কোনো কর্ণপাত করছে না। বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি ভারতীয় কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ বন্ধ না করে শেখ হাসিনার জলবায়ু সম্মেলনে যোগদানকে সচেতন মহল তাই কোনভাবেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে পারছেন না।
বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ প্রাণ-প্রকৃতি-মানুষ বিনাশী সব প্রকল্প বাতিলের দাবী জানিয়েছেন তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতারা।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য উল্লেখ করে তারা বলেছেন, পুরোদমে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে প্রতি মাসে ভারত থেকে ২০ হাজার টন কয়লা সরবরাহ করা হবে। সরকার দাবী করে আসছে, ভারত থেকে নিম্নমানের কয়লা আনা হবে না। এখানে ব্যবহার করা হবে উচ্চ প্রযুক্তি এবং সর্বোত্তম মানের কয়লা। অথচ আনা হচ্ছে নিকৃষ্ট মানের কয়লা। শুরু থেকেই প্রচার করা হয়েছে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে রামপালের স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অথচ ঘটেছে বিপরীত ঘটনা। পরামর্শকসহ শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

তাদের বিবৃতি থেকে আরো জানা যায় যে, করোনাকালে লকডাউন চলাকালে বহু প্রয়োজনীয় কাজ বন্ধ থাকলেও জবরদস্তিমূলক এসব প্রকল্প জোরেসোরে চালাচ্ছে সরকার। বিবৃতিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে আর কালক্ষেপণ না করে সরকারকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের দাবী জানিয়েছেন নেতারা।
তবে সম্মেলনে আগত বিশ্বনেতাদের সাথে ১ নভেম্বর সান্ধ্য অধিবেশনে বৃটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাথের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও তিনি শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যগত কারণে উপস্থিত থাকবেন না বলে বাকিংহামে প্যালেস জানিয়েছে। রাণীর স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তারা তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টাদের পরামর্শ অনুযায়ী রাণী উই-সর ক্যাসেলে কিছু হাল্কা দায়িত্ব পালন করলেও তিনি দুঃখজনকভাবে গ্লাসগোতে না যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি অতিথিদের উদ্দেশ্যে তাঁর রেকর্ডেড ভিডিও ম্যাসেজ পাঠাবেন।

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয় বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এরই মধ্যে বলেছেন, এ দুর্যোগ করোনাভাইরাস মহামারীর চেয়েও ভয়াবহ। কোভিড-১৯ ভয়ানক, তার চেয়েও ভয়ানক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সঙ্কট। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিত্ব বিল গেটস বলেছেন, ২০৬০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তন ঠিক কোভিড-১৯-এর মতোই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। আর ২১০০ সাল নাগাদ এটি হবে পাঁচগুণ বেশী ভয়াবহ। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয় রুখতে না পারলে পৃথিবীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে যে, সম্মেলন ব্যর্থ হলে এর পরিণতি ভয়ানক হবে।

গ্লাসগো সম্মেলনে আলোচনার জন্য জাতিসঙ্ঘের একদল বিজ্ঞানী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার উপায় খুঁজে বের করতে একটি রিপোর্ট তৈরী করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত জাতিসঙ্ঘের আন্তঃসরকার কমিটি বা আইপিসিসি নামে কমিটিতে বিজ্ঞানী দলটি কাজ করে। তারা প্রতি ছয়-সাত বছর পরপর জলবায়ু পরিবর্তনের নানা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করে এ ধরনের রিপোর্ট তৈরী করেন। এবারের রিপোর্টে বিশ্বে কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার ওপর সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে কয়লার ব্যবহার বন্ধের ব্যাপারেই জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। গ্লাসগো সম্মেলনের অন্যতম প্রধান একটি লক্ষ্য কয়লার ব্যবহারের অবসান ঘটানো।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। কানাডার ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপদাহে এবার প্রায় শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম ইউরোপে নজিরবিহীন বন্যা হয়েছে। বিশেষ করে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতজনিত বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা শতাধিক। বেলজিয়াম, নেদারল্যা-স, সুইজারল্যা-, লুক্সেমবার্গেও বন্যা ভয়াবহ ছিল। কয়েক দশকের মধ্যে ইউরোপে এমন বন্যা ছিল ভয়াবহ। ২০২০ সালে বিশ্বের ১৯ শতাংশ এলাকা তীব্র খরার সম্মুখীন হয়েছে। বিশ্বের ১৩৪টি দেশের মানুষ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন দাবানলের বড় হুমকির মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, উত্তর আমেরিকার কিছু অঞ্চল, সাইবেরিয়া, ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দাবানলে পুড়ে ছাই হয়েছে। সম্প্রতি গ্রিস, তুরস্ক ও আলজেরিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে অসংখ্য মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে। আলজেরিয়ার ১৮টি প্রদেশের ৭০টির বেশী জায়গায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ে।

জলবায়ু পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে জাতিসঙ্ঘের বিজ্ঞানীরা গত আগস্টে আইপিসিসির যে রিপোর্ট প্রকাশ করে তাতেও বলা হয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এখন যে চরম তাপপ্রবাহ, প্রচণ্ড ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা, অনাবৃষ্টি, খরা, সাইক্লোন ও দাবানল হতে দেখা যাচ্ছে তাতে জলবায়ু পরিবর্তনের সুস্পষ্ট আলামতই ফুটে উঠেছে। পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা শিল্পযুগের আগে যা ছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে সেই তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। এ তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য আগে যতটা সময় লাগবে বলে বলা হয়েছিল, এখন বলা হচ্ছে— ১০ বছর আগেই তা ঘটে যাবে। এর ফলে বিশ্ব চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির তৈরী হবে। একমাত্র কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়েই এ অবস্থার গতি কমানো যায়। রিপোর্টে বলা হয়, ২০১১-২০ এই এক দশক সময়কালে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১৮৫০-১৯০০ সময়কালের চেয়ে ১.০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। ১৮৫০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত থাকা রেকর্ড অনুযায়ী গত পাঁচ বছর ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে উষ্ণতম সময়। ১৯০১-১৯৭১ এ সময়কালের সাথে তুলনায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সা¤প্রতিক হার প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ১৯৯১-এর দশক থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী হিমবাহগুলো গলে যাওয়া ও আর্কটিক সামুদ্রিক বরফস্তর কমে যাওয়ার পেছনে মানুষের কর্মকা-ই দায়ী। এটি এখন প্রায় নিশ্চিত যে, ১৯৫০-এর দশকের পর গরম পড়া এবং তাপপ্রবাহ অনেক বেশী ঘন ঘন ঘটছে। এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রের পানির স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিমাণ দুই মিটারের কাছাকাছি চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মতো গ্রিন হাউজ গ্যাসের নির্গমন বড় আকারে কমাতে পারলে তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে হয়তো স্থিতিশীল রাখা যেতে পারে।
গ্লাসগো জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ-২৬’কে সামনে রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৮২ পৃষ্ঠার রিপোর্টে জলবায়ু পরিবর্তনকে মানবসভ্যতার সবেচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট হিসেবে উল্লেখ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপদাহ, ঝড়, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় আঘাত, রোগ বৃদ্ধি ও মানসিক স্বাস্থ্যে সমস্যা বাড়ছে। রিপোর্টে ১০টি সুপারিশও করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— পরিবহন ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরায়ন।

বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় বলা হয়, ‘স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশে পরিচালিত বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় বলা হয়, শুষ্ক মৌসুমে বিষাদ ও উদ্বেগ বাড়ছে। বর্ষাকালে এখানে দীর্ঘ হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি কমছে। ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ভারী বৃষ্টি হয়েছিল। এ বৃষ্টি আগের ৪৫ বছরে হয়নি। তার পরেরও মাসগুলোতে বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়া ডেঙ্গুর বাহক মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ছিল। বাংলাদেশের পাঁচ শহরের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে বলা হয়, উষ্ণায়নের উচ্চমাত্রা জলবায়ু পরিবর্তনে খুব বড় ভূমিকা রয়েছে। ইউনিসেফ বলেছে, বাংলাদেশের শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি শিশু অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩৩টি দেশে বসবাস করে। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ রয়েছে। বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তেমন কোনো ভূমিকা নেই। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

গ্লাসাগো জলবায়ু সম্মেলন কতটা সফল হবে এ নিয়ে এরই মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। চীন কপ-২৬ সম্মেলনে কী কী প্রতিশ্রুতি দেয় তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ মুহূর্তে চীনই বিশ্বের এক নম্বর কার্বন নিঃসরণকারী দেশ। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছেন, তিনি সম্মেলনে অংশ নেবেন না। এটি হতাশার সৃষ্টি করেছে। তবে চীন ইতোমধ্যে বলেছে, দেশের বাইরে তারা আর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বানাবে না। নিজের দেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় চীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ করেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনও জানিয়েছেন করোনা মহামারীর কারণে তিনি গ্লাসগো সম্মেলনে আসবেন না। তবে কার্বন নিঃসরণ বন্ধে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার সিদ্ধান্ত বদল করে জানিয়েছেন, তিনি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

আয়োজক দেশ হিসেবে বৃটেন চাইবে গ্লাসগো সম্মেলনে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমাতে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্যে নামিয়ে আনতে সব দেশ যেন অঙ্গীকার করে। উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয় মোকাবেলায় উন্নত দেশের প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলার নিশ্চিতেও ভূমিকা রাখবে বৃটেন, এমন ধারণাই দিয়েছেন সম্মেলনের সভাপতি অলক শর্মা এমপি। আয়োজক বৃটেন চাইবে কার্যকর একটা চুক্তিতে সবাই যাতে সম্মত হয়। বাস্তবে সম্মেলনে কী হয় শেষটাই দেখার বিষয়। তবে বৃটেন ইতোমধ্যে নিজ দেশে কার্বন নিঃসরণে ২০৩০ সালের ডিজেল, পেট্রোল চালিত যানবাহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে ইলেক্ট্রোনিক যানবাহনের উদ্যোগসহ বেশী কিছু কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সুরমার প্রিণ্ট ভার্সন: শুক্রবারে মার্কেটে আসবে

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close