নিউজ

ফেইস টু ফেইস জিপি সার্ভিস বন্ধ থাকায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে

।। কলিন চৌধুরী ।।
লণ্ডন, ২৭ অক্টোবর : করোনা শুরু পর ফেইস টু ফেইস জিপি সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। করোনা এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর লকডাউন উঠে যাওয়াসহ অনেক বিধিনিষেদ শিথিল হলেও ফেইস টু ফেইস জিপি সার্ভিস চালু হয়নি। এজন্যে প্রায় প্রতিদিনই রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে বৃটেনে ফেইস টু ফেইস জিপি সার্ভিস না থাকায় জনমনে চরম এখন অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে রোগীদের সঠিক সেবা নিয়েও।
কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর থেকেই বৃটেনের জিপি সার্ভিস বন্ধ করে দেয় — ফেইস টু ফেইস রোগী দেখা। এর পরিবর্তে রোগীর সাথে আলাপ করে প্রেসকিপশন দিয়ে দেন ডাক্তার। ফলে রোগীরা পড়েন মারাত্মক বিপাকে। সব সময় ডাক্তারের সাথে দেখা করে নিজেদের মতো করে কথা বলতে অভ্যস্ত মানুষজন বিশেষ করে বয়স্ক রোগীরা ভালো করে তাদের রোগের উপসর্গ বোঝাতে হিমশিম খান। এমতাবস্থায় অনেকের রোগ-বালাই থেকেই যায় এবং বাধ্য হয়ে বার বার জিপিতে ফোন করেন।

এমনি ভূক্তভোগিদের একজন হলেন অনিক ইসলাম। তিনি তার বুড়ো আঙ্গুলে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। পরের দিন এব্যাপারে ফোনে ডাক্তারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, হয়তো তার ঘাউট হয়েছে তাকে রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু তাকে কোনো ওষুধপত্র দেন নাই। ডাক্তার উনাকে বলেন, রিসিপশন থেকে ফোন করে রক্ত পরীক্ষার দিনক্ষণ জানানো হবে। তিনি ২ দিন অপেক্ষা করে রিসিপশনে ফোন করলে রিসিপশনিষ্ট জানান যে, ডাক্তার এখনও রক্ষ পরীক্ষার ব্যাপারে কিছু জানান নাই। তিনি অত্যন্ত বিরক্ত হলেন এবং বললেন, তিনি লাইনে আছেন ডাক্তারকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে। তখন রিসিপশনিস্ট ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে রক্ত পরীক্ষার সময় জানিয়ে দিলেন এই দিনেই।

এদিকে, তিনি পায়ের ব্যাথায় একেবারে বেহাল অবস্থা। অনিক রক্ত পরীক্ষা দিয়ে ৩ দিন অপেক্ষা করে আবার ফোন করলেন তার জিপি সার্জারিতে। তখন তাকে বলা হয়, রক্ত পরীক্ষার রিজাল্ট এসছে, তাঁর ঘাউট হয়েছে। তিনি খুবই বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে ডাক্তার তাকে ফোন করেন নাই কেন? পরের দিন ডাক্তার তাকে ফোন করে বলেন, তার পায়ে এক্সরে করতে হবে। তিনি রয়েল লণ্ডন হাসপাতালে এক্সরে করালেন। ৩ দিন পর ফোন করে জানতে পারলেন, এক্সরের রিপোর্ট পরের দিনই এসে গেছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে ডাক্তার তাকে ফোন করলেন না? রিসিপশনিস্ট তাকে জানালেন, ১৫ মিনিট পরে তিনি তাকে ফোন করবেন। ১৫ মিনিট পরে ফোন করে জানালেন, ডাক্তার তাকে আজই ৩টার পরে যে কোনো সময় ফোন করবেন।

এদিকে, উনার পায়ের ব্যাথা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ডাক্তার ফোন করলেন ৩টা ৩০মিনিটে। জানালেন, উনার বুড়ো আঙ্গুলে বাত হয়েছে। ব্যবস্থাপত্রও তাকে দেয়া হলো।
প্রায় ৩ সপ্তাহ তিনি ঔষুধ সেবন করেও ব্যাথা যাচ্ছে না বিধায় তিনি আর জিপির সময় ক্ষেপন না করে এ – ই‘তে (এক্সিডেন্ট এ- ইমার্জেন্সি) গেলেন। দীর্ঘ ৪ ঘন্টা অপেক্ষা করে এ এণ্ড ই‘র ডাক্তার পায়ে হাত দিয়ে বললেন, তার ঘাউট হয়েছে।। ডাক্তার ঘাউটের ঔষুধ দিলেন। তখন তিনি এ- ই ডাক্তারকে বললেন, জিপি উনাকে বলেছেন বাত হয়েছে। এ এণ্ড ই ডাক্তার বললেন না ঘাউট। তিনি পরেরদিন জিপিতে ফোন করে এ এণ্ড ই‘র কথা জানালে ডাক্তার বললেন, তিনি ঘাউটের ঔষুধ দিবেন না, কারণ তিনি রক্ত পরীক্ষায় ঘাউট পান নাই।
অনিক তখন ডাক্তারকে বললেন, এ এণ্ড ই ডাক্তার তাকে ঔষুধ দিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন, উনার জিপি যদি উনাকে সামনা সামনি দেখতেন তাহলে তাকে এরকম পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতো না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বয়স্ক রোগী জানান, উনি তার পেটে তীব্র ব্যাখা অনুভব করলে জিপিতে ফোন করেন। ডাক্তার তাকে ব্যবস্থাপত্র দিলেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না। পরে এ এ- ই‘তে গেলে তারা উনার পেট এবং পীঠ টিপে ভালো করে দেখে এবং তাদের দেয়া ঔষুধ খেয়ে তিনি ভালো হয়ে উঠেন। মহসিন আহমদ তার স্ত্রীর রক্ত পরীক্ষার দিন জিপিতে গিয়েছিলেন, সেখানে যাওয়ার পর দায়িত্বেরতরা বলেন, তাদের সার্জারিতে রক্ত নেওয়ার যে বোতল থাকে তা শেষ হয়ে গেছে। তিনি স্ত্রী তাদেরকে বলেন, তাহলে আপনারা ফোন করে বললেন না কেন?

উপরোল্লেখিত কয়েকটি ঘটনা থেকে সহজেই বোঝা যায়, কীভাবে চলছে ল-নের বর্তমান জিপি সার্ভিস। অভিযোগে অভিযোগে ঝুড়ি ভর্তি হলেও কখন যে রোগীরা এর থেকে পরিত্রাণ পাবেন তা কারোরই জানা নেই।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close