নিউজ

আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অন্যথায় ফয়সালা রাজপথে : তারেক রহমান

লণ্ডন, (ওএনবি) : ১০ অক্টোবর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। ২০১৪ সাল  কিংবা ২০১৮ সালের মতো  জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে  আর জোচ্চুরি-ডাকাতি-প্রতারণা  করতে দেয়া হবেনা। জনদাবি মেনে নিয়ে ক্ষমতা জবরদখলকারী চক্র যদি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা মেনে নেয়, তাহলে একটি অবাধ-সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষবা নির্বাচনের মাধ্যমেই  দেশে বিরাজমান সংকটের সমাধান। অন্যথায়, ফয়সালা হবে রাজপথে।

রোববার (১০ অক্টোবর২০২১) ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের  অন্যতম শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩২তম শাহাদাত বার্ষিকীতে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতৃবৃন্দ ও জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম রূপকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি ভিপি আমান উল্লাহ আমান।  সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   

সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেয়া সরাসরি দেয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন,  প্রবীণদের পরামর্শ ও নির্দেশনা, সারাদেশে ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী  আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠক, আর বর্তমান প্রজন্মের শক্তি ও সাহসের সমন্বয়ে, গণ অভ্যুথানের মাধ্যমেই পুনরুদ্ধার করা হবে, বেহাত বাংলাদেশ । প্রতিষ্ঠা করা হবে মানুষের অধিকার।

বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি, গনতন্ত্রের পক্ষের শক্তি জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিটি নেতা কর্মী-শুভার্থী-সমর্থকদের প্রতি আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সফলতার নজির রয়েছে।

সুতরাং, ‘আসুন, আপনার-আমার আমাদের সকলের তথা প্রতি নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায়  আমরা আবারো ঐক্যবদ্ধ হই। দেশ বাঁচাতে  মানুষ বাঁচাতে আমাদের আন্দোলন ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’, আহবান জানান তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, যে কোনো আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতির  দিকে নিতে হলে,  ছাত্র-তরুণ ও যুবসমাজের ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে যেমন ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন । একইভাবে মাফিয়া সরকার বিরোধী এবং গণতন্ত্রকামি ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোর নিজেদের মধ্যেও লিয়াজোঁ রক্ষা জরুরি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশে চলমান যে সংকট  এটি বিএনপির একক সংকট নয়।  লগি-বৈঠাধারী কতিপয় নব্য রাজাকার  কিংবা তাবেদার গোষ্ঠী ছাড়া,   দেশে চলমান সংকট দেশের গণতন্ত্রকামী  প্রতিটি নাগরিকের সংকট। কেউ নিরাপদ নয়। 

তাই, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ করে ছাত্র-তরুণ-যুব সমাজকে উপলব্ধি করতে হবে,   খুনি লুটেরা চক্র এভাবেই কি  ব্যর্থ করে দেবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ? নাকি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় ৭১, ৭৫, ৯০-এর মতো  আবারো ঘুরে দাঁড়াবে  ছাত্র- যুব সমাজ?

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ উপহার দিয়েছে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ৭৫ এর ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সুসংহত করেছে দেশের স্বাধীনতা-সার্ভভৌমত্ব। পথহারা বাংলাদেশকে অন্ধকার থেকে  এনে দিয়েছিলো আলোর পথে। আর,  ৯০-এর আন্দোলন  বাংলাদেশকে করেছিল স্বৈরাচারমুক্ত। 

তারেক রহমান বলেন, আর বর্তমানে মা, মাতৃভুমি বাংলাদেশ আজ সংকটে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের সামনে  বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং দেশের মর্যাদা রক্ষাই এ মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আজকের ছাত্র তরুণ-যুব  প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাই, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে, দেশি-বিদেশী মাফিয়া চক্রের  কবল থেকে বাংলাদেশকে উদ্ধার করতে,  ৫২, ৬৯, ৭১, ৭৫, ৯০ এর মতো ছাত্র-তরুণ-যুব সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে। মা-মাতৃভূমির মর্যাদা রক্ষায়   ঐক্যবদ্ধভাবে সাহসের সঙ্গে  প্রয়োজনে রাজপথের দখল নিতে হবে। 

মা-মাতৃভূমির মর্যাদা রক্ষায়  স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায়  প্রয়োজনে  ইলিয়াস আলী -জেহাদ-আবরারদের  মতো সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য  মানসিক প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়ে সারাদেশে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী  সংগঠনের নেতা কর্মী সমর্থক শুভাকাঙ্খীদের প্রতি আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন,  মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে  অতীতের মতো জনগণকে সঙ্গে নিয়ে  জাতীয়তাবাদী শক্তিকেই  নেতৃত্ব দিতে হবে।  সুতরাং, দলীয় পদ পদবি  কিংবা কোনো বিষয়ে বিরোধ কিংবা  মনোমালিন্য  বড় করে না দেখে দেশ এবং জনগণের স্বার্থে  ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

‘সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন  অবশ্যই সফল হবে ইনশাল্লাহ।   সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে  আসন্ন দিনে  বিএনপিই সরকার গঠন করবে  ইনশাল্লাহ’ বলেন তারেক রহমান। তারেক রহমান বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নির্বাসিত। মানবাধিকার ভূলুন্ঠিত।   হত্যা, গুম খুন ধর্ষণ অপহরণ,  দুর্নীতি লুটপাট টাকাপাচার, প্রতিহিংসা-মিথ্যাচার-অপপ্রচার,  এসব কিছুকেই বর্তমানে সমাজ ও রাষ্ট্রের  স্বাভাবিক বৈশিষ্টে  পরিণত করে ফেলা হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, শুধুমাত্র  একজন মাত্র ব্যক্তির ক্ষমতালিপ্সার কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন। দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আজ কেবল  রাজনৈতিক-মানবিক অধিকারই হারায়নি। দেশে ধর্মীয় -সামাজিক মূল্যবোধেরও  চূড়ান্ত অবক্ষয় ঘটেছে।

তারেক রহমান বলেন, মহাজোট নামের আওয়ামী অপশক্তি এখন মডেল মসজিদ নির্মাণের নামে দুর্নীতি করে, গরিবদের ঘর বানিয়ে দেয়ার নামে দুর্নীতি করে, এমনকি প্রলয়ংকারী কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে  দুর্নীতি করতেও  এদের বিবেকে বাধেনা। দুর্নীতিই এদের নীতি।  এর কারণ, এই অপশক্তি  খোদ রাষ্ট্র ক্ষমতাই  কুক্ষিগত করে রেখেছে দুর্নীতির মাধ্যমে।

তিনি আরো বলেন, গুম-খুন-অপহরণ করে, সীমান্তের ওপারে  ফেলে রেখে আসার ভয় দেখিয়ে, কিংবা  র্যাব-পুলিশের বন্দুকের জোরে রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখলেও দেশে বিদেশে  নিশিরাতের সরকারের পরিচয়… ‘গভর্নমেন্ট অফ দ্যা  মাফিয়া বাই দ্যা মাফিয়া ফর দ্যা মাফিয়া’। 

বিএনপির ভার[প্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এই মাফিয়ারা দেশের বিরোধী দল, মত এবং  বা স্বাধীনচেতা, মানবিক মর্যাদা সম্পন্ন প্রতিটি মানুষকে, প্রতিনিয়ত অপমান-অপদস্থ  করছে।  মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাকামী মানুষের সঙ্গে হানাদারবাহিনীর যেমন আচরণ করতো  বর্তমান নিশিরাতের সরকার  নাগরিকদের সঙ্গে একই রকম আচরণ করছে।

তারেক রহমান আরো বলেন, ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়  হানাদারবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে না পেলে তাদের বাবা মা আত্মীয় স্বজনকে ধরে নিয়ে যেত। আর এখন স্বাধীন বাংলাদেশেও আওয়ামী পেটোয়াবাহিনী এবং লগি-বৈঠাধারী নব্য রাজাকাররা ভিন্ন দল-মত এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধকালীন পাক হানাদারবাহিনীর মতোই আচরণ করছে।

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান, ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের একজন নেতাকে না পেয়ে, মাগুরায় তার বাড়ি থেকে আওয়ামী পেটোয়া বাহিনীর সদস্যরা, তার বৃদ্ধ পিতা এবং চাচাকে এবং নিশিরাতের কতৃক তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

৯০ এর গণ আন্দোলনের শহীদ জেহাদ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়ে  একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্খায়  আত্মত্যাগ করেছিলেন ছাত্রদল নেতা  শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ।

 ‘আমি এসেছিলাম সামরিক স্বৈর সরকার উৎখাতের জন্য’ ‘আমি মৃত্যু পথযাত্রী, আমি তার পতন  দেখে যেতে পারলাম না, আমার মৃত্যু তখনই স্বার্থক হবে যখন আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈর সরকারের পতন হবে’, মৃত্যুর পূর্বে নাজির উদ্দিন জেহাদের এই উক্তিটি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জেহাদের স্বপ্ন সফল হয়েছিল। জাতীয় নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস, আর ছাত্র-যুব সমাজের সাহসী প্রতিরোধে, তৎকালীন স্বৈরাচারের পতন হয়েছিল। গণতন্ত্রে ফিরেছিল বাংলাদেশ। তবে গণতন্ত্রকামী জনগণের দুর্ভাগ্য,  ‘জাতীয় বেঈমান’দের কারণে দেশে গণতান্ত্রিক শাসন স্থায়ী  হতে পারেনি। বরং  বর্তমানে ৭৫ এর ৭ নভেম্বরের  পরাজিত অপশক্তি আর তাদের দোসরদের হাতে এখন খোদ বাংলাদেশটাই জিম্মি।

তারেক রহমান বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি করায় ৯০-এর ১০ অক্টোবর নাজির উদ্দিন জেহাদকে  পুলিশের গুলিতে জীবন দিতে হয়েছিল আর  জেহাদ হত্যার ৩২ বছর পর  এখন গণতন্ত্র দূরে থাক দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদার  পক্ষেও কথা বলা যায়না।

তিনি বলেন, দেশের মর্যাদার পক্ষে কথা বলায় ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর  বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ক্ষমতাসীন সরকারের ছাত্র সংগঠনের খুনিরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। আবরারকে যারা পিটিয়ে হত্যা করেছে তারা কেউ ভিনদেশি নয়। আবরার হত্যাকারীরা বাংলাদেশের আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা  লগি-বৈঠাধারী নব্য রাজাকার। এই নব্য রাজাকাররাই  অন্য দেশের স্বার্থ রক্ষায় স্বদেশী হত্যা করছে।

তারেক রহমান বলেন,  সাম্য, মানবিক মর্যাদা আর সামাজিক সুবিচার, মুক্তিযুদ্ধের এইসব মূলমন্ত্রে  যে দেশটি স্বাধীন হয়েছিল,  দেশটি এখন সেখানে নেই। বরং, গণতন্ত্র-ভোটাধিকার দূরে থাক, দেশের স্বাধীনতাই এখন হুমকির সম্মুখীন।

তারেক রহমান বলেন, নাজির উদ্দিন জেহাদ  দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ‘শহীদ’ আর   আবরার ফাহাদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা যুদ্ধের  প্রথম শহীদ। আবরার হত্যাকান্ড প্রমান করেছে  বেহাত বাংলাদেশ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশে গণতন্ত্র হত্যাকারী, ভোটাধিকার হরণকারী,  সীমান্তে ফেলানী হত্যাকারী, বুয়েটে আবরার হত্যাকারী, সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী কিংবা  কমিশনার চৌধুরী আলমদের গুম খুন অপহরণকারী, এই প্রতিটি খুন-অপহরণ-অপকর্মের পেছনে  একটাই উদ্দেশ্য, বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র  বানিয়ে রাখা।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, বাংলাদেশের  জাতীয়তাবাদী শক্তি,  বারবার প্রতিবার দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিলো। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর  সেনাবাহিনী এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানানোর চক্রান্ত রুখে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্রেই স্বাধীনতার ঘোষককে প্রাণ দিতে হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন,  বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির  ঐক্যের প্রতীক,  স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের আপোষহীন নেত্রী, মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া আজ যে প্রতিহিংসার বেড়াজালে বন্দি এটিও দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির  বিরুদ্ধে ধারাবাহিক চক্রান্তেরই অংশ।  

কারণ, বাংলাদেশের জনগণের কাছে  শহীদ জিয়া মানেই  মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। শহীদ জিয়া মানেই নৈরাজ্যমুক্ত আধুনিক বাংলাদেশ  খালেদা জিয়া মানেই  গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। খালেদা জিয়া মানেই দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক বাংলাদেশ। এখানেই অপশক্তির ভয়।  তাই, নিজেদের কলংকিত অতীত-বর্তমান ধামাচাপা দিতেই আওয়ামী গোষ্ঠী স্বাধীনতার ঘোষকের বিরুদ্ধে,  দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে  বিএনপির বিরুদ্ধে নিত্য-নিয়মিত  মিথ্যাচার-অপপ্রচার, বলেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, যারা এখন ক্ষমতা দখল করে রয়েছে  তাদের প্রতিটি ভোর আসে ক্ষমতা হারানোর আতঙ্ক নিয়ে। আর বিএনপি তথা গণতন্ত্রকামী  জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিটি নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভার্থীর  ঘুম ভাঙে একটি নিরাপদ, সুন্দর সোনালী ভোরের সম্ভাবনায়।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর , সরকার পতনে ‘নব্বইয়ের মতো আরেকটা গণঅভ্যুত্থান’ ঘটাতে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার আহ্বান জানান। ‘আসুন আর সময় ক্ষেপণ নয়, আর কাল বিলম্ব নয়। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি, ছাত্রদের ঐক্য গড়ে তুলি, বহুদলীয় ঐক্য গড়ে তুলি,’ বলেন মীর্জা আলমগীর।

মির্জা ফখরুল ইসলাম অতীতের বিভিন্ন আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রতিবার যুগে যুগে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এই তরুণেরা, এই যুবকেরা, এই ছাত্ররা। আজকে রুখে দাঁড়াতে হবে, ঘুরে দাঁড়াতে হবে তোমাদেরই। ‘আজকে তোমাদের দিকে ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে। যেমন গোটা জাতি আজকে তাকিয়ে আছে আমাদের নেতা তারেক রহমানের দিকে। ঠিক তেমনিভাবে আমরা সবাই তাকিয়ে আছি তোমাদের দিকে। তোমাদের জেগে উঠতে হবে, পরাজিত করতে হবে এই ভয়াবহ দানবীয় হাসিনা সরকারকে।’

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন  নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্র নেতা শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন, সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাবেক এমপি বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, সাবেক এমপি বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, সাবেক ছাত্রনেতা ডেমোক্রেটিক লীগের মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি, খন্দকার লুতফুর রহমান, সাইফুল আলম নিরব, আসাদুর রহমান খান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কামরুজ্জামান রতন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, নাজির উদ্দিন জেহাদের বড় ভাই কে এম বশিরসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল।

অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায়ই শুধু নয় তার আগেও মায়ের সঙ্গে মুক্তিযদ্ধের সময় বন্দি থাকা অবস্থা থেকে আজ পর্যন্ত সকল প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে তারেক রহমান নিজেকে গড়ে তুলেছেন।

সঙ্গবদ্ধভাবে মিথ্যাচার অপপ্রচার চালিয়েও নিশিরাতের সরকার তারেক রহমানের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। বরং, প্রমাণিত হয়েছে, তারেক রহমান জনগণের নেতা। তিনি দেশের তৃণমূল জনগণের বিশ্বস্ত বন্ধু। তিনি দেশনায়ক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান অনিবার্য নাম।

সভাপতির বক্তব্যে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে আন্দোলন আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তৎকালীন স্বৈরাচার এরশাদ সরকার একাধিকবার বন্দি করেছে। তাঁর  চলাফেরার উপর বাধা সৃষ্টি করেছে। স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে খালেদা জিয়ার কাছ থেকে আন্দোলনের নির্দেশনা সম্বলিত চিরকুট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে পৌঁছে দিতেন তারেক রহমান। ৯০ এর গণ আন্দোলনে তারেক রহমান ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং আন্দোলনকারী সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের মধ্যে সেতু বন্ধনেই ভূমিকা পালন করেছেন তারেক রহমান। স্বৈরাচারি এরশাদ টের পেয়ে তারেক রহমানের উপর শারীরিক হামলা চালিয়েছিল।

 ৯০ এর সময় তৎকালীন ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সভাপতি এবং বিএনপির সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের পরিচয় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। সেই মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ছোট্ট শিশু তারেক রহমান, স্বাধীনতার ঘোষকের পুত্র তারেক রহমান, দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র থাকা অবস্থায় তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। স্বৈরাচার সরকারের রোষানলে পড়ার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবন ব্যাহত হয়েছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close