সম্পাদকীয়

বরিস জনসন: চুলের মতোই সবকিছু ‌এলোমেলো

সম্পাদকীয় || ইস‍্যু ২২২৩
এই শতকের প্রথমভাগে যুক্তরাজ্যের দুটি বড় সফলতা পরপর দুটি অর্থনৈতিক মন্দা থেকে নিজেদের রক্ষা। যদিও শতকটি শুরু হয়েছিলো আফগানিস্তান আর ইরাকে টনি ব্লেয়ার’র দুই হটকারী ও অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে যোগ দেয়ার খারাপ সিদ্ধান্ত দিয়ে। ব্লেয়ার তার সেই রাজনৈতিক পাপের প্রায়শ্চিত্ত এখনো করছেন। জনসমক্ষে তিনি এক নিষিদ্ধ মানুষ। যেখানেই যান, বিক্ষুব্ধ মানুষ তাঁকে স্বাগত  জানাতে পঁচা ডিম্ আর মন্দ গালি দিতে মোটেই ভুল করেন না।

লেবার পার্টি যেকোনো নির্বাচনে দলের পক্ষে ভোট না চাওয়ার অনুরোধ করেন। এই হয়েছে তাঁর পরিণতি। ব্রেক্সিট ভোটের নানা কেলেঙ্কারি আর ব্রেক্সিট পরবর্তী অর্থনীতি, স্বাস্থ্য আর আইনশৃঙ্খলার অবনতি বিলাতের জীবনে একটা ভয়াবহ টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। বরিস জনসন তাঁর এলোমেলো চুলের জন্য বিখ্যাত। সংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত জীবনও নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ব্যক্তিগত জীবন বিশৃঙ্খল, পরিবারের আয়তন অনির্ধারিত অথবা সীমাহীন, পেশাগত জীবনে অনৈতিকতার দায়ে অভিযুক্ত আর আর সবশেষে দেশ চালাতে গিয়ে সকল ক্ষেত্রে ভজঘট বাঁধিয়ে বসে আছেন। করোনাকালে তাঁর স্বাস্থ্যমন্ত্রী যৌন কেলেঙ্কারিতে ফেঁসেছেন। তিনি সন্তান জন্মের এক বছর পরে গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করে ব্রিটিশ রাজনীতির পরিচ্ছন্ন জগতকে কলুষিত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই অবস্থায় পেট্রোল সঙ্কট এনএইচএস-এ কর্মী সংকট, সড়কে পুলিশের সংকট; করোনা উত্তর যুক্তরাজ্যকে কোথায় নিয়ে যায়, তা নিয়ে সকলেই কম বেশি উদ্বিগ্ন।

এলোমেলো চুলে যুক্তরাজ্যের সুশৃংখল জীবনধারাকে বরিস জনসন এলোমেলো করে দিয়েছেন। তার এই এলোমেলো শাসনের কবল থেকে ওয়েস্টমিনস্টার কবে মুক্তি পাবে সেটাও দিন গুনতে শুরু করেছেন অনেকে। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পালায় লেবার ও টোরি উভয় পার্টি রয়েছে বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকটে। নেতৃত্বের সংকট উত্তরণে ও নতুন নেতৃত্বে জন্য অপেক্ষা করছে বিলেতের রাজনীতি, সবকিছুকেই মোটামুটি একটা সুশৃংখল ধারায় ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়ে। এই অপেক্ষার দ্রুত অবসান কাম্য।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close