নিউজ

প্রসঙ্গঃ স্যার ও ম্যাডাম এবং ‘হাইব্রিড’ প্রতিমন্ত্রী

শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ

অনেকেই ভাবছেন আমি বোধহয় বিতর্কিত সরকারের ক্ষুদ্র প্রতিমন্ত্রীকে ধোলাই করতে লিখছি। কিন্তু বিষয়টি তা নয়। এই শিশু প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন যা বলেছেন, সেটি যদি তার অন্তর থেকে উঠে আসা বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি হয়, তবে এই সরকারকে আমি অপছন্দ করলেও ফরহাদ হোসেনকে আমি এসময়ের বীর বলেই সালাম দেবো।

বীর বলেছি এই কারনে, যে বিশাল এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সার্বভৌম(?) সামরিক ও বেসামরিক আমলা গোষ্ঠী সেই সাথে শক্তিশালী পেশাজীবী ও জুডিশিয়াল সিস্টেমের মারকুটে শক্তিশালী লোকজন, এই চক্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জনগণের মর্যাদা বাড়ানোর মতো একটি কথা বলা তাও রাষ্ট্রীয় সিস্টেমের তাবেদারি সরকারের মধ্য থেকে বলা সত্যিই সাহসের বিষয়। ফরহাদ হোসেন নিশ্চয়ই জানেন যেদিন তার সরকার থাকবে না, সেদিন থেকেই এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা তার প্রতিপক্ষ হয়ে থাকবে আজীবন। তার দলও তাকে সহায়তা দেবে না। তাই বীরের উচ্চারন না হলে ফরহাদ হোসেন অচিরেই তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেবে ক্ষমা চেয়ে। আর সেটি হলে তার জন্য হাইব্রিড শব্দটি স্থায়িত্ব পাবে।

এইবার আসি আমাদের শক্তিশালী বেসামরিক- সামরিক আমলা, পেশাজীবী এবং জুডিশিয়াল সিস্টেমের লোকজনের বিষয়ে। পাকিস্তান আমলে পরের বাড়িতে লজিং থেকে উচ্চ শিক্ষিত হয়ে সিএসপি, ইপিসিএস বা পিএসপি হয়ে অনেকেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন; এদের অনেকের পারিবারিক ঐতিহ্য বা মর্যাদাবোধ থাকলেও বাংলাদেশ আমলে বিসিএস করে আমলা হওয়াদের মধ্যে কতজনের কি পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড আছে সে নিয়ে লিখতে চাই না, তবে এদের অনেকের হঠাৎ হওয়া প্রতিষ্ঠাকে কে কিভাবে ব্যবহার করছে তা পুরো জাতিই জানে; যদিও সে জানায় কেউ কখনো লজ্জিত হয়েছে কিনা এমন কোন উদাহরন জাতির সামনে আজো নেই। তাই এদের কাছে সম্মানিত হওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে এই স্যার বা ম্যাডাম শব্দটি শোনা, অবিরত শোনা। যে কারনে অধিকাংশ আমলাই অবসরে যাওয়ার পরে কোন না কোন ভাবে রাজনীতিতে উঁকিঝুঁকি মারতে পছন্দ করেন।

আর জনগণ? এরা যেদিন তাদের কোন অভিযোগ আবেদন সরকারী অফিসে করে ডাকযোগে বা ইমেইলে ঘরে বসে তার একনলেজমেন্ট বা পরবর্তী করনিয় বিষয়ে একটি সরকারী চিঠি পাবেন, সেদিন তারা জাতি হয়ে উঠতে পারবেন কিনা জানি না, তবে এগিয়ে যাবেন অনেকখানি। কারন সেই চিঠিতে সরকারী কর্তারা প্রাপককে জনাব বা স্যার বা ম্যাডাম বলা শুরু করবেন। যে কারনে এখনো জাতি সরকারী দপ্তর থেকে কোন উত্তর পান না, উত্তর পেতেও তাকেই সরকারী দপ্তরেই যেতে হয় দিনের পর দিন।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ বলেছেন, হাসিমুখে #সেবা দেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ব্যবহার দুর্নীতির শামিল; যদিও এই সরকারের সময়ে দুর্নীতি কিভাবে জাতিকে গ্রাস করেছে তা জাতি ও বর্তমান প্রজন্ম হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। আর হাসিমুখের কথা? হাসতে হাসতে প্রতিপক্ষকে কিভাবে হত্যা করতে হয় তাও এই সরকারই দেখিয়েছে; ব্যক্তিগতভাবে এই সরকারের সাথে আমার অভিজ্ঞতা নেই, তবে আগের রাজনৈতিক সরকার হাসতে হাসতে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, নির্যাতন করে পঙ্গু করে দিয়েছে পোশাক পড়া আমলাদের দিয়ে, সেই অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। বড় বড় মানুষকে বিপদে ফেলে রাষ্ট্রের কর্মচারীরা কিভাবে স্যার আদায় করে নেয় তা দেখেছি কয়েক যুগ। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও প্রচুর।

আমাদের আজব এক জাতি, আজব এক স্বাধীনতা; যে স্বাধীনতা নিয়ে এই জাতি আছে, এই রকম স্বাধীনতার জন্য এতো মানুষের জীবন দেয়ার বিষয়টি কখনো যদি ভিন্নভাবে মূল্যায়ন হয়, সেদিন অন্তত আমি আশ্চর্য হবো না। আশ্চর্য হবো যদি এই সরকার স্যার আর ম্যাডামের প্রচলন বন্ধ করতে পারে।

  • শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ- প্রেসিডেন্ট, লিবারেল পার্টি বাংলাদেশ , Email: lpbpresident@gmail.com

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close