সম্পাদকীয়

ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক বনাম …

সম্পাদকীয় ।। ইস‍্যু ২২১৮
বাংলাদেশের সাথে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় কোনো সম্পর্ক আছে কি নেই তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তবে কিছুদিন পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা থাকতো ইসরাইল ব্যতিত সকল রাষ্ট্রে ভ্রমণ করা যাবে। কিন্তু সম্প্রতি এ কথা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। দেশের নাগরিকদের অন্ধকারে রেখে বর্তমান সরকার অনেক কিছুই করছে। কিন্তু এ ব্যাপারে দেশের সচেতন নাগরিকরা কতটুকু সচেতনতা প্রদর্শন করছেন তা একটি প্রশ্ন সাপেক্ষ বিষয়।

ইসরাইল একটি ধর্মবাদী রাষ্ট্র। পৃথিবীর অধিকাংশ ধর্মনিরপেক্ষ বা ধর্মহীন রাষ্ট্রের সাথে ইসরাইলের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। স্বীকৃতি না দিয়েও অনেক রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এবং হয়তো গোপনে বাংলাদেশও তা করছে। তবে আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয় ভিন্ন প্রসঙ্গ।

ইসরাইলকে স্বীকৃতি নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বিতর্ক আছে। কিন্তু ইসরাইল তার নাগরিকদের, ফিলিস্তিনি ছাড়া, যে সকল সুযোগ সুবিধা ও সেবা প্রদান করছে তা অতুলনীয়। আরব বংশদ্ভূত যে সকল নাগরিক ইসরাইলে বাস করছেন তাদের অবস্থান সেখানে সেকে-ক্লাস সিটিজেন’র মতো। উল্লেখ্য, জবরদখলকারী ও জোরকরে সীমানা বর্ধনকারী ইসরাইল রাষ্ট্রে এখনো ১৭.৯% শতাংশ মুসলমান বাস করছেন, যেখানে ১৯৪৮ সালে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৯০% শতাংশ। কোনো সেকুলার রাষ্ট্রের নীতির সাথে এ গুলো সম্পূর্ণ বেমানান। ইসরাইল এবং ভারত—পৃথিবীর এ দুটি রাষ্ট্র ভিন্নধর্মাবলম্বীদের সাথে সুস্পষ্ট ভাবে বৈষম্যমূলনক ও বর্ণবাদী আচরণ করছে যা সেকুলার মূলনীতি এবং গণতন্ত্রের পরিপন্থী।

রাষ্ট্রের প্রদান কাজ হচ্ছে এর নাগরিকদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করা, নিরাপত্তা বিধান এবং জনশক্তি উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। ইসরাইল নিজ রাষ্ট্রের ইহুদি ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ব্যাপারে একশভাগ অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং তা বাস্তবায়নও করছে। এ জন্য রাষ্ট্রের পরিচালনায় যারা আছেন তারা অবশ্যই ধন্যবাদার্হ। ইসরাইল তার নাগরিকদের অর্থনৈতিক ভাবে স্বনির্ভর করতে পেরেছে। তাদের জনশক্তির মাথাপিছু আয় বিশ্বের বহু উন্নত দেশের চেয়ে বেশি। রাষ্ট্রের একশ’ ভাগ নাগরিক শুধু লেখাপড়া জানেন তা নয়, সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত। কভিড-১৯’র সংক্রমণ ক্রমবর্ধমান থাকার পরও ইসরাইলের শিক্ষা-বিভাগ কর্তৃপক্ষ গ্রীস্মের ছুটির পর সকল স্কুল খুলে দেয়ার জন্য বদ্ধপরিকর। ইসরাইলের সকল ইহুদি নাগরিকের সামরিক ট্রেনিং রয়েছে। ইসরাইলের লাখ লাখ শিক্ষিত নাগরিক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উচ্চপদে কর্মরত আছেন। তাদের দেশ প্রেম এতই তীব্র যে বিদেশে থেকেও তারা নিজ নিজ সুযোগ ও যোগ্যতা অনুসারে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। রাষ্ট্র যখন তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ডাক দেয় তখন তারা লাব্বায়েক বলে দেশে ফিরে যেতে গড়িমসি করে না। ইসরইলের ৬০% শতাংশ লোক কভিড-১৯’র দ্বিতীয় টিকা পেয়েছেন এবং ২০ লাখের বেশি নাগরিককে তৃতীয় বুস্টার ডোজ দেয়া হয়েছে। গত জুন মাসে সেখানে কভিড-১৯’র কারণে আরোপিত সকল বিধি-নিষেধ তুলে দেয়া হয়েছে।

জনকল্যাণ, জননিরাপত্তা, জনশিক্ষা, জনশক্তি উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে যায়নবাদী ইসরাইল রাষ্ট্রের পরিচালকদের নিকট থেকে মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানদের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। কিন্তু আমাদের কি সে মানসিকতা বা ইচ্ছে আছে?

সম্পরকিত প্রবন্ধ

এছাড়াও চেক করুন
Close
Back to top button
Close
Close