সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় ।। ইস‍্যু ২২১৪

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক । এই সম্পর্ক কোন পর্যায়ে আছে সেটা বোঝার জন্য দুই দেশের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ এবং জনগণের অনুভূতি বুঝার চেষ্টা করাই যথেষ্ট । একতরফা ট্রানজিট, প্রতিরক্ষা চুক্তি সবদিক থেকেই বাংলাদেশ ভারতকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক সুবিধা দেওয়ার কথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিপূর্বে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন তিনি “ভারতকে যা দিয়েছেন তা কখনো ভারত ভুলতে পারবেনা”। কিন্তু ভারতের কাছ থেকে তার বিনিময়ে তিস্তার পানি, সীমান্তে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আর বাণিজ্য ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এক বিন্দু আদায় করতে পেরেছে এমন দাবি সরকার কখনো করেনি। এমনকি ভারত সরকারও এ ধরনের সম্প্রদানের দাবি করেননি। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের লেনদেনের হিসাব বোঝার জন্য কূটনীতি বিশেষজ্ঞ হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশের অনির্বাচিত সরকারকে কূটনৈতিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য করে রাখার ভারতীয় সহায়তার বিনিময় ভারতকে একতরফা সকল সুবিধা প্রদানের হিসাব কিতাব এখন দুই দেশের সাধারণ মানুষের কাছেই স্পষ্ট। এই সম্পর্ক শেষ  কোথায় সেটি হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এমন সম্পর্ক স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের মুজিব সরকারের সঙ্গে ইন্দিরা সরকারের ছিল তাতে মুজিব সরকার কি শেষ রক্ষা করতে পেরেছিলেন? না পারেননি । বরং ১৫ আগস্ট এর পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হাত থাকার সম্ভাবনা প্রমাণিত হয় যখন দেখা গেলো ১৭ আগস্ট ভারতীয় হাইকমিশনার সমর সেন বঙ্গভবনে খন্দকার মোশতাককে সকল কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে গলায় ফুলের মালা দিয়ে অভিনন্দন জানান।

 সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র এর কয়েকজন  অপারেটর ধরা পড়েছে মর্মে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, ইতিমধ্যে তা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। যদিও এই খবরগুলো সরকারিভাবে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এইসব গোয়েন্দাদের পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে খবর প্রকাশ না হওয়ায় এটা ধারণা করার যথেষ্ট কারণ আছে যে এগুলো পুরোটাই অবান্তর এবং আইওয়াশ মাত্র। বাংলাদেশের ভেতরে তীব্র ভারতবিরোধী মনোভাবকে সামাল দিতে এবং জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তথাকথিত এসব গোয়েন্দা গ্রেপ্তারের খবর। অনেকটা যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাজানো বিচার নাটকের মতই! “আমি দাঁড়িয়ে যাবো; আপনি বসিয়ে দিবেন। যাতে কেউ মনে করতে না পারে যে আমাদের মধ্যে কোনো সমঝোতা আছে”। একতরফা বন্ধুত্বই বলুন আর এসব গোয়েন্দা নাটক বলুন, কোনো নাটক বা সাজান দৃশ্যপট ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণ করে না । ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণ করে প্রকৃত কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং জনগণের শাসনের স্বচ্ছতা ও সততার উপর। সুতরাং নাটক বাজ মতলববাজ আর কূটনৈতিক সম্পর্কের আবরণে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া মানুষগুলোর সঠিক ভূমিকা রাখার এখনো সময় আছে । জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষায় এটাই হচ্ছে সবচেয়ে সার্বজনীন বিষয়। সুতরাং সময় থাকতে সাধু সাবধান।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close