সম্পাদকীয়

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও ইতিহাসের নতুন অধ্যায়

এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় ।। ইস‍্যু ২২১৩

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিন সরকারীভাবে পালন করা হলো। প্রকাশ করা হলো স্মারক ডাকটিকিট ও পোষ্টাল খাম‌। এটি নজিরবিহীন। কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক। সরকারের পাশাপাশি আমরাও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাই। 

জয়ের জন্মদিনে সরকারী আনুষ্ঠানিকতায় প্রধানমন্ত্রীর খবর ঢাকার পত্রিকায় এভাবে প্রকাশিত হয়েছে— “২৫শে মার্চের ভয়াল রাতের ঘটনা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বন্দি অবস্থায় মেডিকেলে জয়ের জন্ম হয়। পরে বাচ্চা নিয়ে কারাগারে এলে একজন পাকিস্তান সেনা অফিসার জিজ্ঞেস করে তার নাম কী? আমি বলি জয়। বলে মানে কী? বলি, জয় মানে জয়, ভিক্টরি। তখন এই ছোট্ট শিশুকেও তারা গালি দেয়। তিনি বলেন, ‘আজ তার (জয়ের) জন্মদিন। ৫০ বছর বয়স হলো জয়ের।” খবরটা সাদামাটা হলেও প্রধানমন্ত্রী ইতিহাসের অপ্রকাশিত পাতা খুলে দিয়েছেন এখানে। এতদিন জাতি জানতো শুধু বঙ্গবন্ধুকে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে অন্তরীণ করে। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন জয়ের জন্মের আগে পরে তিনিও জেলখানায় ছিলেন। এটা অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কোন ছেলে ছিলেন, ক্যামন ছিলেন? তাঁর সঙ্গে পাকিস্তান বাহিনীর আচরণ কেমন ছিলো? বঙ্গবন্ধুর লেখা “কারাগারের রোজনামচা”র মতো শেখ হাসিনাও আশাকরি আরেকটি বইতে সেই ৯মাসে তাঁর কারাগারের বিস্তারিত জাতিকে অবহিত করবেন। ইতিহাসকে করবেন সমৃদ্ধ।
এছাড়া সন্তান সম্ভবা একজন ‘রাজবন্দীকে’ কারাগারে রাখা ও  শিশু জয়ের প্রতি অশোভন আচরণের জন্য পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে একটা আন্তর্জাতিক তদন্তেরও দাবি জানাতে পারেন।
সরকারীভাবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন পালনের আরেকটি তাতপর্য আছে। এতদিন দুই পরিবারের কবল থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিকে মুক্ত করার দাবি যারা করতেন, তাদের জন্য এটা একটা বড় সুখবর। বঙশ পরিচয়ের পুরুষতান্ত্রিক সূত্রে জয় ওয়াজেদ পরিবারের উত্তরাধিকার, মুজিব পরিবারের নয়। সুতরাং জাতীয়ভাবে ওয়াজেদ পরিবারের অভিষেক করে প্রধানমন্ত্রী নি:সন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সূচনা করলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেকটি পরিবারকে অভিনন্দন।

ওয়েলকাম — ওয়াজেদ পরিবার।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

এছাড়াও চেক করুন
Close
Back to top button
Close
Close