নিউজ

বাংলাদেশ–জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে সিরিজ: এক যুগ পর বিদেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশের আনন্দ

।। মুহাম্মাদ শরীফুজ্জামান ।।

লেখক: কবি। সুরমার স্পোর্টস রিপোর্টার

লণ্ডন, ২১ জুলাই : একমাত্র টেস্টে জয়ের পর স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ও জিতল বাংলাদেশ। গত ২০ জুলাই, মঙ্গলবার সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ৫ উইকেটে জয়লাভ করে তামিম ইকবালের দল। তিন ওয়ানডে ম্যাচের এই সিরিজে এর আগে প্রথম ওয়ানডেতে ১৫৫ রানের বিশাল জয় ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩ উইকেটের জয় পাওয়ার ফলে এক যুগ পর বিদেশের মাটিতে কোনো ওয়ানডে সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাটিতে ধবলধোলাই করেছিল সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশ।

সদ্য সমাপ্ত এই সিরিজের আগে জিম্বাবুয়ের সাথে বাংলাদেশ যে ৭৫টি ওয়ানডে খেলেছে তার ৪৭টিতেই জিতেছে।  এর মধ্যে ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশের সাথে জিম্বাবুয়ের জয় অধরা। এই সময়কার মধ্যে সদ্য সমাপ্ত সিরিজের আগে দুই দল একে-অন্যের মুখোমুখি ১৬ বার হলেও একটিতেও জিম্বাবুয়ে জয় লাভ করতে পারেনি। তাই বর্তমান বাস্তবতায় ফলটা প্রত্যাশিত ছিল, বরং বাংলাদেশ একটি ম্যাচ হারলে তা হতো অঘটন।

অথচ একটা সময় জিম্বাবুয়েকে হারানোও ছিল বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মতো। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, গ্রান্ট ফ্লাওয়ার, নিল জনসন, মারে গুডউইন, গাই হুইটাল, অ্যালেস্টার ক্যাম্পবেল, পল স্ট্র্যাং, ব্রায়ান স্ট্রাং, শন আরভিন, হিথ স্ট্রিকদের সেই জিম্বাবুয়ে ছিল বাংলাদেশের জন্য একরকম পরাশক্তি। তাদের কাছে প্রথম ১০ ওয়ানডেতেই হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়েকে যখন প্রথমবার হারায় বাংলাদেশ। সেদিন সারা দেশে যেন আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। ঢাকাসহ দেশের অনেক জায়গায় বিজয় মিছিলও হয়েছিল। সময়ের পরিক্রমায় নানা কঠিন বাস্তবতায় জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট তার দাপট এখন অনেকটা হারিয়েছে আর ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ শক্তিশালী এক দল হয়ে উঠেছে।

 তাই বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য এমন সিরিজ সাধারণত দল নিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য ছিল আদর্শ। বাংলাদেশ দল ভালো ভাবেই সেটা করতে পেরেছে। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম দলে না থাকায় মিডল অর্ডার নিয়ে হয়েছে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মিডল অর্ডারে নাম লেখানোর সুযোগ ছিল মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন ও নুরুল হাসানের। তবে সুযোগটা মোহাম্মদ মিঠুন ও মোসাদ্দেক হোসেন কাজে না লাগাতে পারলেও নুরুল হাসান শেষ ম্যাচে ৪৫ রানে অপরাজিত থেকে ভবিষ্যৎ মিডল অর্ডারের সম্ভাব্য প্রতিনিধির তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। এই সিরিজে আবার বাংলাদেশি টপ অর্ডারে তিন ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে এসেছে তিনটি বড় ইনিংস। প্রথম ম্যাচে লিটন দাস। দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিব আল হাসান। তৃতীয় ম্যাচে তামিম ইকবাল। তিনজনই করেছেন সেঞ্চুরি। টপ অর্ডারের এমন পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ দল তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতেই পারে। কারণ বর্তমানে ওয়ানডে দলের মূল লক্ষ্যটা ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়া। সেই লক্ষ্যে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে ৩০ পয়েন্ট পাওয়ার পর এই সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার ফলে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগে আরেকটি সিরিজ থেকে পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট পেল বাংলাদেশ। সুপার লীগের পয়েন্ট টেবিলে বর্তমানে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৮০ এবং অবস্থান দ্বিতীয়। সামনে সুপার লিগের আরো ১২টি ম্যাচ আছে। সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়ার জন্য তাই সামনের প্রত্যেকটি ওয়ানডে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই হোয়াইটওয়াশের আনন্দে আত্মহারা না হয়ে তামিম ইকবালদের সামনের ম্যাচগুলোতে হোয়াইটওয়াশের এই স্পিরিট ধরে রাখতে হবে। এই ম্যাচের ছোটখাটো ভুলগুলোকে শুধরাতে হবে। ভালোর যে শেষ নেই।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close