নিউজ

বাংলাদেশের বন্ধু সাংবাদিক সায়মন ড্রিং মারা গেছেন

লণ্ডন, ২৩ জুলাই : বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সায়মন ড্রিং কিছুদিন ধরে তিনি রুমানিয়ায় বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি হার্নিয়ার অপারেশনের পর হাসপাতালে তিনি হৃদ রোগে আক্রান্ত হন এবং অসুস্থ অবস্থায় গত ১৬ জুলাই, শুক্রবার রুমানিয়ার একটি হাসপাতালে মারা যান।

রয়টার্স, টেলিগ্রাফ ও বিবিসির হয়ে সায়মন ড্রিং দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। এ ছাড়া বৈদেশিক সংবাদদাতা, টেলিভিশন উপস্থাপক এবং তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি টেরেস্ট্রিয়াল টেলিভিশন স্টেশন একুশে টেলিভিশনের যাত্রা শুরুর সময় সাইমন ড্রিংয়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করার আগে ঢাকায় অবস্থানরত প্রায় দুইশ বিদেশী সাংবাদিককে আটকে ফেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। তাদের হোটেল থেকে সরাসরি বিমানে তুলে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় যাতে গণহত্যার কোনও খবর সংগ্রহ করতে না পারে বিশ্ব গণমাধ্যম। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং। পাকিস্তানী সামরিক আইন না মেনে তিনি হোটেলে লুকিয়ে পড়েন। শ্বাসরুদ্ধকর ৩২ ঘণ্টা সময় কাটে হোটেলের লবি, ছাদ, বার, কিচেনের মতো জায়গায়। পরবর্তীতে তার তথ্য থেকেই বিশ্ব জানতে পারে গণহত্যার বাস্তব চিত্র। ২৭ মার্চ কারফিউ উঠে গেলে সায়মন ড্রিং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকাসহ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘুরে দেখেন।

১৯৭১ এর ৩০ মার্চ ল-নে ফিরে যেতে বাধ্য হলেও আবারও ফিরে আসেন বন্ধুদেশে, সাংবাদিকতার স্বপ্ন নিয়ে। গড়ে তোলেন দেশের প্রথম আধুনিক বেসরকারি টিভি একুশে টেলিভিশন। ২০০২ সালে সে সময়ের সরকার তাকে বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য করে। এরপর আবার ২০১৩ সালে বাংলাদেশে আসেন সায়মন। বার বার এই বন্ধু ফিরে এসেছেন নানা স্বপ্ন বুনতে। মানসম্মত ও পেশাদার সাংবাদিক, কলাকুশলীদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তৈরী করেন অনেক নাম করা সংবাদকর্মী।

সাইমন ড্রিংয়ের জন্ম ইংল্যাণ্ড, ১৯৪৫ সালে। তিনি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন ১৮ বছর বয়স থেকে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close