সম্পাদকীয়

এই লজ্জা রাখি কোথায়?

সুরমার এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় ।। ইসু‍্য ২২১০
এতোদিন সরকারের সমালোচকরা যা বলতেন, এবার বিশ্বসভাও বাংলাদেশকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তা’ বলতে শুরু করেছে। রিপোর্টার্স সেন্স ফ্রন্টিয়ার্স ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সবচেয়ে প্রভাবশালী ও নির্ভরযোগ্য সংগঠন। বাকস্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক রেটিংয়ে বাংলাদেশ ২০২১-এ ১৫২ নাম্বারে নেমেছে। আর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধমের শিকারী (অন্য অর্থে ঘাতকদের) তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার কিম জং, রাশিয়ার পুতিন আর সৌদি আরবের সালমানদের মতো গণমাধ্যমের কাছে চরম দাগী লোকদের তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে চরম লজ্জাজনক।

বাকস্বাধীনতা আর গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য লাখো শহীদ রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে, তা আজ বিশ্বের দরবারে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? আল জাজিরা সাম্প্রতিক সময়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য বিশ্বের দুর্নীতিবাজ আর স্বৈরাচারী সরকারগুলোর কাছে সাক্ষাৎ এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশকে নিয়ে “অল আর প্রাইম মিনিস্টার’স মেন্” সম্প্রচারের পর সরকার কোনো বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত না করে আল জাজিরাকে আক্রমণের পথ বেঁচে নেয়। প্রকারান্তরে সরকার চ্যালেঞ্জ না করে এবং হঠকারিতার মাধ্যমে নিজেই আল জাজিরার উত্থাপিত অনুসন্ধানী রিপোর্টকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে দেয়. বলা হয়েছিল আল জাজিরার বিরুদ্ধে সরকার মামলা করবে। ৫ মাস পরও সেই পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। সুতরাং আল জাজিরার উপর সরকারের মন্ত্রীদের বিষোদ্গার আর তথ্যকে পেশীশক্তিতে মোকাবেলার দৃষ্টান্ত আজকের তালিকার ভিত্তি হিসেবে হয়তো কাজ করে থাকতে পারে। আর ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টের খড়গ, কারাগারে মুশতাকের মৃত্যু আর গুম-অপহরণের মাধ্যমে মৌলিক অধিকারগুলোকে পায়ে পিষে ফেলে রক্তে অর্জিত পবিত্র সংবিধানকে পর্যন্ত এখন গুম করা হলো । তাহলে মানুষ সৃষ্ট এই লজ্জা আর অপমান অবশ্যই বাংলাদেশের নয়, বরং জনগণের কণ্ঠরোধ করে, আত্ম নিয়ন্ত্রণের অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে থাকা গোষ্ঠী ও ব্যক্তি বিশেষের। সুনির্দিষ্টভাবে আরএসএফ এই দায় দায়িত্বের জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করেছে। এখন বাংলাদেশ সরকারকে বলতে হবে এই ব্যাপারে তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান। বলতে হবে এই দায় প্রধানমন্ত্রী কতটুকু নেবেন। অথবা আদৌ নেবেন কিনা? কিন্তু এটা স্পষ্ট করে বলতে হবে সরকারের কর্ম অথবা অপকর্মের দায় বাংলাদেশকে কেন নিতে হবে? বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ কেনে এই কালো তালিকার দায় নেবে?

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close