আন্তর্জাতিকফিচারবাংলাদেশহোম

ইসরাইলী প্রেম ও ফিলিস্তিনকে অবজ্ঞার ময়না তদন্ত : শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ

ইসরাইলের প্রতি শেখ হাসিনার সরকারের এতদিনের লুকিয়া রাখা সম্পর্কের বিষয়টি রাখঢাক না রেখেই সামনে নিয়ে এসেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই। পাসপোর্টের চরিত্র পরিবর্তনের বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের করা মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, কোন রাষ্ট্রদূত কে কি বললো, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমাদের পররাষ্ট্র নীতি আমরা নিজেরা ঠিক করি।

আমরা জানি যে, বাংলাদেশের শেখ হাসিনার আওয়ামী সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশের নয়া পাসপোর্ট থেকে ইসরাইলে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তুলে দেয়ায় চারিদিকে শোরগোল পরে গেছে। যদিও বাংলাদেশের অনেকেই এই নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও ইসরায়েল ভ্রমন করেছেন, এমনকি অনেক অফিসিয়াল লোকজনও অহরহ ইসরায়েল সফর করেছেন। অনেকেই হয়তো জানেন না যে, আওয়ামী লীগের এই সরকার ইসরাইলের সাথে অনেক আগে থেকেই সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এমনকি আমাদের কিছু গোয়েন্দা বিভাগের প্রশিক্ষনেও ইসরায়েল সম্পৃক্ত। এই কাজগুলো অফিসিয়ালিই করা হয়। আমি এই কাজগুলোতে দোষের কিছু দেখি না। গোপন সম্পর্ক না করে খোলাখুলি সম্পর্ক করলেই ল্যাঠা চুকে যায় এবং এটি স্বাস্থ্যকরও বটে। যে কাজটি সরকার এখন করছে সেটি আরও অনেক আগে না করে এখন করছে কেন, বিষয়টাতে প্রশ্ন জেগেছে সেখানেই। এমনিতেই শেখ হাসিনার সরকারের কোন কর্মকাণ্ড রুখে দেয়ার মতো কোন রাজনৈতিক শক্তি তিনি অবশিষ্ট রাখেন নাই। যেটুকু বাঁধা মোল্লাদের কাছ থেকে আসার সম্ভাবনা ছিল, সেই মোল্লারাই নিজেরা নিজেদের সর্বনাশ করে রেখেছেন। এরপরেও প্রশ্ন জাগে এখন কেন? চারিদিকে করোনায় বিশ্বব্যাপী প্রতিটি জাতি নিজেদের রক্ষায় ব্যস্ত কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার ব্যস্ত অন্য কিছুতে।

তাই প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক। কেউ কি বিশ্বাস করবে যে, শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত মেধাবী সরকার? আসলে অত্যন্ত মেধা নিয়ে সরকার পরিচালিত হচ্ছে, আর এই মেধা সরকারে নাজেল হয় অদৃশ্যভাবে; কারন সরকারের লোকজন এতো মেধার অধিকারী বলে বিশ্বাস করার কোন কারন নাই। আমার কাছে যতটুকু তথ্য রয়েছে, তাতে সরকার এখন এমন এক জটিল আন্তর্জাতিক সমীকরণের মধ্যে পড়েছে যেখানে তার শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা। এই অবস্থায় সরকারের যে কোন সময়ে রক্তপাতহীন বা রক্তমাখা অবস্থায় পতন হয়ে যেতে পারে। ভারত ও চীনের সাথে দ্বৈত প্রেম বজায় রাখতে গিয়ে এই অবস্থা হয়েছে। শেখ হাসিনা ইচ্ছে করলেই ভারতকে ত্যাগ করতে পারছেন না; কারন তার নিরাপত্তা এমনকি ব্যক্তিগত স্টাফ পর্যায়েও ভারতীয়দের লোকজন অবস্থান করছে। পুরো সরকারের কমপক্ষে ৮০% লোক প্রকাশ্যে ভারতের দালালিতে জড়িত অত্যন্ত আন্তরিকভাবে। অন্যদিকে গরীব ভারতের প্রেমকে পাশ কাটিয়ে নিজের দল ও সরকার বাঁচাতে টাকাওয়ালা চীনের সাথে মজবুত সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন শেখ হাসিনা। এই সম্পর্ক অতীতের যে কোন বাংলাদেশী সরকারের সাথে চীনের সম্পর্কের চেয়ে গভীর। এই পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু দৃশ্যপটে এই অঞ্চলে ভারতের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অবতরন করায় শেখ হাসিনা তার সঙ্কট অনুধাবন করতে পেরেই নতুন এই মিশনে নেমেছেন। যে কোনভাবেই হোক চীনকে হাতে রাখতেই হবে; ভারতকেও নাখোশ করতে পারবেন না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে সামলাবে কে? শেখ হাসিনা জানেন যুক্তরাষ্ট্র কতদূর করতে পারে। কিভাবে আমের ঝুড়িও কাজে লাগায় তারা; কিভাবে কুয়েত থেকে উঠিয়ে এনে কাজে লাগিয়ে তাদের টার্গেটকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়। এখন যে আর কাজের বুয়া মরজিনা বলে লাভ হবে না; সেই ইঙ্গিতও পেয়ে গেছেন। তাই তড়িঘড়ি করেই ইসরাইলের দিকে হাত বাড়ানো।

কেউ কেউ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ককে বেগম জিয়ার তাইওয়ানের সাথে সম্পর্কের তুলনা করছেন। কিন্তু সেই ধারনা ঠিক নয়। বেগম জিয়া কেন তাইওয়ানের দিকে ঝুকে পড়েছিলেন অনেকেই হয়তো জানেন না; সেটি এই যাত্রায় বলবো না; যদিও তাইওয়ানের মিশনটি সফল করতে তিনি আমাকেই পাঠিয়েছিলেন। আমি সফলতা এনে দিয়েছিলাম কিন্তু বেগম জিয়ার অর্বাচীন লোকজনের জন্য সেই সফলতা তিনি ধরে রাখতে পারেন নাই। তবে শেখ হাসিনার কাজ চালানোর জন্য যারা আছেন তারা অতটা বেকুব না। তারা সঠিক সময়েই সঠিক কাজটি করেছেন এ পর্যন্ত নিজেদের রক্ষার জন্য; তাতে জাতি বাঁচুক আর মরুক কিছুই আসে যায় না।

ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক দিয়ে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত উভয়কে সামলাতে চেষ্টা করবেন; এটি সফল হবে নাকি ব্যর্থ হবে সেটি ভবিষ্যৎ জানে, তবে বর্তমানের জন্য এর চেয়ে বড় কার্ড আর তার হাতে খেলার জন্য নাই। আর চীন তো তার আত্মার সাথে নতুন করে মিলেই গেছে; এমনকি যে কোন পরিবর্তনে জাতির সামনে চীনই সবচেয়ে বাধা। সেই জন্যই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে পারছেন কোন রাষ্ট্রদূত কে কি বললো, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। অথচ তিনি একবারও ভাবেন নাই বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ইসরাইলের দেয়া স্বীকৃতি ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের হাজার হাজার যুবক ও সেনাবাহিনীর লোকজন ফিলিস্তিনের জন্য সশস্ত্র লড়াই করে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। ইতিহাস যার স্বাক্ষি।

লেখক: প্রেসিডেন্ট, লিবারেল পার্টি বাংলাদেশ

সম্পরকিত প্রবন্ধ

এছাড়াও চেক করুন
Close
Back to top button
Close
Close