নিউজ

লুৎফুর রহমানের প্রত‍্যাবর্তন

*টাওয়ার হ্যামলেটসে মেয়র পদ্ধতির পক্ষে বিশাল গণরায়, নিউহামেও জয়
*জনগণকে অভিনন্দন, বারা পরিচালনার দায়িত্ব তাদের : নির্বাচনত্তোর প্রতিক্রিয়ায় লুৎফুর রহমান

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ১২ মে : লণ্ডনের বিপুল বাংলাদেশী অধ্যূষিত দুটি বারা টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহামে সরাসরি ভোটে নির্বাহী মেয়র পদ্ধতির জয়লাভ করেছে। তম্মধ্যে বহুল আলোচিত টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র পদ্ধতির পক্ষে বিশাল সমর্থন জানিয়েছেন বারার জনসাধারণ। আর এই বিশাল বিজয়ের মাধ্যমে নানা কূটকৌশলে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমানের আবার রাজনীতিতে ফেরার শক্তিশালী সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ নির্বাহী মেয়র পদ্ধতি বহাল রাখার পক্ষে সর্বাত্মক সক্রিয় থেকে ক্যাম্পেইনে নেতৃত্ব ছিলেন বারার জননন্দিত রাজনীতিক লুৎফুর রহমান। এদিকে নিউহ্যামে ৪৪ হাজার ভোট পেয়েছে মেয়র পদ্ধতি জয় যুক্ত হয়েছে আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৩৮ হাজার।

প্রিণ্ট ভার্সন

গত ৬ মে স্থানীয় নির্বাচনের সাথে টাওয়ার হ্যামলেটসে বাড়তিভাবে অনুষ্ঠিত হয় রেফারে-াম। রেফারে-ামে ‘মেয়রশীপ ইন টাওয়ার হ্যামলেটস’র কাছে লজ্জাজনক ফলাফলের মাধ্যমে ‘লিডারশিপ ইন টাওয়ার হ্যামলেটস’ পরাজিত হওয়ার পর লোকমুখে বলাবলি হচ্ছে যে, আবারও লুতফুর রহমানের কাছে হেরে গেলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের রাজনৈতিক মোড়লরা। এতে মেয়র পদ্ধতির পক্ষে ভোট পরে ৬৩,০২৯টি। অন্যদিকে লিডারশীপের পক্ষে ভোট পরে মাত্র ১৭,৯৫১টি। ফলে লুৎফুর রহমান সমর্থিত মেয়র পদ্ধতি ৪৫,০৭৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে।

সাপ্তাহিক সুরমার কাছে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক প্রথম নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান রেফারে-ামে মেয়র পদ্ধতির পক্ষে বিশাল গণরায়ে অভিভূত হয়ে বারার জনসাধারণকে এজন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এটা জনগণের জয়। টাওয়ার হ্যামলেটস পরিচালনার দায়িত্ব তাদের। তাদের হাতে পাওয়ার (ক্ষমতা) রাখার জন্যই রেফারে-ামে তারা এই ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, এতে সব কমিউনিটির মানুষের সমর্থন ছিলো। তবে তিনি বলেন, ২০১০ সালে মানুষ মেয়র পদ্ধতির পক্ষে তাদের সমর্থন দিয়েছিলো। এই কঠিন সময়ে এখন আবার রেফারেণ্ডাম আয়োজনের দরকার ছিলো না।
আগামী নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে লুৎফুর রহমান বলেন, এখনই এব্যাপারে বলার সময় হয়নি। আমাদ্রে টিম বসে সিদ্ধান্ত নেবেন আগামীতে কী করা হবে। তবে সবকিছুর পর জনরায়ের পক্ষেই তাঁর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

টাওয়ার হ্যামলেটসে মেয়র পদ্ধতি বাতিলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছেন লেবারসহ সব রাজনৈতিক দল। কিন্তু সব দলের ঐক্যবদ্ধ কুটকৌশলকে পর্যদুস্ত করে আবারো রাজনৈতিক ক্যারেশমার জন্ম দিতে সমর্থ হলেন লুৎফুর রহমান। ২০১৪ সালের শেষদিকে তাকে পদচ্যূত করার নানা ষড়যন্ত্রের সূচনা পর্বে সাবেক ল-ন মেয়র কেন লিভিংস্টোনের উপস্থিতিতে এক প্রতিবাদ সভায় লুৎফুর রহমান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উচ্চারণ করেছিলেন যে, ‘তিনি মচকাবেন তবু ভাঙবেন না।’ আদালত ও মাঠের দীর্ঘ কঠিন লড়াইয়ের পর লুৎফুর রহমান জানান দিতে সক্ষম হয়েছেন যে Ñ সত্যি তিনি ভেঙ্গে যাননি বা ঐক্যবদ্ধ যড়যন্ত্রের কাছে কিছুতেই দুর্বল হয়ে পড়েননি। অনেকের মতে, লুৎফুর রহমানের সামনে এই রেফারে-াম ছিলো রাজনীতিতে পুনর্বাসন বা টিকে থাকার শেষ চ্যালেঞ্জ। আশ্চর্যজনকভাবে জনরায়ে এই কঠিন পরিস্থিতি উৎরে শেষ পর্যন্ত গিয়ে বিরুদ্ধবাদীদেরই চ্যালেঞ্জে ফেলে দিলেন তিনি।

আদালতের মাধ্যমে মামলা-মকদ্দমায় জড়িয়ে লুৎফুর রহমানকে ক্ষমতাচ্যূতের পর রাজনীতি থেকে নির্বাসনে রাখার সব ধরণের প্রচেষ্টা করে তাঁর বিরুদ্ধবাদীরা। সর্বশেষ বিশেষ ইলেক্ট্রোরাল ট্রাইব্যুনাল কোর্টের রায় অনুযায়ী লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার মুহূর্তে তিনি যাতে আবার রাজনীতিতে ফিরতে না পাারেন সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চালু থাকা নির্বাহী মেয়র পদ্ধতি বাতিলের জন্যই আবার রেফারে-াম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে সমাজে বেশ আলোচনা আছে। আর এর অগ্রভাগে ছিলো বারার নেতৃত্ব দানকারী লেবার পার্টি, তারাই আনে রেফাণ্ডমের প্রস্তাব। লুৎফুর রহমানকে আটকানোর এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় তাদের সাথে অন্যান্য পার্টি এক হয়েও শেষ পর্যন্ত তা সফল হলো না বলে বারার সচেতন মহলসহ অনেকের কাছে বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে গেছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নেতৃত্বদানকারী লেবার পার্টি, ক্ষমতাশীন কনজারভেটিভ পার্টি, লিবডেম, গ্রীন পার্টিসহ সকল দলকে পরাজিত করে একাই লড়ে লুৎফুর রহমান টাওয়ার হ্যামলেটসের রেফেরেণ্ডাম জিতে আবারও প্রমাণ করতে করলেন বারার জনগণের কাছে তিনি এখনো গুরুত্বপূর্ণ ও আস্থাভাজন।

মেয়রাল সিস্টেমের বিপক্ষে এবং লিডারশীপ ফিরিয়ে আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বেথনাগ্রীন এবং বো আসনের লেবার এমপি রুশনারা আলীও । কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশাল গণরায়ে সবকিছু ভেস্তে গেছে। উল্লেখ্য, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২২ সালে। বারার মানুষ তখন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত করবেন তাদের প্রতিনিধি তথা নির্বাহী মেয়র।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close