নিউজ

লণ্ডন মেয়র নির্বাচন: টাওয়ার হ‍্যামলেটে গণভোট ৬ মে, জরীপে এগিয়ে সাদিক খান

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ২৩ এপ্রিল : মেয়র ও লোকাল কাউন্সিলগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ মে। লন্ডন মেয়র নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো লেবার দলের প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র সাদিক খান । আর টোরি দলের প্রার্থী আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ মি. শন বেইলি।

সুরমা প্রিণ্ট কপি। ইস‍্যু ২১৯৯

সর্বশেষ মতামত জরিপ অনুসারে সাদিক খান লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে জয়ের পক্ষে দ্বিগুনের বেশি সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে আছেন । সাদিক খানকে মোকাবেলার জন্য টোরি দল প্রার্থী বাছাইয়ে কৌঁসুলি হলেও জনমত জরিপে সেটা কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে।  সর্বশেষ মতামত জরিপে সাদিক খানকে প্রথম পছন্দের ভোটের ৫১ শতাংশ ভোট দেওয়া হয়েছে, এটি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শন বেইলির চেয়ে ২২ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।

সাদিক খানকে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পাওয়ার জরিপের ফলাফল নিয়ে আরো কয়েকটা নির্ভযোগ্য জরিপের ফল প্রকাশিত হয়েছে। যা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণের প্রয়োজন ছাড়াই প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। ২০০০ সালের প্রথম থেকে লন্ডনের নির্বাচনের প্রতিটি মেয়রকে ভোটারদের প্রথম ও দ্বিতীয় পছন্দ বিবেচনায় ভোট দেয়ার সুযোগ দিয়েছে। তবে একজন প্রার্থী একবারে প্রথম ও দ্বিতীয় পছন্দ মিলে ৫০ শতাংশ অথবা তার বেশি ভোট পেলে একেবারেই বিজয়ী গোশত হন. অন্যথায় দ্বিতীয়বারের মতো ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।  নিয়ে বিজয়ী উত্পাদন করতে দুই দফা ভোটের প্রয়োজন হয়।

সর্বশেষ জরিপে প্রথম পছন্দের ভোটের ২৯ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কনজারভেটিভ প্রার্থী শন বেইলি এবং গ্রীন পার্টি প্রার্থী সায়ান বেরি এবং লিবডেম প্রার্থী লুইসা পোরিট আট শতাংশে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। জরিপ অনুসারে ইউকেআইপি-র পিটার গ্যামনস প্রথম পছন্দের এক শতাংশ ভোট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।  সামান্য পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মতামত জরিপগুলি সাদিক খান ৪৭ থেকে ৫৩ শতাংশ এবং শন বেইলি ২৫ থেকে ২৯ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছেন।

এছাড়া একই দিন টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলে নির্বাহী মেয়র পদ্ধতি বহাল রাখার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয়বারের মতো রেফারেন্ডাম বা গণভোট। এইপ্রশ্নে প্রথমবারের রেফারেন্ডাম হয় ২০১০ সালে এবং ৬০হাজারের বেশি ভোট পেয়ে নির্বাহী মেয়র পদ্ধতি জয়ী হয়. তবে এবার জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে নয় বরং কাউন্সিলের নির্বাহী সিদ্ধান্তে রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিপুল জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাহী মেয়র পদ্ধতি টাওয়ার হ্যামলেট ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা করলেও কি কারণে ১০ বছরের মধ্যে জনগণের মতামতকে পাল্টে দেয়ার জন্য আরেকটি রেফারেন্ডাম দিতে হলো এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন রেফারেন্ডামে লিডার পদ্ধতির সমর্থক নেতৃবৃন্দ। লিডিং টুগেদার ক্যাম্পেইনের পক্ষে কাউন্সিলর আয়াস মিয়া, কাউন্সিলর রেসেল স্যান্ডার্স, সাবেক কাউন্সিলর সানু মিয়া ও গ্রীন পার্টির প্রতিনিধি অংশ নেন। তারা ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতিতে কাউন্সিল পরিচালনাকে বেশি মাত্রায় গণতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করে বলেন, নির্বাহী মেয়র পদ্ধতি একজনের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে দেয়, যা কোনোভাবেই জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন হতে পারে না. তবে গত ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় নির্বাহী মেয়র কিভাবে একক ক্ষমতায় কাজ করেন এবং তার ফলে কাউন্সিলের কর্মকান্ড কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সে সম্পর্কে তাঁরা কোনো উদাহরণ দেয়া থেকে বিরত থাকেন। এক প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন, কাউন্সিল রেফারেন্ডামের সিদ্ধান্ত নিলেও কাউন্সিলরগণ যে কোনো পক্ষে তাদের প্রচারণা অথবা সমর্থন জানাতে পারবেন। জনগণ যে সিদ্ধান্ত নেবেন তাই হবে টাওয়ার হ্যামলেটের সিদ্ধান্ত।    

এদিকে নির্বাহী মেয়র পদ্ধতির পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে কমিউনিটি ক্যাম্পেইন ফর মেয়োরাল সিস্টেম নামে কমিউনিটি গ্রূপ। ইয়েস মেয়র ক্যাম্পেইনে সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে টাওয়ার হামলেটে বসবাসরত বাংলাদেশি পর্তুগিজ ও ইতালীয় কমিউনিটি। গত শনি ও রবিবার পৃথক দুটি ভার্চুয়াল সভায় এই দুই কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এই সংহতি ও নির্বাহী মেয়র পদ্ধতি অব্যাহত রাখতে সকলকে মেয়র পদ্ধতির পক্ষে ৬ মে তাদের ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। ‘নির্বাচিত মেয়র জনগণের কাছে শক্তি’ স্লোগানে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে নির্বাহী মেয়র সমর্থনে এই ক্যাম্পেইন সফল করারও আহ্বান জানান তারা। সভায় সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমানসহ যোগ দেন সাবেক ডেপুটি মেয়র ওহিদ আহমেদ, কমিউনিটি নেতা আবু তাহের চৌধুরী, বিএনপি নেতা মাহিদুর রহমান, অধ্যাপক আব্দুল কাদের সালেহ ও সাংবাদিক শামসুল আলম লিটনসহ অনেকে। বাংলাদেশি পর্তুগিজদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহ আলম কাজল, নুর মুহাম্মদ কচি, মোশারফ হোসেন কীরন, ইউসুফ তালুকদার, কাজল আহমেদ, ফারুক ব্যাপারী, আবু জাফর, শওকত ওসমান, জাহির আলী, সায়েফ আহমেদ সুইট, শেখ খালেদ মিনহাজ, কায়সল ইসলাম, আবুল বাসার, মিজানুর রহমান, কামরুল আলী, সরদার আহমেদ রায়হান, ফারুক আহমেদ লিটন কাদেরী, নজরুল ইসলাম সুমন, আব্দুল করিম, রেজাউল কারিম রেজা, আনন্দ সিং, শফিকুল ইসলাম, শরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান, তানভীর রনি, মহিন উদ্দীন, আবু তাহের, মোহাম্মদ কাশেম, শামিরুল ইসলাম, শাহ মোয়াজজেম হোসেন, হাবিবুর রহমান খোকন, মাফিক ইসলাম, আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।

এদিকে পরদিন রবিবার ইতালীয় বাংলাদেশ কমুনিটির সভায় কমিউনিটি ক্যাম্পেইনের আহ্বায়ক ড. হাসানাত এম হোসাইন এমবিই এবং ইতালি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে আবুল হোসাইন জসিম, কিটোন শিকদার, ঢালী নাসির উদ্দিন, নুরুল আমিন, নুরুল হক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। উভয় সভায় বক্তৃতাকালে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে পরপর দুইবার নির্বাচিত নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের উন্নয়নে মেয়র পদ্ধতির বিকল্প নেই। আমি নিজেও দুইবার কাউন্সিলর ছিলাম। কিন্তু ওই পদ্ধতিটি এতটাই দুর্বল যে আমাকে কাউন্সিলরদের মানিয়ে চলতে হতো আর কর্মকর্তাদের কথা মতো কাজ করতে হতো। তাতে জনস্বার্থ কখনও প্রাধান্য পেত না। কিন্তু নির্বাহী মেয়র হিসেবে আমি কাউন্সিলের ১.২ বিলিয়ন বাজেটকে টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রকৃত উন্নয়নে সব সময় সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পেরেছি। যার ফলে হাউজিং সমস্যার সমাধান থেকে শুরু করে কমিউনিটি পুলিশিং, স্বতন্ত্র মুসলিম কবরস্থানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠীর জন্য ধর্মীয়-সামাজিক ও কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হয়েছে‌। যা লিডারশিপ পদ্ধতিতে কখনও সম্ভব হতো না।

তিনি বলেন, মেয়র পদ্ধতিতে জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তাদের মেয়র নির্বাচন করে এবং জনগণের হাতেই কর্তৃত্ব থাকে। নির্বাচিত মেয়র জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে বাধ্য থাকেন। কারণ তিনি জানেন তিনি যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না করেন তাহলে জনগণ তাকে ছুঁড়ে ফেলবে‌। আর কমিউনিটির মাঝে গিয়ে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ থাকবে না। সুতরাং লন্ডনের নির্বাহী মেয়র যেমন নির্বাহী কর্তৃত্ব নিয়ে লন্ডনের উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনায় সরকারের সঙ্গে পুরো কর্তৃত্ব নিয়ে কাজ করতে পারেন, ঠিক তেমনি টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র পদ্ধতি তার নির্বাহী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং আমলাতন্ত্র অথবা যেকোনো ধরনের গ্রুপ পলিটিক্সের কবল থেকে টাওয়ার হামলেটসকে রক্ষা করতে পারে। অতীতে এটা প্রমাণিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই মেয়র পদ্ধতি কমিউনিটির উন্নয়ন এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভাষা, শিশু ও বৃদ্ধদের কল্যাণসহ সব ক্ষেত্রে কমিউনিটিকে জোরদার করবে।

ব্রিটেনের একমাত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নির্বাচিত মেয়র লুৎফুর রহমান। সিলেটের বালাগঞ্জে তার জন্ম। তিনি যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিতে আলো ছড়িয়েছেন। নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে লুৎফুর রহমান আবার ফিরতে চান জনতার মেয়র হয়ে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close