সম্পাদকীয়

রক্তাক্ত সুবর্ণ জয়ন্তী ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ

এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় ।। ইস‍্যু ২১৯৬
বাংলাদেশে তার জন্মের ৫০তম বর্ষপূর্তিতে সুবর্ণ জয়ন্তীরঅনুষ্ঠানমালা যতটা আনন্দ উজ্জ্বল হওয়ার কথা ছিল হয়েছে তার বিপরীত। রক্ত ঝরেছে রাজধানী ঢাকা,দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা চট্টগ্রাম আর রাজধানীর অদূরবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এই তিনটি জেলার রক্তাক্ত ঘটনায় পুলিশ ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের গুলি ও হামলায় এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত ও গ্রেফতার হয়েছে আরো শতাধিক। গুজরাটের কসাই নরেন্দ্র মোদির সফরকে ঘিরে সুবর্ণজয়ন্তী রক্তাক্ত হয়ে পড়ে । বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও সামাজিক ও ধর্মীয় ফোরামের পক্ষ থেকে সরকারকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করার জন্য। কিন্তু সরকার একগুঁয়েমীর পরিচয় দিয়েছে। বিনিময়ে নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ থেকেও ১৭ জন নিরীহ- নিরস্ত্রমুসলমানের জীবন উপহার দেওয়া হয়েছে। গুজরাট ও দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও মুসলিম নিধনের হোতা হিসেবে নরেন্দ্র মোদির হাত ইতিমধ্যেই রক্তাক্ত। বিভিন্ন প্রদেশের নির্বাচনেতার চরম সাম্প্রদায়িক বিজেপি পর্যুদস্ত হচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজয়ী হতে ‘মতুয়া’ নামে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে মোদি একরকম জোর করেই বাংলাদেশ সফরে আসেন। জাতীয় পর্যায়ে ঢাকেশ্বরি মন্দির কিংবা রামকৃষ্ণ মিশন বাদ দিয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় ওই সম্প্রদায়ের ছোট ছোট মন্দিরে হাজির হয়েছেন, ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেটি লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাংলাদেশকে ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে । বাংলাদেশ সরকার সকল অনুরোধ উপেক্ষা করে শুধু নরেন্দ্র মোদি ও তার দলের রাজনৈতিক সুবিধার্থে বাংলাদেশের মহান জাতীয় উৎসব সুবর্ণজয়ন্তীকে রক্তাক্ত করে ছাড়লেন। নরেন্দ্র মোদিকে উপহার দিলেন নিজ দেশের নাগরিকের রক্ত ও জীবন।

বাংলাদেশের রাজনীতি রক্তাক্ত হয়েছে, হয়েছে অভিশপ্ত। এই অভিশপ্ত রাজনীতির দাবানলে নিশ্চয়ই একদিন অভিশপ্ত রাজনীতিকদের অপকর্মের অবসান হবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ ফিরে পাবে সত্যিকারের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের পূর্ণ অধিকার। 

রক্তাক্ত সুবর্ণ জয়ন্তী আধিপত্যবাদ মুক্ত সেই মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এই প্রত্যাশা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত উজ্জ্বল থাকবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close