নিউজ

টাওয়ার হ্যামলেটস করোনার বদলে রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত

*ভ্যাকসিন নিয়ে বায়বীয় প্রচার
*গণমাধ্যমের সঙ্গে কাউন্সিলের সম্পর্ক শূন্য 
*রেফারেণ্ডাম নিয়ে ব্যস্ত সবাই
*করোনায় বিপুল মৃত্যু: কমিউনিটিতে আতঙ্ক
*কাউন্সিলের বক্তব্য

।। বিশেষ প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ২ এপ্রিল – টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এবার মহামারীতেও তার চরম উদাসীনতার পরিচয় দিলো। সমগ্র যুক্তরাজ্য করোনা মহামারী নিয়ে নানামুখী সংগ্রামে লিপ্ত, তখন কাউন্সিল ব্যস্ত অপ্রয়োজনীয় রেফারেণ্ডাম নিয়ে। মাত্র দশ বছর আগে মীমাংসিত একটি বিষয় নিয়ে আবারো এই মহামারীর সময়ে জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের সব কাজ বাদ দিয়ে টাওয়ার হ্যামলেট ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই অভিমত টাওয়ার হ্যামলেটসের অধিবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের।করোনা মোকাবেলায় টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। আশেপাশের কাউন্সিলগুলো মহামারীর প্রথম থেকেই সরকারি দিকনির্দেশনা ও পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে কমিউনিটি মিডিয়া ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালায়। কিন্তু এক্ষেত্রে টাওয়ার হ্যামলেটসের ভূমিকা একেবারেই শূন্য। কোনো কমিউনিটি মিডিয়ায় কাউন্সিলের কোনো প্রচারণা দেখা যায়নি। যদিও টাওয়ার হ্যামলেটসের পক্ষে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সাপ্তাহিক সুরমার বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে লম্বা ফিরিস্তি দিয়ে জানিয়েছে তারা ইতিমধ্যে করোনা মহামারী মোকাবেলায় ও কমুনিটির কল্যাণে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভ্যাকসিন নিরাপত্তা বিষয়ে কাউন্সিল তার অধিবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের আক্রান্ত অধিবাসীদের জন্য কাউন্সিল কি কি ব্যবস্থা করেছে, তার বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ওই বিবৃতিতে কোথাও কমিউনিটি গণমাধ্যম বিশেষ করে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনগুলোকে কাউন্সিল কিভাবে কাজে লাগাচ্ছে, সে সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। অর্থাৎ কমিউনিটি গণমাধ্যমকে কাজে না লাগিয়েই কাউন্সিল কমুনিটির বাসিন্দাদের মধ্যে বিপুল কার্যক্রমের দাবি করছেন।

মার্চ ২০২০। মহামারীর প্রথম থেকেই টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দারা দুশ্চিন্তায় পরে যান তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে। এই এলাকার একটি বোরো অংশ জনসংখ্যা ডায়াবেটিস-হৃদরোগ কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো ঘাতক ব্যাধি নিয়ে ঝুকিপুর্ণ জীবনযাপন করেন। পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড লন্ডনের যেসব এলাকাকে নিয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার মধ্যেও টাওয়ার হ্যামলেটস্ অন্যতম। এইসব উদ্বেগ টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলকে কখনো উদ্বিগ্ন করেছে কিনা তা লক্ষ্য করা যায়নি। মহামারীর এক বছর পার হয়েছে কয়েকশ’ অধিবাসীর দুঃখজনক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। অথচ মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে কমুনিটির মধ্যে সকল গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠন-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ভূমিকা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কাউন্সিলের কোনো উদ্যোগ কমিউনিটিতে কার্যকরভাবে সংশ্লিষ্ট করতে পারেনি।

স্থানীয় একটি শিক্ষা সংগঠনের পরিচালক হাসান মাহমুদ এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কাউন্সিল অনলাইনে বিভিন্ন সচেতনতা নিয়ে যা বলছে সেটা এই বারায় বেশিরভাগ অধিবাসীর জন্য প্রযোজ্য নয় । টাওয়ার হ্যামলেট বিএমই কমুনিটির বয়স্ক একটি প্রজন্মের বসবাস। তারা ডিজিটাল প্রচারণা থেকে কোনোভাবেই উপকৃত হননা। তাঁদের কাছে  পৌঁছানোর জন্য প্রিন্ট মিডিয়া হচ্ছে একমাত্র মাধ্যম। কমুনিটির বিভিন্ন গণমাধ্যম কাউন্সিলের যে কোনো কর্মসূচি ব্যাপকভাবে কভার করে থাকে এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গুলোকে সফল করতে সাহায্য করে । কিন্তু তারপরও এইসব গণমাধ্যম আউটলেটগুলোকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেন এই নির্লিপ্ততা? এই প্রশ্নের জবাব কাউন্সিলের বিবৃতিতে পাওয়া যায়নি। 
বো এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মুক্তাদির সুরমাকে বলেন, এনএইচএস গাইডলাইন অনুসারে তিনি বাড়ি থেকে কাজ করেন। কাউন্সিল ট্যাক্স ও শিক্ষা বিভাগে দুটি কাজে তিনি অন্তত ২০ বার ফোন করেও কাজগুলো সমাধান করতে পারেননি। বিশেষ সার্ভিস বলে কিছু নেই ।  সবকিছুর জন্যই টেলিফোনে অনলাইনে যাবার কথা বলা হয় । কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া রীতিমতো গবেষনার ব্যাপার। 

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী মেয়র জন বিগস টাওয়ার হ্যামলেটসের সবচেয়ে বড় বিএমই জনগোষ্ঠী বাংলাদেশিদের সম্মানে বাংলাদেশের রজতজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ৫০ হাজার পাউন্ড বাজেটে ৯ মাসব্যাপী প্রোগ্রাম ঘোষণা করেন। সেখানেও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক এমাদুল হক চৌধুরী প্রশ্ন উত্থাপন করেন এই প্রোগ্রাম ও বাজেটে বাংলা গণমাধ্যমের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়েছে কিনা? এই ধরণের আয়োজনে বিশেষ সাময়িকী প্রকাশ একটা সাধারণ রীতি যার জন্য একটা বাজেট প্রয়োজন। মেয়র জন বিগস এই প্রশ্নেও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। শেষপর্যন্ত কমুনিটির সচেতন কয়েকটি সূত্র এই উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলছেন, এটা বিগসের দল লেবার পার্টি অপ্রয়োজনীয় রেফারেন্ডাম (মেয়র নাকি লিডারশিপ সিস্টেম প্রশ্নে) দলীয় কোটারি স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় । কমুনিটির স্বার্থের সঙ্গে এই আয়োজনের কোনো সম্পর্ক নাই । তারা আরো বলেন, যদি বিগস ও তার কাউন্সিলরগণ আন্তরিক হতেন তাহলে কমুনিটির সকল শক্তি করোনা মোকাবেলায় ব্যবহার করতেন। গোষ্ঠীস্বার্থের নির্বাচনে জেতার ফন্দি ফিকির করতেন না । এটা অত্যন্ত নিন্মমানের রাজনীতি হয়েছে বারার অধিবাসীদের সঙ্গে। মহামারীর সময় মেয়র বিগস ও তার সহযোগীদের এইসব ভূমিকা কমিউনিটি দুঃখের সঙ্গে স্মরণ করবে।

কাউন্সিলের বক্তব্য
সাপ্তাহিক সুরমার পক্ষ থেকে করোনা প্রশ্নে কমুনিটির সর্বত্র পৌঁছানোর জন্য কাউন্সিল কি ব্যবস্থা নিয়েছে এইসব প্রশ্নের জবাবে  টাওয়ার হ্যামলেটসের যোগাযোগ কর্মকর্তা হান্না জাওয়েট জানিয়েছেন, আমাদের (কাউন্সিলের) কোভিড ১৯ দূত’রা রাস্তায় বাসিন্দাদের সাথে একযোগে কথা বলছেন (নিজ সম্প্রদাযয়ের  ভাষার) ।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ভ্যাকসিন নিতে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি এই সংক্রান্ত সর্বশেষ  নিয়মিত আপডেট বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে একটি নেটওয়ার্ক গঠন করা হয়েছে। তাদের সাথে সাপ্তাহিক ওয়েবিনারের মাধ্যমে, বাসিন্দাদের সমস্যা এবং উদ্বেগগুলির একটি ভাল ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ নির্দেশিকা এবং কোথায় সহায়তা পেতে হবে সে সম্পর্কিত তথ্যের সাথে আমরা বারার প্রতিটি বাড়িতে ডোর ড্রপ প্রেরণ করেছি। এর মধ্যে বাংলা ও সোমালি অনুবাদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া, ধূমপান নিরোধ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অনলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট প্রদান অব্যাহত রেখেছে বলেও কাউন্সিলের এই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close