মুক্তচিন্তা

২৬ মার্চ কেনো স্বাধীনতা দিবস নির্ধারিত হলো?

।। মাহফুজুর রহমান ।।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট

২০২১ সালের ২৬ই মার্চ বাংলাদেশের ৫০তম স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর লাখ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা কোনো গোষ্ঠি বা কারো একার কৃতিত্বে অর্জিত হয়নি। কিন্তু ৫০ বছর পরেও বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে যারা অবদান রেখেছিলো তাদের অনেকের অবদানকে কোন কোন গোষ্ঠি অস্বীকার করার চেষ্টা করে। যে রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসীন হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তাদের মতো করেই রচনা করার চেষ্টা করেছে। এতে করে জাতীয় ঐক্য যেমন বিনষ্ট হয়েছে তেমনি জাতীয় গৌরব ম্লান হয়েছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারনেই মুক্তিযুদ্ধের মতো জাতীয় অর্জনে যাদের অবদান আছে তাদের অবদানকে ক্রমাগত অস্বীকার এই জাতীকে বিভক্ত করে ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

এই ৫০তম স্বাধীনতা দিবসে রাজনৈতিক দলগুলো স্মরণ করেনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানির নাম। পত্র পত্রিকাতেও আলোচিত হয়নি মুক্তিযুদ্ধে এম এ জি ওসমানির অবদানের কথা। এমনকি তার নাম স্কুল কিংবা কলেজের পাঠ্যপুস্তকে পর্যন্ত নেই। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তেলনকারি আ স ম আব্দুর রবের কথাও কেউ স্মরণ করেনি। কেউ স্মরণ করেনি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কথা। আলোচিত হয়নি বীর শ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর প্রতীক, সেক্টর কমান্ডাররা। স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মাহুতি দেয়া লাখ লাখ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সম্ভ্রম হারোনো মা বোনদের কথাতো বাদই দিলাম। অথচ এরাই ৯ মাস যুদ্ধকরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলো।

তবে এবারের ৫০তম স্বাধীনতা দিবসে সবাইকে ছাপিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া এবং সরকারি ও বিরোধীদলগুলোর নেতারা আলোচনা করেছেন জিয়াউর রহমানকে নিয়ে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) জিয়াউর রহমানের “বীর উত্তম” রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টিযে রাজনৈতিক তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর জিয়াউর রহমানের “বীর উত্তম” খেতাব বাতিলের প্রয়োজন কেনো হঠাৎ দেখা দিলো? কে ছিলেন জিয়াউর রহমান?
জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ১১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের প্রতিষ্ঠাতা, বীর উত্তম, সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। বরাবরের মতোই আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করেছে। আর বিএনপি তার অবদানকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। জিয়াউর রহমানের যে কাজটি নিয়ে সবচেয়ে বেশী আওয়ামী লীগ সমালোচনা, অস্বীকার কিংবা আলোচনা করে, সেটি হলো জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা। জিয়াউর রহমান কি আসলেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন ? ২৬ মার্চ তারিখটিকেই কেনো স্বাধীনতা দিবস হিসাবে নির্ধারন করা হলো ? দেখাযাক ঐতিহাসিক দলিল প্রমাণে কি আছে।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে। যেটি ছিলো মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধের তূর্যধ্বনী। তৎকালীন তরুন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার কথা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান “বীর উত্তম” দিন, তারিখ এবং সময় উল্লেখ করে নিজে লিখে তা জানিয়ে গেছেন। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলা পত্রিকায় জিয়াউর রহমানের লেখা প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ২২ মার্চ সাপ্তাহিক বিচিত্রা-য় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তৎকালিন উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান “বীর উত্তম” এর “একটি জাতির জন্ম” শিরোনামে প্রবন্ধটি পূনরায় প্রকাশিত হয়।
জিয়াউর রহমান তার লেখা প্রবন্ধে বলেন, “রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট। ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল। রক্তের আখরে বাঙালির হৃদয়ে লেখা একটি দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে এই দিনটিকে। স্মরণ রাখবে ভালবাসায়। এই দিনটিকে তারা কোনদিন ভুলবে না। কোনদিন না।”
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ ঘোষণা করে। কমান্ডিং অফিসার জানজুয়াকে গ্রেফতার করেন জিয়াউর রহমান। এর পর জিয়াউর রহমান ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়ান অফিসার জে.সি.ও এবং জোয়নদেরকে একত্রিত করে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং যুদ্ধের দিক নির্দেশনা দেন। সাথে সাথে তা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনিক অফিসারদের জানানো হয়। ১৯৭১ সালে তিনি কারো লেখা স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন নি। তিনি নিজেই স্বাধীনতার ঘোষণা লিখেছেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরেই জিয়াউর রহমান নিজেকে অর্ন্তবর্তীকালিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে উল্লেখ করে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার পরই আনুষ্ঠানিক ভাবে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো। চট্টগ্রাম কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষনায় উদ্বেলিত জনগণ সাহসের সাথে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। শুধুমাত্র স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি তিনি উই রিভোল্ট হুংকার দিয়ে নিজেও নেতৃত্ব দেন সশস্ত্র যুদ্ধে। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাটি ২৬, ২৭ এবং ২৮ মার্চ দেশ বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকে।
ইতিহাস তার আপন আলোয় সমুজ্জল। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক অনেক বই ও নানা ডকুমেন্টে উঠে এসেছে তৎকালিন তরুন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার দলিল ও প্রেক্ষাপট।
মুক্তিযুদ্ধের ০৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার কে.এম শফিউল্লাহ “বীর উত্তম” পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচিত সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে কে এম শফিউল্লার প্রকাশিত “বাংলাদেশ এট ওয়ার” বইএর ৪৪-৪৫ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছন “মেজর জিয়া ২৫ মার্চের রাত্রিতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সদলবলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তার কমান্ডিং অফিসার জানজুয়া ও অন্যান্যদের প্রথমে গ্রেফতার ও পরবর্তীতে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। পরে ২৬ মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মোকাবেলার জন্য সবাইকে আহবান জানান। এতে তিনি নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে ঘোষণা করেন। ২৭ মার্চ মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়।”

১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন, সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, “জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় প্রমাণিত হয়, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময়টিতে মুক্তিযুদ্ধ নেতৃত্বশূন্য ছিলো না। তার ভাষায়, মেজর জিয়াউর রহমান প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন এবং সেখান থেকে মুক্ত এলাকা শাসিত হচ্ছে। ২৬ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত জিয়াউর রহমান ব্যতীত আর কেউ স্বধীনতা যুদ্ধরত দেশের কোনো শাসক, প্রশাসক, সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান দাবিদার ছিলেন না।”
তাজ উদ্দিন আহমদের কথায় প্রমাণিত হয় মুজিনগর সরকার গঠিত হয়েছিলো ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল আর মুজবনগর সরকারের মন্ত্রী পরিষদ শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এই ২২ দিন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে দিক নির্দেশনাহীন জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।

প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের রাজনৈতীক সচিব মইদুল হাসান তরফদার তার “মূলধারা ৭১” বইয়ের ০৫ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেন “২৭ মার্চ ৮ইবির বিদ্রোহী নেতা মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেন। মুক্তিযুদ্ধের ০১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও আওয়ামী লীগ সরকারে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর রফিক উল ইসলাম “বীর উত্তম” তার “এ টেল অব মিলিয়নস” বইয়ের ১০৫-১০৬ পৃষ্ঠায় লিখেছেন “২৭ মার্চে বিকেলে মেজর জিয়া আসেন মদনা ঘাটে এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। প্রথমে তিনি নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান রূপে ঘোষণা করেন। পরে তিনি শেখ মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। কেনো জিয়া মত পরিবর্তন করেছিলেন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মেজর রফিক উল ইসলাম। তিনি লিখেন “একজন সামরিক কর্মকর্তা নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধানরূপে ঘোষণা দিলে এই আন্দোলনের রাজনৈতীক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে এবং স্বাধীনতার জন্য এই গণ অভ্যুত্থান সামরিক অভ্যুত্থানে চিত্রিত হতে পারে এই ভাবনায় মেজর জিয়া পূনরায় ঘোষণা দেন শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে। এই ঘোষণা শোনা যায় ২৮ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত।
মেজর এম এস ভূইয়া (সুবিদ আলী ভূইয়া) তার লেখা “মুক্তিযুদ্ধের ০৯ মাস” বাইয়ের ৫৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন। “আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, বেতার কেন্দ্র থেকে যারা সেদিন মেজর জিয়ার ভাষণ শুনেছিলেন তাদের নিশ্চই মনে আছে, মেজর জিয়া তার প্রথম দিনের ভাষণে নিজেকে “হেড অব দ্যা স্টেট” অর্থাৎ রাষ্ট্রপ্রধান রূপেই স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। তিনি আরো লেখেন জিয়াউর রহমান নিজ উদ্যোগেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এতে আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামের কতটুকু সুবিধা হয়েছিলো তাও বিচার্য।”
শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়েছে। যিনি যখন যেভাবে শুনেছেন তারা তাদের লেখনিতে সেভাবেই তা বিবৃত করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রক্ষিত তথ্য প্রমাণেও জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার দলিল পাওয়া যায়। ভারত সরকারের ওয়েবসাইট “ভারত রক্ষক” এর ৯৩ পাতাতে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাটি রক্ষিত আছে।”

মার্কিন সরকারের ডিক্লাসিফাই করা বাংলাদেশ সংক্রান্ত দলিলপত্রে উল্লেখ আছে “অন মার্চ টুয়েনটি সেভেন দ্যা ক্লাডেসটাইন রেডিও এনাউন্সড দ্যা ফরমেশন অফ এ রেভুলেশনারি আর্মি এন্ড প্রভিশনাল গভরমেন্ট আন্ডার দ্যা লিডারশিপ অব এ মেজর জিয়া।”
১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ আর্জেন্টিনা থেকে প্রচারিত প্রখ্যাত দৈনিক “বুয়েন্স এইরিস হেরাল্ড” এর শিরোনাম ছিলো “রিবেল গভমেন্ট সেটআপ আন্ডার মেজর”। এই রিপোর্টে বলা হয় মেজর জিয়া নিজেকে হেড অব স্টেট ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা সুখবন্ত সিং যিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল হিসাবে অবসরগ্রহণ করেন, তিনি তার “ইন্ডিয়াস ওয়ারস সিন্স ইন্ডিপেন্ডন্টস: দ্যা লিবারেশন অব বাংলাদেশ” বইয়ে লিখেছেন “ইতিমধ্যে ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতার থেকে একজন বাঙালি অফিসার মেজর জিয়ার কন্ঠস্বর ভেসে আসে।”

২৮ মার্চ ১৯৭১। ভারতের দ্যা স্টেটমেন্ট পত্রিকায় প্রকাশিত হয় যার অনুবাদ “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমান এক অবিস্বরণীয় নাম। ২৫ মার্চ মধ্যরাতেই পাকিস্তান সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহে ঘোষণা করেছিলেন মেজর জিয়া। শুধু বিদ্রোহ ঘোষণাই করেননি, নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘোষণাটিও দিয়েছিলেন। সেই দুঃসময়ে বাঙালি জাতি ছিলো দিশেহারা, দিক নির্দেশনা হীন। ঠিক এই সময়ে জিয়াউর রহমানের প্রত্যয়দীপ্ত বলিষ্ঠ কন্ঠের ঘোষণা ছিলো তুর্যধ্বনির মতো।”

এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা দেশি বিদেশী বহু পত্রিকা ও বইয়ে জিয়াউর রহামানের নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে উল্লেখ করে স্বাধীনতার ঘোষণার অকাট্য দলীল রয়েছে। জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। সেই হিসাবে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ মুজিবুর রহমান সরকার ২৬মার্চ তারিখটিকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসাবে নির্ধারন করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য একটি কুচক্রিমহল অন্য সবকিছুর মতো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও লুট করতে চায়। কিন্তু ইতিহাস তার আপন আলোয় সমুজ্জল। বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে যারা অবদান রেখেছিলেন তাদের অবদান অস্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়। সম্ভব নয় একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close