নিউজ

স্বাধীনতার ৫০ বছর: মোদিতে কলঙ্কিত জাতীয় উৎসব

*বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশী হামলা-লাঠিচার্জ, ছাত্রলীগের তাণ্ডব
*সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে দেশে-বিদেশে নানা বর্ণিল আয়োজন
*জনগণকে বাদ দিয়ে বিদেশীদের নিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী: বিএনপি
*আপনারা ব্যবহৃত হবেন না: কলকাতার সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমন
*টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নয় মাসব্যাপী কর্মসূচী
*বৃটেনের রাণীর শুভেচ্ছা বার্তা
*মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব অনুমোদন

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ২৬ মার্চ – স্বাধীনতার ৫০ বছরে পা দিলো বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালো রাত্রীতে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিকামী বাঙালিরা। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লক্ষ প্রাণ ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার এ এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সুবর্ণ জয়ন্তীর এই ঐতিহাসিক অধ্যায়কে উদযাপন ও স্মরণীয় করে রাখতে দেশে-বিদেশে চলছে নানা বর্ণিল আয়োজন। রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে উৎসবে অংশ নিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানরা ঢাকায় এসে পৌঁছে গেছেন। রাষ্ট্রীয় আয়োজনের বাইরেও বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা মাতৃভূমির এই গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তকে স্মরণ ও বরণ করে নিতে হাতে নিয়েছেন নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচী। স্বাধীনতা অর্জনে দেশের বাইরে থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের ভূমিকা ছিলো সর্বাগ্রে। মুক্তিযুদ্ধে আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে বৃটেনসহ বহির্বিশ্বের সমর্থন আদায়ে লবিং, র‌্যালী, ডেমোন্সট্রেশন করে সার্বক্ষণিক সোচ্চার ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসীরা। স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশের উন্নয়নে তাদের সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন এই যুক্তরাজ্যপ্রবাসীরাই এবং এখনও তা অব্যাহত আছে। যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের এই অসামান্য অবদান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ততটা স্বীকৃতি ও মূল্যায়ণ না পেলেও মাতৃর্ভূমির প্রতি ভালোবাসার কোনো কমতি নেই বৃটেনেবাসী বাংলাদেশীদের। তাই স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাজ্যপ্রবাসীরা বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক ক্ষণ উদযাপনে সবচেয়ে বেশী সরব। বৃটেনের সবচেয়ে বেশী বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটস বারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে বিপুল অর্থে ব্যয়ে নয় মাসব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। বৃটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বাংলাদেশের সূবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ইতোমধ্যে শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ করেছেন। এছাড়া মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
এদিকে, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে চরম মৌলবাদী বিজেপি সরকারের প্রধান, গুজরাটের কসাইখ্যাত ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সফর সার্বজনিন এই উৎসবকে অনেকটা মøান করে দিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় প্রতিদিন প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। এসব প্রতিবাদ, বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন ছাত্রসমাজ থেকে শুরু করে ডান-বাম রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ মানুষ। এতে করে দেশের এই ঐতিহাসিক উদযাপনে দেশের জনগণের অংশগ্রহণ অনেকটা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আর এই অভিযোগ ইতোমধ্যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো থেকে উঠতে শুরু করেছে। জনগণকে বাদ দিয়ে বিদেশীদের নিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে সরকার Ñ এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে অভিযোগ করে তিনি আরো দাবী করেন যে, মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
এছাড়া মোদি বিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভে সরকারী দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হামলা এবং বিভিন্ন সংগঠনের সভা-সমাবেশে পুলিশি বাধার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। ঢাকার বাইরেও সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশি বাধার ভিডিওচিত্র স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে দেখা গেছে।

মোদিবিরোধী মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ২০:
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের বিরোধিতা করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর মিছিলে ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক আল কাদেরি জয়। আহতদের মধ্যে ১১ নেতাকর্মী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
২৩ মার্চ, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক আল কাদেরি জয় জানান, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেলে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের ব্যানাওে মোদির আগমনের বিরোধিতা করে ঢাবি টিএসসি এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি মোদির কুশপুত্তলিকা নিয়ে শাহবাগ যায়। সেখান থেকে এসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে সমাবেশ করতে জড়ো হলে ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছিলাম। কিন্তু, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি সভাপতি সালমান সিদ্দিকি ঢামেক জানান, হামলার ঘটনায় আহত আট-থেকে দশ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের অনেকের মাথা ফেটে গেছে।
আহতরা হলেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা (৩২), সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার (৩৫), ইডেন কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর সুমি (২৪), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমা (২২), ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আসমানি আশা (১৮), ঢাবি শাখার সহসাধারণ সম্পাদক মেঘ মল্লার বসু (২৪), বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাবি শাখার সংগঠক জাবির আহমেদ জুবেল (২২) জান্নাতুল ফেরদৌস (২৪), ইমন (২৯)ও অন্তু (২৪)।
এ সময় দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তারা হলেন, দেশ রূপান্তরের ফটোসাংবাদিক রুবেল রশীদ ও মানবজমিনের জীবন আহমেদ।
হামলার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল ও ২৫ মার্চ মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে বলে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক আল কাদেরি জয় জানিয়েছেন। (সূত্র: দ্যা ডেইলি স্টার, অনলাইন)

জনগণকে বাদ দিয়ে বিদেশীদের নিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী: বিএনপি
দেশের জনগণকে বাদ দিয়ে সরকার বিদেশিদের নিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ২৩ মার্চ, মঙ্গলবার দুপুর রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সভাপতি ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেলকে দেখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও দাবী তার। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসছেন নাকি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারণা করতে আসছেন সেই সম্পর্ক নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিএনপির এই নেতা।
এসময় ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সঠিক সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

আপনারা ব্যবহৃত হবেন না: কলকাতার সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমন
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর ইস্যুতে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় কলকাতার বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘অনুগ্রহ করে, আপনারা ব্যবহৃত হবেন না।’ গত ২২ মার্চ, সোমবার নিজ ফেইসবুক প্রোফাইলে ‘জরুরি ভিডিও বার্তা’ শিরোনামে এই ভিডিওটি তিনি আপলোড করেন।
ভিডিও বার্তার শুরুতে কবীর সুমন বলেন, ‘এই ভিডিও বার্তাটি আমি তৈরি করছি এবং ফেইসবুকে এটি দেবো প্রধানত আমার প্রিয় প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের শ্রদ্ধেয় সরকার, তাদের সকল মাননীয় সদস্য, তাদের সকল মাননীয় অনুগামী, অনুসারী এবং বাংলাদেশের আমাদের প্রিয় জনগণের উদ্দেশ্যে।’
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা, এই তিয়াত্তর বছর বয়সে পুরানো দিনের কথা খুব বেশী মনে পরে, আগে এতটা পরতো না। এখন আমার মনে পরছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ছিলাম যুবক। সেসময় লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশের শরণার্থী চলে এসেছিলেন আমাদের পশ্চিমবঙ্গে। কি অবস্থা যে সে সময় হয়েছিলো, তার একটু পরিচয় পেতে আপনারা অনুগ্রহ করে ইন্টারনেটে অ্যামেরিকান কবি এলেন জিন্সবার্গের লেখা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কবিতাটি পড়লে খুব ভালো হয়। ওনি এসছিলেন সে সময়। স্বচক্ষে দেখেছিলেন বাংলাদেশের শরণার্থীদের। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের একটি মানুষেরও মুখ কিন্তু আমি ভারাক্রান্ত দেখিনি। মনে রাখবেন, আমাদেও গোটা উপমহাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন কিন্তু ভারাক্রান্ত। তারা কেউ ধনী নন। তাদের আর্থিক ভার বয়ে বেড়াতে হয়। তার-ই মধ্যে আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষরা তাদের সামান্য সম্বল কিন্তু ভাগ করে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের সঙ্গে।
‘অনেক সময়ই লোকে বরং তামাশা করে হেসে বলতো, এবাওে বেশ ভালো ইলিশ পাওয়া যাবে। বাঙ্গালী একটু উদারপরায়ণ। আমি কোনদিন কোনো মুখ দেখিনি, যেটা ভারাক্রান্ত। কেন আমাদেও শেয়ার করতে হবে, বাংলাদেশের শরণার্থদের সঙ্গে? এমন কথা কোনদিন শুনিনি। এটা আমার বিশেষ গর্ব।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজ খবর পাচ্ছি যে, ভারতের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী তিনি বাংলাদেশে যাচ্ছেন, যাবেন। হয়তো কিছু দিন থাকবেনও। ঠিক ওই সময়, যখন পশ্চিমবঙ্গে ভোট হচ্ছে, সেসময় একটি বিশেষ ধর্ম স¤প্রদায়ের দেবালয়ে গিয়ে পুজো দেবার জন্য। এই ধর্ম স¤প্রদায় কিন্তু এখানেও থাকেন। আমি এখন পর্যন্ত কোনো কাগজে দেখিনি যে, তিনি হঠাৎ বিশেষ কোনো দেবালয়ে চলে গেলেন, গিয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলিটিক্স একটা অদ্ভুত খেলা। আমিও ভোটে দাঁড়িয়েছি। ভোট চলে ভোটের নিয়মে, মানুষের নিয়মে না। আমার শুধু চিন্তা হচ্ছে এই ভেবে যে, যে পার্টিটি আজকে ভারতের কর্তৃত্বে, সে পার্টির নীতি হলো বিভাজন, ধর্মীয় বিভাজন- মনে রাখবেন এটা। আর আমাদের ভারত কিন্তু সেক্যুলার দেশ। এখানে ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলী খান, যিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মুসলমান। রোজা রাখা মুসলমান। তিনি কিন্তু হরি ওম তাতসাত বলে গান করেন, পাহাড়ি ঠুংরি। তাতে মুসলমান বা হিন্দু কারোরই কোনো আপত্তি হয় না।’
ভারতের বর্তমান সরকার কর্তৃক বাংলা ভাষাকে ক্লাসিকাল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এই প্রখ্যাত গীতিকার বলেন, এই যে বর্তমান ভারত সরকার, যাদের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী যাবেন বাংলাদেশে বা যাচ্ছেন বা গিয়ে থাকছেন হয়তো। সে সরকার কিন্তু বাংলা ভাষাকে ক্লাসিকাল ভাষার মর্যাদা দিতে চায়নি, দেয়নি। প্রতিবেশী উড়িশার ভাষা ক্লাসিকাল ভাষার মর্যাদা পেয়েছে। খুব ভালো, কিন্তু বাংলা পায়নি। অর্থাৎ সৈয়দ আলাওল কেউ না, মুকুন্দরাম কেউ না,চ-ীদাস কেউ না, এরা কেউ না। শ্রী কৃষ্ণ কীর্তন কিচ্ছু না, পদ্মাবতী কিচ্ছু না।’
‘মাননীয় বন্ধুরা এটা মনে রাখবেন, যে ব্যক্তিটি যাচ্ছেন, নিশ্চয়ই খুব সম্মানীয় তিনি। কিন্তু তার দল ভারতকে একটা সেক্যুলার দেশ হিসেবে স্বীকারই করে না। এই জায়গাটা মনে রাখবেন। তারা বাংলা ভাষাকে স্বীকার করে না। তাদের নথিতে রয়েছে, বাংলা ভাষায় যারা কথা বলে তারা বাংলাদেশের লোক। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে কেউ ভারতের লোক না। এই জায়গা থেকে তারা দেখছেন।’
‘তিনি যে যাচ্ছেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন, যেতেই পারেন। কি আশ্চার্য! এটা তো কোনো ব্যাপার না। কিন্তু যে সময় যাচ্ছেন, সে সময় তার একটি বিশেষ বক্তৃতা প্রাণপণে প্রচার করা হবে চারদিকে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও থাকবে। আমাদের তখন ভোট। ওই স¤প্রদায়ের মানুষ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গেও থাকেন। সংখ্যায় তারা বেশ ভারী। যেকোওে হোক, যাকে বলে সুয়িং আনা ভোটে ….। তারা জানেন, তারা হেরে যাচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সেক্যুলার। ধর্মান্ধতার রাজনীতি এখানে কোনদিন হালে পানি পায়নি, পাবেও না। তবে সেটা জানেন। জেনে শুনে তারা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের স্মরণ নিচ্ছেন, যাতে তিনি ওখান থেকে একটা বক্তৃতা করতে পারেন এখানকার নির্বাচনী শিষ্টাচার মেনে। অর্থাৎ এখানে কিছু করা হলো না, অন্য জায়গা থেকে করা হলো; এখানে মানুষ শুনলো।’
উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ধওে নেয়া যাক, আমার এই ভিডিও ভাষণটির কারণে আমার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, তাতে আমার কিছু আসে যায় না। সত্যকে আপনি যেভাবেই চান চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।’
বাংলাদেশ ও বেগম সুফিয়া কামালকে নিয়ে গাওয়া গানের কথা উল্লেখ করে এই গায়ক বলেন, ‘মাননীয় বন্ধুরা, আমি সেই জায়গা থেকে বলছি এবং বলছি কবীর সুমন হিসেবে। আমি সেই লোকটা, যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একটি গান লেখেনি। পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে গান তৈরী করেনি। গান তৈরী করেছি বাংলাদেশকে নিয়ে। যার শেষ স্তবকে আছে, স্মৃতিতে এখনও শুনি বঙ্গবন্ধুর আহ্বান, পুবের আকাশ ছুঁয়ে শান্তিতে ভোরের আজান। আমি সেই গীতিকার, সুরকার, গায়ক ও বাদক। মনে রাখবেন, আমি সেই কবির সুমন, যেই লোকটা কিনা বাংলাদেশের আমরা সবাই যাকে খালাম্মা বলি, সেই বেগম সুফিয়া কামলাকে নিয়ে গান লিখে, সুর করে, গেয়ে বাজিয়ে ঘুওে বেরিয়েছি।’
বাংলাদেশের মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জনপ্রিয় এই সঙ্গীতশিল্পী বলেন, আমি সেই স¤প্রতি-ভালোবাসার জায়গা থেকে এই ভিডিও বার্তাটি পাঠাচ্ছি, অনুগ্রহ করে, আপনারা ব্যবহৃত হবেন না। পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের বন্ধু। এব্যাপারে অন্য কোনো বিবেচনা আনবেন না। এইটুকু মনে রাখবেন, যে সম্মানীয় ব্যক্তিটি যাচ্ছেন, তার সরকার এবং দল বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতিই জানাননি ক’দিন আগে। আরও অনেক ভাষা স্বীকৃতি পেয়েছে, বাংলা কিন্তু পায়নি। এটা মনে রেখে কি আপনারা একটি আপত্তি করতে পারেন না?
সবশেষে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রশংসা করে তাঁর উদ্দেশ্যে কবীর সুমন বলেন, ‘আপনার ভাষা, আপনার দেশের ভাষা, বঙ্গবন্ধুর ভাষা, আপনার পরিবারবর্গের ভাষা, আপনাদের সকলের ভাষা, আপনার দেশবাসীর ভাষা ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি পায়নি। যে সরকার এই স্বীকৃতি দেয়নি, সেই সরকারের প্রধান যাচ্ছেন আপনাদের দেশে।’ (সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব অনলাইন)

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নয় মাসব্যাপী কর্মসূচী:
স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে নয় মাসব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা করেছে বৃটেনের সবচেয়ে বেশী বাঙালি অধ্যুষিত বারা পূর্ব ল-নের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।
গত ১৬ মার্চ, মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বারার নির্বাহী মেয়র জন বিগস কাউন্সিলের উদ্যোগে এসব কর্মসূচী পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিমও বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ হাইকমিশন কাউন্সিলের এসব কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা এবং পরামর্শ প্রদান করবে। মেয়র জন বিগস ২৬ মার্চ বাঙালীদের প্রাণকেন্দ্র আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনারের পাদদেশে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিমকে নিয়ে প্রতীকীভাবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ৯ মাসব্যাপী এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করবেন।
বাংলাদেশের জন্য এই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ সময়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এই নয় মাসের মধ্যেই উদ্বোধন করা হবে পূর্ব ল-নে বর্ণবাদী হামলায় নিহত আলতাব আলীর নামে একটি কাউন্সিল ভবন। ওয়াপিংয়ে এই ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
মেয়র ঘোষিত ৯ মাস ব্যাপী অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটসে অবস্থিত ইংল্যা-ের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের কেন্দ্র ক্যানারি ওয়ার্ফের সদর দফতর বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকার রঙ্গে আলোকসজ্জিত করা। আগামী ২৯ মার্চ রাত ৭টায় এটি করা হবে। করোনা ভাইরাসের কারণে এই ভবনের কাছে জনসমাগম নিষিদ্ধ থাকবে। ইংল্যা-সহ সারা বিশ্বের মানুষ সরাসরি স¤প্রচারিত স্ট্রিমিং-এর মাধ্যমে এই আলোকসজ্জা দেখতে পাবেন।
কর্মসূচীর মধ্যে আরও রয়েছে- টাওয়ার হ্যামলেটসের বিভিন্ন সরকারী ভবন পর্যায়ক্রমে একইভাবে বাংলা অক্ষর এবং পতাকার রঙ্গের আলোকসজ্জায় সজ্জিতকরণ, বাঙালির প্রাণকেন্দ্র বাংলাটাউনের গেইট সংস্কার এবং আলোকসজ্জা, অসবর্ন স্ট্রিটের নাম পরিবর্তন, হোয়াইটচ্যাপেল আইডিয়া স্টোরে বাংলায় লেখা চিত্র প্রদর্শনী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে অংকিত চিত্র প্রদর্শনী, স্বাধীনতা যুদ্ধে বিলাতপ্রবাসীদের অবদান নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কাউন্সিলের বিভিন্ন চিঠিপত্রে লাল সবুজ রঙ্গে বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তির বিশেষ লগো ব্যবহার।
২৬ মার্চ চালু করা হবে কাউন্সিলের উদ্যোগে বিশেষ ওয়েবসাইট। এতে ৯ মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির নিয়মিত ঘোষণা ও হালনাগাদ তথ্য দেয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সাপ্তাহিক জনমতে প্রকাশিত ছবি ও খবরাখবরের প্রদর্শনীও থাকবে কর্মসূচীতে।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে জনসমাগম নিষিদ্ধ থাকায় প্রাথমিক দিকে বিভিন্ন কর্মসূচী অনলাইন এবং স্যোশাল মিডিয়াকে টার্গেট করে সাজানো হয়েছে। লকডাউন শিথিল হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় জনগণের অংশ নেয়ার মতো ইভেন্টের আয়োজন করা হবে।
মেয়র বলেন, বাংলাদেশের এই বিশেষ সময়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য আমাদের অনেক পরিকল্পনাই ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে আমাদেও মেলামেশা যেমন সংকুচিত হয়েছে তেমনি আমরা ব্যাপক আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছি। তারপরও আমরা বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, ৯ মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনকালে আমরা সবার পরামর্শ গ্রহন করবো। মেয়র বলেন, বাংলাদেশের জন্মের সাথে বৃটেন তথা টাওয়ার হ্যামলেটসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এখানকার প্রবাসী বাঙালিরা নানাভাবে এই স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। তাই বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। মেয়র এদেশে বেড়ে উঠা বাঙালিদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরার উপরও গুরুত্বারোপ করেন। কাউন্সিলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বলে জানান।
হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তিতে টাওয়ার হ্যামলেটসের উদযাপন কর্মসূচিতে হাইকমিশনকে সম্পৃক্ত করায় এবং ৯ মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেয়ায় মেয়রকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ৫০ বছর আমাদের জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এছাড়া এবছরই বাংলাদেশ এবং ইউকের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর হয়েছে। আমরা অবশ্যই ৯ মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে কাউন্সিলকে সকল ধরনের সহযোগিতা এবং পরামর্শ প্রদান করবো। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যেমন টাওয়ার হ্যামলেটসে আয়োজিত মিটিং-মিছিলে অংশ নিয়েছেন তেমনি এখানকার প্রবাসীরা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এজন্য টাওয়ার হ্যামলেটস আমাদের কাছে সবসময়ই একটি বিশেষ স্থান। (সূত্র: সংবাদ সম্মেলন)

বৃটেনের রাণীর শুভেচ্ছা বার্তা:
বৃটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে এক বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন। গত ২১ মার্চ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে পাঠানো এই বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তিতে রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের জনগণকে তাঁর আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশের অব্যাহত সম্মৃদ্ধি কামনা করেন। বৃটেনের রাণী তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তিতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং এই বিশেষ মূহুর্তে আপনাকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি ও একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণকে জানাচ্ছি শুভ কামনা। আমাদের পারস্পরিক সম্পকের্র ভিত্তিগভীর বন্ধুত্বের ও সৌহার্দের
এবং এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য ৫০ বছর আগেরমতো আজো অটুট রয়েছে। আমি আশা করি, একটি কঠিন বছরের পর বৈশ্বিকস্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করে আমাদের আগামী দিনগুলো আবারো সুন্দর হয়ে ওঠবে। (সূত্র: যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন)

মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব অনুমোদন:
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে তাঁর স্বাধীনতা ঘোষণার স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উৎসবের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কংগ্রেস মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা এবং দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধেরও স্বীকৃতি দিয়েছে। এই যুদ্ধে লাখ লাখ লোক নিহত এবং গৃহহারা হয়।
সম্প্রতি ঢাকায় প্রাপ্ত ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পাঠানো বাংলাদেশ মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত মাকির্ন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সভায় “বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উৎসব” শিরোনামের (এইচ, আরই্এস ২৩৯) একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।
নিউইয়র্ক থেকে ডেমোক্রেট প্রতিনিধি কংগ্রেসওমেন আলেক্সা-েরিয়া ওকাসিয়ন ওরওতজ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
হাউজ অব পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান গ্রেগোরি মীকস, কংগ্রেসওসম্যান রাশিদা তালিব এবং কংগ্রেসম্যান জিমি গোমেজ সম্মিলিতভাবে এই প্রস্তাবটি আনেন। তারা সকলেই যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য।
প্রস্তাবে ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের ‘শেয়ারিং লাভ অব ফ্রিডম’ শীর্ষক বক্তব্যের রেফারেন্স উল্লেখ করা হয়।
পাশাপাশি, প্রস্তাবে ২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশের ৭ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশে এতো অধিক সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের নীতির প্রতিও সমর্থন ব্যক্ত করা হয়। (সূত্র: বাসস)

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close