সম্পাদকীয়

বিলাতে মানুষ কি গিনিপিগ?

এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় ।। ইসু‍্য ২১৯১
ভ্যাকসিন সফল হয়েছে — এমন দাবি এখনো কেউ করেনি। সংক্রমণের হার কিছুটা কমেছে, এটা সত্য। কিন্তু যেখানে মৃত্যুহার এখনো ২০০-৬০০’র মধ্যে উঠানামা করছে, সেখানে স্কুল-কলেজ সহ আগামী ৪-৫ সপ্তাহে সবকিছু খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত রীতিমতো বিস্ময়কর। ক্রিস্টমাসের উছিলায় ডিসেম্বরের সিদ্ধান্ত যে কতটা ভয়াবহ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য খারাপ সিদ্ধান্ত ছিলো, এটা এখন নিশ্চিতভাবে বলা যায়. জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন-করছেন। কিন্তু বরিস জনসন এখন অর্থনীতি আর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনো তোয়াক্কা করছেন না বিশেষজ্ঞদের মতামত আর জনগণের উদ্বেগ। এখন বলা হচ্ছে, ভ্যাকসিনের কার্যকরিতা পরীক্ষার জন্য হয়তো আগামী কয়েক সপ্তাহের স্বাভাবিকীকরণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তাহলে জনমনে এই প্রশ্ন খুবই সঙ্গতঃ বিলাতে মানুষ কি তাহলে এখন শুধুই গিনিপিগ?

মহামারীতে রাজনীতি বনাম জনস্বাস্থ্যের চলমান সংঘাতে গুরুতর এই প্রশ্নের জবাব বরিস সরকারকে অবশই একদিন দিতে হবে।

হাইকোর্টের সীমানা

বাংলাদেশ হাইকোর্ট

এক সপ্তাহ পার হলেও ফেসবুক ও ইউটিউব কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ হাইকোর্টের নির্দেশনা তোয়াক্কা করছে বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। “অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান”- আল-জাজিরার এই অনুসন্ধানী রিপোর্টের এক ঘন্টার ভিডিওটি ইউটিউব ইংরেজিতে সাড়ে সাত মিলিয়ন এখন পর্যন্ত ভিউ হয়েছে। আর বাংলা ভার্সন এবং ফেসবুক মিলিয়ে এই সংখ্যা নিঃসন্দেহে আরো কয়েকগুণ হবার সম্ভাবনাই বেশি । তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো? আন্তর্জাতিক টেক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের হাইকোর্টের নির্দেশনা কে মান্য করতে হবে এরকম কোন আইনগত সীমাবদ্ধতা হয়তো তারা খুঁজে পায়নি। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- কোনো নির্দেশনা জারির আগে সেই আদালত বা কর্তৃপক্ষ কেনো তার জুরিসডিকশন বা সীমানা নিয়ে চিন্তা করতে ব্যর্থ হবেন? ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় তার টুইটার ও ইউটিউব একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছিলো-এই দুই টেক জায়ান্ট। এটা কি বাংলাদেশের দায়িত্বশীল মানুষদের ভুলে যাবার কথা? এছাড়া ৬জন এমিকাস কিউরির মধ্যে ৫জনই ওই রিট মামলাটি চলতে পারেনা বলে মতামত দিয়েছিলো। কিন্তু আদালত রিটের মূল আবেদন (বাংলাদেশে আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ) পাশ কাটিয়ে কন্টেন্ট তুলে নেবার নির্দেশনা দিয়েছেন। সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।রীতিমতো বিস্ময়কর।  আল জাজিরার রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রীর কিছু লোক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ও বাহিরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে। মাফিয়াদের হাত কি আদালতেও বিস্তৃত? নির্দেশনার সীমানা না বুঝে উচ্চ আদালত কি থেকে যে কোনো নির্দেশ প্রধান প্রকারান্তরে আল-জাজিরার উত্থাপিত অভিযোগ প্রকারান্তরে সমর্থন করে এই সহজ সমীকরণ বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এটি বাংলাদেশের ইমেজ নিয়ে বিশ্বের গণমাধ্যম ও আইনের জগতে খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে থেকে যাবে। এটা অবশ্যই একটা উদ্বেগের বিষয়। এই উদ্বেগে কে উদ্বিগ্ন হবেন কিংবা হবেন না;  সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে মাফিয়াতন্ত্র বাংলাদেশের সকল পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে- এই দৃষ্টান্তটি এই সরকার যখন থাকবে না তখন ও আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন কতৃপক্ষ ব্যবহার কিংবা অপব্যবহার করতে পারে। এ ধরনের দায়িত্বহীন নির্দেশনার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিণতি দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। এই সত্যকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও এর পরিণতিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close