নিউজ

দুর্নীতি: ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও ট্রেজারারসহ ৩ জন কারাগারে, প্রধান আসামি যুক্তরাজ্য আ’লীগ নেতা এহসান ধরাছোঁয়ার বাইরে

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।

দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারকৃত সাবেক ভিসি  প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার

কুমিল্লা, ১১ ফেব্রুয়ারী – কুমিল্লায় বেসরকারি ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রেজারারসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবউল্লাহ এই আদেশ দেন প্রধান আসামি যুক্তরাজ্য প্রবাসী এহসান ধরা  ছোঁয়ার  বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। 

মি. এহসান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা। দলীয় প্রভাবেই গত কয়েক বছর নানা জালিয়াতি, বলপ্রয়োগ ও অনিয়মের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি কুক্ষিগত করে  রাখার অভিযোগে তাঁর ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে কয়েকটি ফৌজদারী মামলা ২০১৭ সালের মার্চ মাস (কুমিল্লা সদর থানা, মামলা নং-১০, ০৫/০৩/২০১৭) থেকে বিচারাধীন আছে বলে জানা গেছে। ২০১৭ সালের মামলাটিসহ তিনটি মামলায় মি. এহসান প্রধান আসামী। ওই মামলায় অপর একজন আসামী ইতিমধ্যে একমাস জেল খেটে এখন জামিনে আছেন। দুদকের মামলার পর থেকেই পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন তিনি। তবে ইতিমধ্যে ইউরোপ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে(৫জানুয়ারী ২০২০) দেখা গেছে। এই ব্যাপারে ছবিতে থাকা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই ছবির সত্যতা নিশ্চিত করেন, তবে এটা অনেক আগের বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, মি. এহসান লণ্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। 

কুমিল্লা ম্যাপ

এদিকে, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এ এম মোজাহারুল ইসলাম মোল্লা (তপন) ও অপর ট্রাস্টি ব্যারিস্টার মোর্শেদ মামলার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এই প্রতিবেদককে বলেন, ২০১৭ সালে দুদকের মামলার পর পলাতক থেকেও প্রধান আসামি কয়েকবার দেশে যান। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারেনি। কিন্তু তিনি ঠিকই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে গিয়ে ফটো সেশন করেছেন। এটাই চরম বিস্ময়কর।

সোমবার দুর্নীতি ও জালিয়াতির দুইটি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার, ট্রেজারার সিদ্দিকুর রহমান ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য শহীদ আজিজকে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আসফিকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার বর্তমানে ঢাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স’এর ভিসি হিসেবে কর্মরত।

প্রধান আসামি এহসানুল হক 

তিনি জানান, দুদক কুমিল্লার সহকারী পরিচালক একে এম আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জালিয়াতির দুইটি মামলা দায়ের করেন। প্রথম মামলায় আসামি করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান এহসানুল হক, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সাইফুল আলম চৌধুরী, ট্রেজারার সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তারকে। ২য় মামলায় আসামি করা হয় চেয়ারম্যান এহসানুল হক, ট্রেজারার সিদ্দিকুর রহমান, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য শহীদ আজিজ, সদস্য সাইফুল আলম চৌধুরী,সদস্য ফারহানা রহমান, সদস্য মেরিনা জেবিন, সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার, ইউনিয়ন ব্যাংক কুমিল্লা পদুয়ার বাজার শাখার ম্যানেজার আনিস আহমেদ, ডেপুটি ম্যানেজার মো. সোলায়মানকে। এদিকে আমাদের কুমিল্লা প্রতিনিধি আরো জানিয়েছেন, উভয় মামলার প্রধান আসামি  বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এহসানুল হক’র বিরুদ্ধে ট্রাস্টি বোর্ডে অবৈধভাবে সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও দখল, ট্রাস্টি বোর্ডের রেজুলুশন জালিয়াতি, স্বাক্ষর জালিয়াতি, অবৈধভাবে পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যাঙ্ক একাউন্ট খুলে তহবিল তসরুপের অভিযোগে আরেকটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে । সর্বমোট তিনটি মামলার প্রধান আসামি এহসানুল হক । দুদকের মামলায় চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামী হয়েও তিনি বাংলাদেশ সফর করেছেন।

ব্রিটেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, কুমিল্লা

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অবস্থান করলেও আল জাজিরার হারিস-জোসেফ কেলেঙ্কারির মতো রয়ে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এ ব্যাপারে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে অপারগতা জানান এবং বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close