নিউজ

করোনার নতুন ওষুধের জন্য অক্সফোর্ডের গবেষণা

।। সুরমা ডেস্ক ।।
লণ্ডন, ৩১ জানুয়ারী – করোনা প্রতিরোধ ও নির্মূলে ভ্যাকসিনের পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ তৈরী হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর এবং কম দামী নতুন ওষুধ আনতে গবেষণা করছে বৃটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। বাজারে প্রচলিত ওষুধ নিয়েই চলছে তাদের এই গবেষণা। বিজ্ঞানীদের দাবী, ওই ওষুধই হয়ে উঠবে জীবনদায়ী। সংক্রমণজনিত রোগে মৃত্যু ঠেকাবে। ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের সংবাদে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

যে কোনও রকম প্যাথোজেনের সংক্রমণ ঠেকানোর ওষুধ নিয়েই গবেষণা করছেন অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা। নতুন ওষুধ কী থেকে তৈরী হবে তা এখনও বিস্তারিত না জানালেও, বিজ্ঞানীরা বলছেন, আইভারমেকটিন নামে ড্রাগ থাকবে এই নতুন ওষুধের ফর্মুলায়। প্যারাসাইটের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য এই আইভারমেকটিনের থেরাপি করেন ডাক্তাররা। বহু পুরনো এই ওষুধ ১৯৭৫ সালে তৈরি হয়েছিল। ১৯৮১ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরী ওষুধের তালিকায় এই ওষুধটিও স্থান পায়। মার্কিন ফুড অ্যাণ্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এই ওষুধকে অ্যান্টিপ্যারাসাইট এজেন্ট বলে উল্লেখ করেছে।

অক্সফোর্ড জানিয়েছে, নতুন যে ওষুধ তৈরী হচ্ছে তার মধ্যে এই ড্রাগের ফর্মুলাও থাকবে। নতুন ওষুধের কাজ হবে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের রেপ্লিকেশন বা বিভাজন ক্ষমতাকে থামিয়ে দেওয়া। মানুষের দেহকোষে ঢুকে এই ভাইরাস তার প্রতিলিপি তৈরী করে সংখ্যায় বাড়াতে থাকে। নতুন ওষুধ এই প্রতিলিপি তৈরীর প্রক্রিয়াকেই থামিয়ে দেবে। পাশাপাশি, কোষের মধ্যে ভাইরাসের প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেবে।

ইন্টার্ন ভার্জিনিয়া মেডিক্যাল স্কুলের গবেষক পল মারিক বলেন, যে কোনও অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগের মতোই কাজ করবে এই ওষুধ। প্রদাহজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে। করোনা সংক্রমণে তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশনের কারণেই নানা জটিল রোগ হচ্ছে। কোষ থেকে সাইটোকাইন প্রোটিনের ক্ষরণ বেশী হচ্ছে। যে কারণে বিভিন্ন অঙ্গে প্রদাহজনিত রোগ হচ্ছে। সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপেরিটারি সিন্ড্রোমের কারণও তাই। এই ওষুধ ইনফ্ল্যামেশন কমাতে সাহায্য করবে।

করোনা চিকিৎসায় মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নিয়েও কাজ করছে অক্সফোর্ড। বৃটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তত্ত্বাবধানে এই ওষুধ তৈরী করেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং রিজেনারেশন ফার্মাসিউটিক্যালস।

গবেষকরা বলছেন, ভাইরাসের মোকাবিলায় মানুষের শরীরেও যে অ্যান্টিবডি তৈরী হয় তার মধ্যে দুটি অ্যান্টিবডিকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এই জোড়া অ্যান্টিভাইরাল অ্যান্টিবডির মিশ্রণে ককটেল ড্রাগ তৈরী হয়েছে, এর নাম রিজেনারেশন-কভ২ । এই অ্যান্টিবডি ককটেলের সেইফটি ট্রায়ালে ভালো ফল পাওয়া গেছে বলে দাবী করা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি সংকটাপন্ন কোভিড রোগীদের উপর এই ড্রাগের প্রয়োগ করা হবে। তিন পর্যায়ের ট্রায়াল শেষে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close