নিউজ

করোনা: বৃটেনে লক্ষাধিক মৃত্যু

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ১৫ জানুয়ারী – তৃতীয়বারের মতো লকডাউন, বার বার কঠোর বিধিনিষেদ আরোপের পরও থামছে না মৃত্যু ও নতুন আক্রান্তের সংখ্যা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আগের সকল পরিসংখ্যান ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিদিনকার মৃত্যু ও সংক্রমণের হার। ১৩ জানুয়ারী, বুধবার ১,৫৬৪ জনের মৃত্যুর মধ্যে মহামারি শুরু পর একদিনের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এনিয়ে করোনা ভাইরাসে বৃটেনে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সরকার ও বিভিন্ন পরিসংখ্যান সংস্থা থেকে প্রাপ্ত হিসাব বিশ্লেষণ করে ১,০১১৬০ জনের মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করেছে গার্ডিয়ান। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মহামারি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণে চরম ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রাজিলে ছড়িয়ে পড়া নতুন ধরণের করোনা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, দুনিয়াজুড়ে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। ইতোমধ্যে ১৯ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারস এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৯টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯ কোটি ২০ লাখ ছয় হাজার ১৬৫। এর মধ্যে ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ছয় কোটি ৫৮ লাখ ১৮ হাজার ৬২৯ জন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। এক পর্যায়ে উৎপত্তিস্থল চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে আশার কথা হচ্ছে, এখন আক্রান্তের পর সুস্থ হওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে। এরইমধ্যে করোনার টিকাও আবিষ্কৃত হয়েছে।
ওয়ার্ল্ডোমিটারস-এর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই কোটি ৩৩ লাখ ৬৮ হাজার ২২৫। মৃত্যু হয়েছে তিন লাখ ৮৯ হাজার ৫৯৯ জনের। আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি চার লাখ ৯৫ হাজার ৮১৬। এর মধ্যে এক লাখ ৫১ হাজার ৫৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩৭। এর মধ্যে দুই লাখ চার হাজার ৭২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৭ হাজার ৭০৬। এর মধ্যে চার হাজার ৬৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও দেশটির বিরুদ্ধে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করার অভিযোগ রয়েছে।
মহামারির শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দাবী করে আসছিল, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পেছনে চীনের ভূমিকা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সেই দাবিকে আরও জোরালো করে চীনের উহানের ল্যাবের এক ভাইরোলজিস্ট লি মেং ইয়ানের বক্তব্য। লি মেং ইয়ান বলেন, চীনের ল্যাবেই তৈরি করা হয়েছে করোনাভাইরাস। এটি মানুষের তৈরি বলে তার কাছে শতভাগ প্রমাণ রয়েছে।
হংকংয়ে জন্ম নেওয়া ভাইরোলজিস্ট লি মেং ইয়ান পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। বছরের শুরুতে তাকে চীন হত্যা করতে চেয়েছিল বলে ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close