নিউজ

ট্রাম্প ইম্পিচড

মার্কিন ইতিহাসে এই প্রথম দ্বিতীয় দফা
হোয়াইট হাউজে আজীবন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ১৪ জানুয়ারী – একের পর এক সমালোচনার জন্মদাতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার শেষ পর্যায়ে এসেও অপ্রত্যাশিত বিতর্ক ও সমালোচনা জন্ম দিয়েছেন। চরম নীতিবাচক কর্মকা-ের জন্য আমেরিকার ইতিহাসে তিনিই একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি দ্বিতীয়বারের মতো ইম্পিচমেন্ট বা অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছেন। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবনে হামলায় উসকানি দেয়ার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মেয়াদ শেষের আগেই ‘লজ্জাজনক’ বিদায় দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ। ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার অভিশংসনের মুখে ফেলতে মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের পক্ষে ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাব পাস করেছে তারা। ১২ জানুয়ারী, মঙ্গলবার রাতে পাস হয়েছে প্রস্তাবটি। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইম্পিচ করতে ডেমোক্র্যাটদের সাথে এবার বেশ কয়েকজন রিপাবলিকানও যুক্ত হয়েছেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৭ জন রিপাবলিকান ট্রাম্পের ইম্পিচমেন্টের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন বলে জানা গেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বিদায় বেলায় এসেও অসম্মানজক অপসারণের মুখে পড়তে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এখন শুধু সিনেট সদস্যদের সমর্থন পেলেই অপসারণ কার্যক্রম চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী ব্যবহার করে প্রেসডেন্ট ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। এ আহ্বানে সাড়া দেননি পেন্স। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র সপ্তাহখানেক আগে এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার কোনো ইচ্ছা নেই তার।
এর কয়েক ঘণ্টা পরই প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পকে অভিশংসিত করার প্রস্তাব পাস হয়। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন মেরিল্যাণ্ডের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেমি রাসকিন।
প্রস্তাবে মাইক পেন্সকে ২৫তম সংশোধনীর অনুচ্ছেদ ৪-এ প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে ‘অযোগ্য’ ট্রাম্পকে সরিয়ে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। বুধবার এ প্রস্তাবের ওপর প্রতিনিধি পরিষদে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
অবশ্য প্রস্তাব পাসের আগেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে পাঠানো এক চিঠিতে এ পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। চিঠিতে মাইক পেন্স বলেন, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র আটদিন আগে আপনি ও আপনার ডেমোক্র্যাট মন্ত্রিসভা ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবী জানিয়েছেন। এ ধরনের পদক্ষেপ জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অথবা সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ভালো কিছু হবে বলে মনে করি না।
তবে ট্রাম্পকে মেয়াদ শেষের আগেই হোয়াইট হাউস থেকে সরানোর এ প্রক্রিয়ায় সমর্থন দিচ্ছেন বেশকিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও।

প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান প্রতিনিধি লিজ চেনি আগেই ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার পদক্ষেপে সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ভোটে তিনি এর পক্ষে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় দলের বাকিদেরও বুঝেশুনে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এ রিপাবলিকান নেতা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close