নিউজ

গ্রন্থালোচনা: ব্রেইকথ্রু

লণ্ডন, ১৮ ডিসেম্বর – ব্রেইকথ্রু। একটি অভিজ্ঞতা সম্ভার গ্রন্থ। সত‍্য ঘটনাকে উপজিবব‍্য করে লেখা। লিখেছেন সোহেল আজিজ। বলা যায়, এটি লেখেকর আত্মজীবনী। গ্রন্থটি পাঠ শেষে পাঠ প্রতিক্রিয়া বর্ণনা করেছেন— ড. রেণু লুৎফা
ড. রেণু লুৎফা একই সঙ্গে বিলেতে আমাদের পূর্ব পুরুষদের সংগ্রামকে সামনে এনে তিনি উল্লেখ করেছেন, সোহেল আজিজ যদি নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বাঙালি কমিউনিটির পাশে এসে দাঁড়াতেন বা তাদের দিকে ফিরে তাকাতেন তাহলে এই কমিউনিটি অনেক উপকৃত হতো। তথাপি তিনি এও বলেছেন, আমাদের নতুন প্রজন্ম যদি এই গ্রন্থটি পাঠ করে তাহলে তারাও জীবনযুদ্ধে অনেক উৎসাহ ও সাহস কুড়াবে। বইটি প্রকাশ করেছে বৃটেনের ‘দি বুক গিল্ড’ পাবলিশার্স।

ব্রেইকথ্রু (Breakthrough) বইখানি পড়া শেষ হলো। অনেকদিন অমন সুখপাঠ্য বই পড়িনি। বই খানি লিখেছেন আমাদের সকলের অতি পরিচিত সোহেল ইবনে আজিজ। সোহেল আজিজ। বইখানি তার সমৃদ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভরপুর। অপূর্ব ভাষায় বর্ণনা করেছেন তার কালের কথা। সিলেটের শেখঘাট থেকে শুরু করে বালাগঞ্জ হয়ে শুরু হয়েছে তার প্রাথমিক জীবন। বৃটেনিয়া রয়েল নেভেল কলেজ, ডার্টমাউথ। ডার্টমাউথেই তার জীবনের চাকা ঘুরে যায়। দেখা হয় তার হবু স্ত্রী আন এর সাথে। পরিনতি পাকিস্তান নেভি থেকে ববরখাস্ত । মোট ১৩ অধ্যায়ের তিনশত পাতার বিরাট বই। তার জীবনের নানা চড়াই-উতরাই এর সুনিপুণ বর্ণনা। এতে তার নিজের জীবনের বর্ণনা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে পরিপার্শ্বিক সমাজ জীবনের কথা, সময়ের কথা, বর্ণবাদের কথা, রাজনৈতিক পরিবেশ, ভিনদেশী এক যুবকের জীবন যুদ্ধের এক ধারাবাহিক বর্ণনা। বার বার সুক্ষ্ণ বর্ণবাদের কাছে হেরে গিয়েও আবার উঠে দাড়ানোর সে কি উদ্যোম প্রচেষ্টা। বৃটিশ এস্টাবলিশমেন্টের ভিতরে বর্ণবাদের সুক্ষ্ণ অবস্থানের বর্ণনা।

স্ত্রী আনার প্রতি উপছে পড়া শ্রদ্ধা আর ভালবাসা। মাত্র ১৯ বছর বয়সে শুরু করা ভালবাসার দীর্ঘ পথচলা। পড়তে গিয়ে কোথাও পড়ার গতি শ্লথ হয়ে যায়নি।
সোহেল আজিজ তাঁর চাকুরী জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রশংসনীয় অবদান রেখেছেন। তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: মেম্বার, এডভাইজারি কাউন্সিল অব ইমিগ্রেশন এণ্ড রেইস রিলেশন, কমিশনার, কমনওয়েলথ স্কলারলশীপ কমিশন, মেম্বার, ইণ্ডাষ্ট্রিয়াল ট্রাইবুনেল, চেয়ারম্যান, এনএইচএস ট্রাষ্ট, চেয়ারম্যান, লণ্ডন প্রবেশন বোর্ড ইত্যাদি।

আমাদের নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের এই বইখানি পড়া অত্যন্ত জরুরী। টিকে থাকার জন্য আমাদের পূর্বসুরিদের যে কী পরিমাণ শিক্ত দিয়ে লড়াই করতে হয়েছে সে সম্পর্কে তাদের ওয়াকিবহাল হওয়াও জন্য জরুরী।
আবার ক্ষুদ্র স্বার্থের খাতিরে নিজেদের বৃহত্তর স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে যা হালে আরো বেশী করে প্রতিয়মান হচ্ছে।
বইখানি পড়তে পড়তে মনে হলো সোহেল আজিজ যদি তার শিক্ষা, মেধা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে মরহুম ফখর উদ্দিন আহমদ এবং তাসাদ্দুক আহমদের মতো কমিউনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কমিউনিটির পাশে দাঁড়াতেন তাহলে আমাদের অগ্রযাত্রা কি আরো তরান্বিত হতো?!
বইটির বহুল প্রচার হোক।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close