সম্পাদকীয়

করোনা ভ্যাকসিন: কেন এই সংশয়?

সুরমার এ সংখ‍্যার সম্পাদকীয় ।। ইসু‍্য ২১৮০

করোনা ভ্যাকসিন আমাদের প্রতি বিজ্ঞানের উপহার। আসুন তাকে সাদরে গ্রহণ করি। আবারো আপনার অফিস কিংবা স্কুল, রেস্তোঁরা এবং কনসার্টে সংক্রমণের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি ছাড়াই স্বাভাবিক ছন্দে যেতে পারার কথা কল্পনা করুন। আগের মত কোথাও ভ্রমণ বা যাতায়াত করতে সক্ষম হওয়ার কথা ভাবুন। পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের আলিঙ্গনে করতে পারার কল্পনা করুন। আমরা ২০২১ সালে সেখানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা পেয়েছি কারণ সরকারি উচ্চ পর্যায়ের নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন শেষে করোনার বিধ্বংসী ক্ষমতার গতিরোধের জন্য একটি নিরাপদ, কার্যকর COVID-19 ভ্যাকসিন দ্রুত গতিতে আমাদের কাছে উপস্থিত হয়েছে। বিজ্ঞানের এই উপহারটি আমাদের শরীরে করোনা মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে – যদি আমরা এটি গ্রহণ করি।

COVID-19 ভ্যাকসিন আসলেই কতটুকু কার্যকর হবে সে বিষয়ে থেকে আলোচনা এখন সরে এসেছে যথেষ্ট সংখ্যক ব্রিটিশ নাগরিকেরা এটি গ্রহণ করতে রাজি হবে কিনা? এমনকি কেউ কেউ আবার জিজ্ঞেস করছে এই ভ্যাকসিন হালাল নাকি হারাম?

ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার উপর সংশয় হতাশার সাথে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, এটি যে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম এমন অভূতপূর্ব বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হাতে থাকা সত্ত্বেও। এটা অবশ্য সত্য যে ১০০ ভাগ নিরাপদ হবার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারছে না, পরীক্ষামূলক ট্রায়ালে দুই একজনের ভ্যাকসিন শট অপ্রীতিকর হয়েছে এবং কখনও কখনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। ভ্যাক্সিন বিরোধী আন্দোলন ভুলভাবে বিশ্বাস করে যে এটি অটিজমের কারণ হতে পারে, তার জন্য তারা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বিশ্বাস করে এর বিরুদ্ধে কথা বলছে । আমেরিকাতে ও একই অবস্থা। এখানকার কালো সম্প্রদায়ের মধ্যে যুগ যুগ ধরে চিকিত্সা ব্যবস্থা দ্বারা অবহেলিত হবার মানসিক উত্তরাধিকারের কারণে তাদের অহেতুক সন্দেহগুলি গভীরতর হয়ে জনমানসে গেঁড়ে বসেছে।
তবে এই মুহূর্তে আমাদের যে গুরুতর পদক্ষেপটি নেওয়া উচিত তা হল ভ্যাকসিন বিষয়ে অহেতুক উদ্বেগকে ভেঙে ফেলা এবং এর সর্বোত্তম উপায় হ’ল ভ্যাকসিন বিকাশকারী, নিয়ামক এবং বিশেষজ্ঞরা COVID-19 ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা এবং যেকোনো ত্রুটিগুলি সম্পর্কে যথাসম্ভব তথ্য ভাগ করে নেওয়া। সাধারণমানুষ-এর এই উদ্বেগগুলির সমাধান করতে হবে মেডিকেল স্থাপনা এবং চিকিৎসক এবং নার্সরা পৃথকভাবে রোগীদের সাথে খোলামেলা কথা বলার মাধ্যমে মানুষের অহেতুক সমস্যা অনেকটাই দূর করতে পারেন।

ভ্যাকসিন আসলেই কাজ করে এমন আশ্বাস দরকার। ভ্যাকসিনের মাধ্যমে পোলিও এবং এ জাতীয় অন্যান্য রোগ নির্মূল করা হয়েছিল। হাম ২০ বছর আগে অদৃশ্য হয়ে গেছে। সংক্রামক রোগের বিষয়ে আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি, ডাঃ অ্যান্টনি ফৌসি ইউএসএ টুডে পত্রিকা কে বলেছেন যে একবার ভ্যাকসিনটি এফডিএ অনুমোদন পেলে তিনি তা গ্রহণ করবেন এবং তাঁর পরিবারকেও পরামর্শ দেবেন।

সবশেষে আমরা বলতে চাই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একমাত্র হাতিয়ার হল বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা। গত বছর খানেক ধরে সারা পৃথিবীর কোন জীববিজ্ঞানীরা একটি কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কার এর জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা সবচেয়ে কার্যকর উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। করোনা প্রতিরোধে আমাদের জন্য বিজ্ঞানের এক অনন্য উপহার এবং একে আমাদের সাদরেই গ্রহণ করা উচিত।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close