নিউজ

বিশ্বে সর্বপ্রথম ফাইজার করোনা টিকা অনুমোদন বৃটেনের

আগামী সপ্তাহের ঐতিহাসিক সূচনা মুহূর্তে ৮ লক্ষ ডোজ টিকা প্রাপ্তির প্রত্যাশা

।। সুরমা ডেস্ক ।।
লণ্ডন, ৪ ডিসেম্বর – বিশ্বে সর্বপ্রথম টিকা অনুমোদনকারী দেশ হিসেবে টিকাদান কর্মসূচীর ঐতিহাসিক সূচনা করতে যাচ্ছে বৃটেন। প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে বৃটেন কোভিড মোকাবেলায় ফাইজার/বায়োএনটেক আবিষ্কৃত টিকার অনুমোদন দিয়ে আগামী সপ্তাহে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকা মানুষের মধ্যে সূচনা করতে যাচ্ছে টিকাদান কর্মসূচীর। আগামী সপ্তাহের ঐতিহাসিক সূচনা মুহূর্তে ৮ লক্ষ ডোজ টিকা সরবরাহ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমেরিকা ও ইউরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই ভ্যাকসিনটি বৃটেনের মেডিসিন্স অ্যাণ্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি অথরিটি (এমএইচআরএ) এর মাধ্যমে জরুরীভাবে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এমএইচআরএকে ১ জানুয়ারির আগে সরকার বিশেষ বিধিমালায় ভ্যাকসিন অনুমোদনের ক্ষমতা দিয়েছিল, ব্রেক্সিটের পরে বৃটেনে এই সংস্থাটিই ওষুধ অনুমোদনের জন্য পুরোপুরি দায়বদ্ধ হয়ে উঠবে।
আগামী দিনগুলিতে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজগুলি আসবে বলে জানিয়েছে সরকারের সংস্থাটি। বৃটেন এই ভ্যাকসিনের ৪০ মিলিয়ন ডোজ ক্রয় করেছে, যা চূড়ান্ত পরীক্ষায় ৯৫% কার্যকারিতা দেখানো হয়েছে।
ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ অ্যাণ্ড সোশ্যাল কেয়ারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আজ (২ ডিসেম্বর, বুধবার) ফাইজার/বায়োএনটেকের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনটি ব্যবহারের জন্য এমএইচআরএ’র দেওয়া প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

আগামী সপ্তাহ থেকে এটি বিতরণ শুরু হবে বৃটেনে। এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব মানুষকে রাখা হয়েছে কয়েকদিনের মধ্যে তাদের ওপর প্রয়োগ করা হবে এই টিকা। এরই মধ্যে এই টিকার ৪০ মিলিয়ন ডোজ অর্ডার করেছে বৃটেন। আর এই টিকা ব্যবহার করা যাবে ২ মিলিয়ন মানুষের ওপর। কারণ প্রতিজন মানুষের জন্য প্রয়োজন দুটি করে টিকা। খুব দ্রুত প্রয়োজন প্রায় এক কোটি টিকা। কয়েকদিনের মধ্যে বৃটেনে আসবে করোনা ভাইরাসের এই টিকা।

ব্রিটিশ হেলথ সেক্রেটারি ম্যাট হ্যানকক টুইটে বলেছেন, সাহায্য আসছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে টিকাদান প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবাখাত।’ তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তারা বলেছেন, টিকা এসে গেছে বলেই হঠাৎ করে আগের মতো চলাফেরা করা যাবে না। নজরদারি রাখতে হবে। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে পারে এমন সব নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এর অর্থ হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মুখে মাস্ক পরতে হবে। পরীক্ষা করাতে হবে। যদি কারো সংক্রমণ হয় তাহলে তাকে আলাদা থাকতে হবে।
করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা হলো একটি এমআরএনএ (ম্যাসেজ-আরএনএ) টিকা। এতে করোনা ভাইরাসের জেনেটিক কোডের ক্ষুদ্র একটি অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে মানব শরীরে এমআরএনএ টিকা প্রয়োগের জন্য কখনো অনুমোদন দেয়া হয়নি, যদিও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার সময় এই টিকা ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের ওপর। উল্লেখ্য, ফাইজারের এই টিকা সংরক্ষণ করতে হবে মাইনাস ৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। ফলে ড্রাই বরফ সমৃদ্ধ বিশেষ ধরণের বাক্সে করে এই টিকা স্থানান্তর করতে হবে। একবার সরবরাহ দেয়া হয়ে গেলে কমপক্ষে ৫ দিন এই টিকা রাখতে হবে ফ্রিজে।
কে এই টিকা আগে পাবেন তা নিয়েও চলছে নানা জল্পনা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা লোকদের প্রথমে এই টিকা দেয়া উচিত। এর মধ্যে রয়েছেন কেয়ার হোমের বাসিন্দা, স্টাফ, ৮০ বছরের ওপরের মানুষ, স্বাস্থ্য ও সেবাকর্মী। এসব শ্রেণীর মানুষকে প্রথমেই এই টিকা দেয়া উচিত। ফলে তারা আগামী সপ্তাহেই পাচ্ছেন এই টিকা। তবে ৫০ বছরের বেশি বয়সী এবং যুব শ্রেণীর সবার জন্য এই টিকা পেতে অপেক্ষ করতে হবে আরো কিছু সময়। ২০২১ সালের প্রথম দিকে চলে আসতে পারে সরবরাহ।
উল্লেখ্য, বৃটেন শুরুতেই কয়েকটি কোম্পানি থেকে ৩৫৭ মিলিয়ন ভ্যাকসিন সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করে রেখেছে। তম্মধ্যে অক্সফোর্ড/আস্ট্রাজেনকার ১শ’ মিলিয়ন, নোভাভ্যক্স‘র ৬০ মিলিয়ন, ফাইজার/বায়োএনটেক‘র ৪০ মিলিয়ন, মডার্নার ৭ মিলিয়ন, জ্যানসেন‘র ৩০ মিলিয়ন, জিএসকে/স্যানোফি পাস্তুরু ৬০ মিলিয়ন এবং ভ্যালনোভার ৬০ মিলিয়ন। – সূত্র: গার্ডিয়ান অনলাইন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close