ফিচার

মুসলিম দেশের ভাস্কর্যসমৃদ্ধ সংস্কৃতি

|| সৈয়দ হিলাল সাইফ ||
লেখক: ক‌বি ও ছড়াকার

ভাস্কর্য চিন্তাশীল সৃষ্টিকর্ম আর এর মাধ্যমে একটি জাতি বা গোষ্ঠীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বীরগাঁথা যেমন প্রকাশিত হয়, তেমনি ভাস্কর্যের মধ্যে দিয়ে একটি দেশের সৃজনশীল চিন্তার উন্মেষ প্রকাশ পায়। আর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো মুুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলোর প্রায় সবকয়টিতেই রয়েছে ভাস্কর্য শিল্পের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

ভাস্কর্য শিল্প বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশে খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতকের ভাস্কর্যও আবিষ্কৃত হয়েছে যা থেকে বোঝা যায় সুদূর অতীতকাল থেকে এখানে ভাস্কর্যশিল্পের বিকাশ ঘটেছিল। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে মূর্তি ও ভাস্কর্য বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গৌরব বহন করে চলেছে।

ভাস্কর্য এবং মূর্তির মধ্যে তফাৎ আছে কী? যদি  তফাৎ থাকে, তাহলে আমরা কী সেটা বুঝতে পেরেছি!
বিশ্বের সর্বত্র বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্য রয়েছে।রয়েছে প্রতিটি মুসলিম দেশেও। ভাস্কর্য রয়েছে সৌদি আরবের মতো দেশেও। জেদ্দানগরীতে রয়েছে দৃষ্টি নন্দন উটের ভাস্কর্য। সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, ইরান, ইরাকসহ প্রায় সকল মুসলিম দেশে ভাস্কর্য রয়েছে। ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটে উঠে নিজ দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচার।

তাজাকিস্থানের রাজধানী দুশানবেতে ইবনে সিনার একটি বিশাল ভাস্কর্য আছে। মুসলিমপ্রধান ওই দেশের কোনো নাগরিক ভাস্কর্য নিয়ে, নেতিবাচক কোন কথা বলেননা।
ইরানের রাজধানী তেহরানে দু’বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় সমকালীন ভাস্কর্য প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা কবি ফেরদৌসী, ওমর খৈয়াম, পারস্যের নেপোলিয়ন বলে খ্যাত নাদির শাহর মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিদের ভাস্কর্য রয়েছে ইরানে। মাশহাদ নগরীতে ভাস্কর্যসংবলিত নাদির শাহর সমাধিসৌধটি পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়।

পাথরের তৈরি স্ফিংসের মূর্তিসংবলিত গিজা পিরামিড সারা দুনিয়ার পর্যটকদের অত্যান্ত আকর্ষনীয়। শুধু ইসলাম-পূর্বই নয়,  অনেককাল আগের তথা সাড়ে চারহাজার বছরের পুরনো মূর্তি মিসরের মুসলমানরা রেখেদিয়েছে সযত্নে।

মার্কিনিরা ইরাকে আক্রমণ করলে টিভিতে আমরা কী দেখিনী মার্কিন বাহিনীর মদদপুষ্টরা সাদ্দাম হোসেনের বিশাল আকারের ভাস্কর্টি ভেঙ্গেফেলে। আরো অনেক ছোট বড় ভাস্কর্য তারা ভেঙ্গেফেলে।ধর্মীয় কারণে নয়,সেটাছিলো রাজনৈতিক কারণ! এরপরও অসংখ্য ভাস্কর্য দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ইরাকে।

সারা তুরস্কের বিভিন্ন স্থানে আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট কামাল আতাতুর্কের রয়েছে অগণিত ভাস্কর্য একেকটি দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যে একেক রকমভাবে আতাতুর্ক এবং তুরস্কের ইতিহাস। কামাল আতাতুর্কের ভাস্কর্য ছাড়াও তুরস্কের উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য হলো : মর্মর সাগর তীরে পোতাশ্রয়ে অপূর্ব মর্মর ভাস্কর্য, আঙ্কারাতে ইন্ডিপেনডেন্স টাওয়ারের পাদদেশে তুরস্কের জাতীয় সংস্কৃতির ধারক তিন নারী  ভাস্কর্য ও আন্তালিয়ায় এডুকেশন অ্যাক্টিভিস্ট তুরকান সায়লানের ভাস্কর্য। সবচেয়ে বেশি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইন্দোনেশিয়া। সেই দেশেরই উত্তর সুলাবেসি দ্বীপের খ্রিষ্টান অধ্যুষিত শহর মানাদোতে রয়েছে যিশু খ্রিষ্টের এমন একটি ভাস্কর্য, যেটি এশিয়ায় সবচেয়ে উঁচু। ৩২ মিটার উঁচু একটি পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ৩০ মিটার উঁচু ভাস্কর্যটি। এই ভাস্কর্য নিয়ে কোন অভিযোগ নেই ইন্দোনেশীয় মুসলমানদের।

পাকিস্তানে রয়েছে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভাস্কর্য।রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য শিল্প। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের সামনে ষাঁড়ের ভাস্কর্য, লাহোরে বাদশাহি মসজিদের পার্শ্বে মেরি মাতার ভাস্কর্য। পাঞ্জাবের জং শহরের রাস্তায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়সওয়ারের ভাস্কর্য। লাহোরে ন্যাশনাল কলেজ অব আর্টস প্রাঙ্গণের নানা ভাস্কর্য।
তথ্য সূত্র: অনলাইনে থাকা বিভিন্ন আর্টিকেল।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close