সম্পাদকীয়

করোনা ভ্যাকসিন স্বস্তি আসবে কবে?

সম্পাদকীয়:
করোনা মহামারী চীনে শুরুর সময় (অক্টোবর ২০১৯) থেকে এক বছর হয়ে গেল। দুই বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের সকল মানুষকে তটস্থ করেছে এই একটিমাত্র ক্ষুদ্র জীবাণু। ৬ বিলিয়ন মানুষের জন্য গত এক সপ্তাহ ছিল এক মহাস্বস্তির সময়। এই এক সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটো বড় প্রতিষ্ঠান পরপর দুটো সফল ভ্যাকসিনের খবর দিয়েছে।

খবর মানেই নেতিবাচক কিছু না কিছু। কিন্তু কোন কোন খবর যে কতটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে, ভ্যাকসিনের এই দুটি খবর তার প্রমান । মরুভূমির তপ্ত বালুরাশি’র উপর এক পশলা বৃষ্টি যেমন তৃষ্ণার্ত মানুষকে চরম স্বস্তি দেয়, এই দুটি খবর তেমনি স্বস্তি দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি কোম্পানি অন্যান্য দেশের বিজ্ঞানীদের সহায়তায় এই মহা আবিষ্কারগুলো সম্ভব করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধের রেগুলেটরি সংস্থা এফ ডি এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে এই কোম্পানিগুলোর অর্জনকে প্রশ্নাতীত ভাবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। তাদের গবেষণা তথ্য-উপাত্ত সবকিছুই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিভিন্ন কমিটির ধারা প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নিয়ম কানুন এর মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করা হয়ে থাকে । বছরব্যাপী অচলাবস্থা কাটাতে বিজ্ঞান ও গবেষনার জয়যাত্রায় এই মহামারীর সময় চরম স্বস্তির মাধ্যম হবে এই ভ্যাকসিন গুলো। এই বড় আবিষ্কারের খবর শুধু স্বাস্থ্য মহাযুদ্ধের অবসানে শান্তির সমরাস্ত্র হিসেবে আসেনি বরং পুঁজিবাজারসহ শিল্প কারখানা এবং সকল দেশের জীবনযাত্রায় একটা ইতিবাচক আবহ তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

গত একবছরের বিশ্বব্যাপী মন্দা, থমকে যাওয়া জীবনযাত্রা আর ব্যক্তি সমাজ ও বৈশ্বিক জীবনে চরম স্থবিরতা কাটিয়ে ২০২১ সালে নতুন ভাবে পৃথিবী কে জাগিয়ে তুলবে। এই দুটি ভ্যাকসিন এবং অক্সফোর্ডের তৃতীয় ভ্যাকসিন বিশ্ববাসীর সেই বিপুল আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রুপ দেবে বিজ্ঞানের অবদানে পৃথিবী আবার ফিরে পাবে তার পূর্ণ গতি সে প্রত্যাশা এখন সর্বত্র। বিশ্বব্যাপী আবারও মানুষ তার শান্তি আর নিরুদ্বেগ পরিবেশে জীবন যাপনের অধিকার ফিরে পাবে, এই প্রত্যাশা যেন ব্যর্থ না হয় সেটাই এখন বড় কামনা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close