নিউজ

একের পর এক ভ্যাকসিন সফলতা

করোনাবিশ্বে আশার আলো: মডার্নার পর ফাইজারের ৯৫% সফলতা দাবী

|| সুরমা প্রতিবেদন ||
লণ্ডন, ২০ নভেম্বর – বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের বিস্তার এবং মৃত্যুহার দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি আসছে এর প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সফলতা সুসংবাদ। আমেরিকান ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানী ফাইজার এবং জার্মানীর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক এর যৌথ আবিষ্কৃত ভ্যকসিন প্রথম ৯০% সফলতার দাবী করেছিলো। তাদের এই ভ্যকসিন সফলতাকে বিশ্বের জন্য মাইলস্টোন হিসেবে দেখা হয়। এরপরই একের পর এক ভ্যাকসিন সফলতার সংবাদ শোনা যাচ্ছে। ফাইজার-বায়োএনটেকের পর রাশিয়া তাদের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন স্পুতনিক-ভি’র সফলতা দাবী করে। এরপরই আমেরিকান আরেক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানী মডার্না তাদের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৯৪.৫% দাবী করে। সর্বশেষ ১৮ নভেম্বর, বুধবার ফাইজারের ভ্যাকসিন ৯৫ শতাংশ কার্যকর এবং তাতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তথা সুরক্ষাজনিত কোনো উদ্বেগ কারণ নেই বলেও দাবী করা হয়েছে।
ফাইজার দাবি করেছে, তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের চূড়ান্ত বিশ্লেষণে তাদের করোনার টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করবেন। বুধবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের টিকা বয়স্কদেরও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষমতা দেখিয়েছে। এছাড়া এই ভ্যাকসিনে বড় ধরণের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তথা স্বাস্থ্য নিরাপত্তাজনিত কোনো গুরুতর উদ্বেগেরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
ফাইজার ও বায়োএনটেক এখন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) কাছে তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দেওয়ার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দিতে যেন কয়েক দিনের মধ্যে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় সে বিষয়ে এফডিএকে অনুরোধ করবে তারা। আর দ্রুত অনুমোদন পেলে এ বছরই ভ্যাকসিনটি বাজারে আসবে বলে আশা করা যায়।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ১৭০ জন করোনা আক্রান্তকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৮ দিন পর এর কার্যকারিতা শুরু হতে দেখা গেছে। ট্রায়ালের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্তে দেখানো হয়েছে, সম্ভাব্য এ ভ্যাকসিন মৃদু থেকে মারাত্মক কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে সক্ষম। এছাড়া কোভিডের প্রতি সবচেয়ে সংবেদনশীল বয়স্কদের ওপর এটি ৯৪ শতাংশ কার্যকর। যেখানে বয়স্করা সাধারণত কোনো ভ্যাকসিনেই যথেষ্ট সাড়া দেন না।
এর আগে ভ্যাকসিনটির চূড়ান্ত ধাপের ট্রায়ালের প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক এ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছিল, তাদের ভ্যাকসিনটি ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর। আর চলতি সপ্তাহে আরেক মার্কিন সংস্থা মডার্না দাবী করেছে তাদের ভ্যাকসিন ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকর।
গত বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই গবেষকরা এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ফাইজারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এক বছরের কম সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন তৈরির পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রায় শেষ করে ফেলেছে।
এদিকে, একের পর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সংবাদে বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে আশার সঞ্চার হতে শুরু করেছে। বিশ্বের প্রায় ধ্বসে যাওয়া শেয়ার মার্কেটগুলোর বিভিন্নখাতের সূচক বৃদ্ধি পেতে শুরেু করেছে। মুখ থুবড়ে পড়া হসপিটালিটি খাতে চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন হলিডে মেইকার কোম্পানীগুলো জানিয়েছে যে, আগামী স্প্রিং, সামারের জন্য লোকজন এখনই বুকিং দিতে শুরু করেছে এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞদের অনেকে আগামী বছরের শেষ নাগাদ বিশ্ব পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ সরকার ডিসেম্বর থেকেই ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে ফাইজারের ভ্যাকসিনের ৪০ মিলিয়ন এবং মডার্নার ৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন বন্দোবস্ত করতে সক্ষম হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার সবচেয়ে বেশী নির্ভর করছে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের সফলতায় এবং সেটির ১শ মিলিয়ন ডোজ সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close