নিউজ

কার্টুন বিতর্ক: ফ্রান্সের পণ‍্য বয়কটের ডাক, ক্ষোভে উত্তাল মুসলিম বিশ্ব

* ফ্রান্সকে বৃটেনের সমর্থন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
* তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান ও আরব দেশসমূহের কড়া প্রতিবাদ
* বাংলাদেশে ব‍্যাপক বিক্ষোভ, সরকার নীরব

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ৩০ অক্টোবর – মহানবী (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্রকে কেন্দ্র করে আবার উত্তাল হয়ে ওঠেছে বিশ্ব। সম্প্রতি ফ্রান্সের একটি স্কুলে শিক্ষার্থীদেরকে মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র ব্যবহার করে শিক্ষা দেয়ার অভিযোগে একজন শিক্ষককে শিরোচ্ছেদ করে হত্যার ঘটনায় ফ্রান্স ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এনিয়ে চলছে উত্তাপ। ক্ষুব্ধ মুসলমানরা মহানবী (সা.) প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে বিভিন্ন হ্যাসট্যাক ব্যবহারের পাশাপাশি ফরাসী পণ্য বয়কটের ক্যাম্পেইন জোরালো রয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ফ্রান্স, বৃটেনসহ পশ্চিমা ও মুসলিম বিশ্ব অনেকটা পরস্পর মুখোমুখী অবস্থান নিয়েছে। তবে সংঘাত নিরসন হবে বলে আশা করে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র আশা প্রকাশ করেছে যে, ন্যাটোর মিত্র ফ্রান্স ও তুরস্ক উত্তেজনা নিরসন করবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, মিত্রদের মধ্যে অপ্রয়োজনে সংঘাত শুধু আমাদের প্রতিপক্ষকেই সুবিধা দেবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্র।

ফ্রান্সের শার্লো হ্যাবদো ম্যাগাজিন কর্তৃক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্রের প্রকাশ বিশ্বের মুসলমানদের প্রচ-ভাবে মর্মাহত করলেও শিক্ষককে এভাবে হত্যার ঘটনা সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদেরও নিন্দা কুড়ায়। কিন্তু ইসলামকে সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত করা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্রের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলোতে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশসহ পুরো মুসলিম বিশ্ব প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠেছে। শুরু হয়েছে ফরাসী পণ্য বয়কট। সবচেয়ে বেশী উত্তেজনা দেখা দিয়েছে তুরস্ক ও ফ্রান্সের মধ্যে। মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র অনুমোদনের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের নিন্দা জানানো হয়েছে তুরস্কের পার্লামেন্টে। বিশেষ করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান ফ্রান্স প্রেসিডেন্টের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন। একই সাথে ইরান, পাকিস্তানসহ আরব দেশসমূহ ফ্রান্সের কড়া সমালোচনা করে ফরাসী পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামী দল বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ফরাসী পণ্য বয়কটের ডাক দিলেও বাংলাদেশ সরকার এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে।
অপরদিকে ফ্রান্সের পক্ষাবলম্বন করেছে বৃটেন। ব্রিটিশ ফরেন সেক্রেটারি ডমিনিক রাব ফ্রান্সকে সমর্থনের জন্য ন্যাটোভূক্ত দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। একই সাথে ভারতও ফ্রান্সেরপক্ষাবলম্বন করেছে।
ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন ও ‘ইসলাম সঙ্কটময় অবস্থায় আছে’— ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ করেছেন লাখো মুসলমান। ঢাকার বিক্ষোভে ফরাসী পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রনের কুশপুক্তলিকা দাহ করা হয়। ফরাসি দূতাবাসমুখী বিক্ষোভকে এক পর্যায়ে পুলিশ বাধা দিয়ে থামিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, ফরাসি একটি স্কুলে শিক্ষার্থীদেরকে মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র ব্যবহার করে শিক্ষা দিচ্ছিল ইতিহাসের শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি। এ জন্য ১৬ অক্টোবর স্কুলের কাছে দিনের বেলায় তার শিরোচ্ছেদ করে এক চেচেন যুবক। পরে পুলিশ তাকে হত্যা করে। ওই সময় থেকেই এটাকে ইসলামপন্থি সন্ত্রাস আখ্যা দিচ্ছেন ফরাসি কর্মকর্তারা। তারা ইসলামের সঙ্গে যুক্ত করে দিচ্ছেন সন্ত্রাস। এর বিরুদ্ধে প্রথমে কথা বলেছেন তুরস্কেও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। তারপর নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ইসলাম ইস্যুতে ইমানুয়েল ম্যাক্রনের অবস্থানের জন্য তাকে মানসিক রোগী মন্তব্য করে চিকিৎসার তাগিদ দেন এরদোগান। সৌদি আরব ও ইরানসহ মুসলিমবিশ্ব নেতারা ফ্রান্স এবং ম্যাক্রনের নিন্দা জানিয়ে আসছেন। দেশে দেশে ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও এমন ডাক দিয়েছেন মুসলমানরা।

ফ্রান্সকে বৃটেনের সমর্থন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান:
ফ্রান্সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অবমাননার কারণে ক্ষুব্ধ পুরো মুসলিম বিশ্ব। যার ফলে বহু দেশে বয়কটের মুখে পড়েছে দেশটি। তবে এবার এফ্রান্সের পাশে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব ডমিনিক রাব। খবর রয়টার্সের।
তিনি এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফ্রান্স ও ফ্রান্সের নাগরিকদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে ব্রিটেন। শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটির নির্মম হত্যাকাণ্ডে আমি ব্যথিত। আমি ন্যাটোভুক্ত সব রাষ্ট্রকে ফ্রান্সের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাকস্বাধীনতার প্রতি সমর্থন রেখে ন্যাটো সহ বিশ্বের অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তি ও সংগঠনগুলোর উচিৎ ফ্রান্সকে এই সঙ্কট থেকে বের করে আনা। আমি সবাইকে সে আহ্বানই জানাচ্ছি।

ফ্রান্স ইস্যুতে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থান:
ফ্রান্স ইস্যুতে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের কড়া প্রতিবাদ ও পণ্য বয়কটের ডাক দিলেও বাংলাদেশ এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থানের ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে যে, ফ্রান্সকে ঘিরে চলমান অস্থিরতায় কোনও পক্ষ নেবে না বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের ধর্ম নিয়ে মন্তব্যকে নিন্দা জানাবে না সরকার এবং অন্যদিকে চলমান ফ্রান্সবিরোধী সমাবেশ নিয়ে সহিষ্ণু আচরণ প্রদর্শন করা হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close