নিউজ

হোয়াইট হাউজ কি ট্রাম্পের দখলেই থাকছে?

আমেরিকান নির্বাচন নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন

।। শফি হক ।।
আগামী মাসে আসন্ন আমেরিকার নির্বাচনের উপর প্রতিটি জরিপে জো বাইডেন এগিয়ে আছে। কোনো কোনো জরিপে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে আছে!
যদি জরিপের ফলাফল সঠিক হয় তাহলে বলা যায় এবারের ডেমোক্রেট জুটি জো বাইডেন এবং কমলা হারিস হেসে খেলে হোয়াইট হাউজ (ধবল ভবন)-এর দখল নিতে যাচ্ছে।
অবস্থা এতই খারাপ যে অনেক রিপাবলিকান সিনেটর নির্বাচনে ধরাশয়ী হয়ে কোথায় হলিডে করতে যাবে সেই প্ল্যান করছে!
কিন্তু ট্রাম্প কি এতো সহজেই পরাজয় মেনে নিয়ে হোয়াইট হাউজ ছেড়ে দিবে?
এই উত্তর পেতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে ট্রাম্পের মতো লোক কিভাবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিল।
এবারের আমেরিকার নির্বাচন আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ভিন্নধর্মী হতে যাচ্ছে।
গত নির্বাচনের আগে মানুষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন ধনকুবের এবং প্রোপার্টি ব্যবসায়ী হিসেবে জানতো, এর বেশী কেউ কিছু জানতো না। কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তার কথাবার্তা শুনে এবং তার কর্মকা- দেখে মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে এরকম একজন মানুষকে কি করে আমেরিকার জনগণ তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করলো!
ইউরোপিয়ানরা আমেরিকার সাধারণ জনগণকে বেশ বোকাসোকা এবং তারা তাদের নিজেদের অঙ্গরাজ্যের বাইরে কিছু জানে না বলেই জানে। কিন্তু তাই বলে তারা কি এতোই সরলসোজা যে ট্রাম্পকে তাদেও নেতা নির্বাচিত করলো, যে কিনা খুবই লিমিটেড কয়েকটি বাক্য ছাড়া কোনো বক্তৃতা দিতে পারে না! কোনো বিষয়ে কোনো গভীর আলোচনা বা এমন কোনো মতামত পর্যন্ত দিতে পারে না যা কোনো চিন্তাশক্তির খোরাক যোগায়! ট্রাম্প খুব মুখরোচক চটকদার স্লোগান “মেইক আমেরিকা গ্রেইট এগেইন” চালু করে।
কিন্তু সেই ট্রাম্পই সারা বিশ্বে আমেরিকার একক কর্তৃত্ব খর্ব করেছে প্যারিস ক্লাইমেট এগ্রিমেন্ট থেকে বেরিয়ে এসে এবং ন্যাটোকে দুর্বল করে।
এছাড়া কুর্দিদের সাথে বিট্রেয় এবং তালেবানদের সাথে হিউমিলিয়েটিং ডিল করে আমেরিকাকে নাকানিচুবানি খাইয়ে সারা বিশ্বে আমেরিকার ইমেজ নষ্ট করেছে।
আরও রয়েছে ট্রাম্পের অগণিত নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা এবং ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার মতো ঘটনা যা কখনো আদালতে গেলে তাকে জেলে ঢুকিয়ে পর্যন্ত দিতে পারে।
এতো কিছুর পরও ট্রাম্প তার প্রথম টার্ম পূরণ করেছে এবং বহাল তবিয়তেই ক্ষমতায় বসে আছে!
আমেরিকার প্রভাবশালী ধর্মীয় গ্রুপ ইভাঞ্জেলিকা এতো এতো নারী কেলেঙ্কারির ঘটনার পরও তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে!

তাহলে ট্রাম্পের সাকসেস স্টোরির সিক্রেট কি? কারাইবা সমস্ত চিন্তা-ভাবনার বাইরে তাকে গত নির্বাচনে জিতিয়ে নিয়ে আসে!
ট্রাম্প কেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সেটা জানতে হলে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারের বাইরে এর উত্তর খুঁজতে হবে।
কারণ, ট্রাম্প অভ্যন্তরীণভাবে এমন কোনো কাজ করেনি বা নীতিনির্ধারণ করেনি যে আমেরিকার সাধারণ মানুষ তাকে শুধু ভালোবেসে ােপ্রসিডেন্ট করেছে বা আবার করবে।
আসলে জর্জবুশ জুনিয়রের সময়কাল থেকে যদি দেখা যায় তবে একটা জিনিস খেয়াল করা যায় যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সে যেইহোক আমেরিকার ফরেইন পলিসি কখনো পরিবর্তন হয় না।
যে গ্রুপটা ফরেইন পলিসি কন্ট্রোল করে তারাই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বানায়।
তাই যদি না হতো তাহলে যুদ্ধবাজ জর্জবুশের পর অত্যন্ত মেধাবী এবং উচ্চশিক্ষিত জনপ্রিয় বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর আমেরিকা আর কোনো যুদ্ধে জড়াতো না, সিরিয়া ও লিবিয়া আজ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হতো না।
তাই বলা যায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় না, “নির্বাচিত” করা হয়!
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে যা থেকে এই “নির্বাচিত” করার থিউরিই আমার কাছে সত্য বলে মনে হয়।
জেরুজালেম হচ্ছে আব্রাহামিক তিনটি ধর্ম ইহুদী, খ্রিস্টান এবং ইসলাম-এর জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ স্থান এবং এর দখলদারিত্ব নিয়ে ইতিহাসে অনেক যুদ্ধ হয়েছে। সেই জেরুজালেমকে আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্ট এককভাবে ইজরায়েলকে দিয়ে দেয়ার সাহস করেনি।
কিন্তু ট্রাম্প এসে অন্য ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মতামতকে তোয়াক্কা না করে ইজরাইলের রাজধানী বানানোকে মেনে নিয়ে সেখানে আমেরিকার দূতাবাস স্থাপন করে ।
৬৭ সালে ইজ্রাইয়েলের দখলকৃত সিরিয়ার গোলান হাইট এক ঘোষণায় ইজরায়েলকে দিয়ে দেয়, যদিও গোলান হাইট আমেরিকার জমি নয় যে তারা তা দিয়ে দিতে পারে।
ট্রাম্প সৌদির রাজ পরিবারের সমস্ত চেইন অফ কমা- ভেঙ্গে এমবিএস-এর প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকে সমর্থন দেয় এবং জার্নালিস্ট জামাল খাশোগির হত্যাকা- থেকে এমবিএসকে রেহাই দিয়ে সৌদিকে ইজরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে বশীভূত করে।
এমবিএস ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সৌদি ইজরাইলের সাথে ঘরোয়া সম্পর্ক গড়ে তুলে আনঅফিসিয়ালি অনেক কর্মকা- চালালেও অফিসিয়ালি জানানোটাই বাকি রেখেছে শুধু।
এর নমুনা আমরা দেখেছি স¤প্রতি বাহরাইন এবং আরব আমিরাতের ইজ্রাইয়েলের সাথে পূর্ণ ডিপ্লোম্যাটিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে।
সৌদিও ঘোষণা দিয়েই বন্ধুত্বে দস্তখত কওে ফেলতো, কিন্তু আগামী নির্বাচনে ট্রাম্প না আসলে সৌদি বেকায়দায় পড়তে পারে বলে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত ঝুলিয়ে রেখেছে।
যদিও ট্রাম্প চাচ্ছিলো তার নির্বাচনের আগেই এই ঐতিহাসিক কাজটা করে নিয়ে শান্তির নোবেল প্রাইজটা বাগিয়ে নিতে।
সম্প্রতি সৌদি ইজরায়েলকে তার আকাশসীমা ব্যবহার করারও অনুমুতি দিয়েছে যা কিছুদিন আগেও অসম্ভব মনে করা হতো ।
আপাতত দৃষ্টিতে ইয়েমেনে সৌদীর বোমাবাজী করে নিরীহ মানুষকে হত্যার কোনো কারণ খুঁজে না পেলেও মূলত ইয়েমেনের উপর থেকে ইরানের কন্ট্রোল সরিয়ে লোহিত সাগরে পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপন করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইজরাইলের একক কর্তৃত্বে নিয়ে আসার প্লানকে সম্মতি দান Ñ যা একমাত্র ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্টের পক্ষেই সম্ভব ।
এছাড়াও ব্রিটেনকে ব্রেক্সিটের মাধ্যমে ইউরোপ থেকে বের করে নিয়ে এসে ইউরোপের শক্তিকে খর্ব করার পিছনে সেই একই গ্রুপের হাত আছে বলে ধারণা করা হয়।
কারণ ট্রাম্পের নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে সবচেয়ে বড় ডোনার বিলিয়নিয়ার রবার্ট মার্সারের কোম্পানি ডেটা এনালিটিক্স ফার্ম ব্রেক্সিটের সময় “লিভ”-এর পক্ষে টেনিক্যাল এনালাইসিস, এক্সপার্ট এডভাইস এবং ব্যাপক ক্যাম্পেইন কওে ব্রেক্সিটের রেফারে-ামকে সফল করে।
এখন কথা হচ্ছে এসব ঘটনা কি করে আমেরিকার নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে যেখানে আমেরিকার মানুষ তার নেইবারহুডের খবরই রাখে না! তাদের কি আসে যায় মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতা কার হাতে থাকলো !
ঘটনা আসলেই তাই, সাধারণের মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক ঘটনা কোনো প্রভাবই ফেলে না আমেরিকাতে।
গত বিশ বছরে বিশ্ব রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আর কোনো আইডিওলজি নিয়ে রাজনীতির ক্ষমতার হাত বদল হয় না।

এখন হচ্ছে চরম উগ্র-পন্থীদের জয়জয়াকার। তাই মোদির মতো লোক এক সময়ের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধামন্ত্রী হতে পারে, পুটিন এবং নেতানিয়াহুর মতো লোক বার বার “নির্বাচিত” হয়ে ক্ষমতায় থেকে যায়।
গ্লোবাইজেশনের যুগে ব্রেক্সিট হয়, এবং চরম রেসিস্ট গ্রুপের সমর্থনে ট্রাম্পের মতো লোক আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়।
ট্রাম্পের দ্বারা অনেক কাজ করিয়ে নিলেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো বাকি রয়েগেছে।
এক, ইজরাইলের থার্ড টেম্পল তৈরী করা।
সেটি তৈরী করার জন্য প্ল্যান করেছে জেরুজালেমে মুসলিমদের স্পর্শকাতর ধর্মীয় স্থান “ডোম অফ দা রক” যা হজরত ওমর (রা.) এর মসজিদ হিসেবে পরিচিত। এখানেই হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কুরবানী দিতে নিয়ে গিয়েছিলেন।
দ্বিতীয়ত, ইরানকে এখনো সিরিয়া বা লিবিয়ার মতো ধ্বংস করতে পারেনি। ইরানই একমাত্র বাধা হয়ে আছে ইজরাইলের সেই “প্রমিজ ল্যা-”-এ তৈরীর মাস্টার প্ল্যানের ।
এবছর জানুয়ারিতে ইরানের ডিফেন্স মাস্টার প্ল্যানার জেনারেল কাশেম সুলেমানিকে বাগদাদে আমেরিকা এয়ার স্ট্রাইক করে হত্যা করার পর ধওে নেয়া হয়েছিল ইরান প্রতিশোধ নিতে ইজরাইলের উপর আক্রমণ করবে, এবং তখনই ইরানের উপর অল-আউট আক্রমণ করে ইরানকে শেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে টাইগ্রিস থেকে নীল নদ পর্যন্ত গ্রেটার ইজরাইল তৈরীর হাজার বছরের স্বপ্ন পূরণ হবে ।
যে কারণেই আমি মনে করি, আমেরিকার নির্বাচন যতো ফ্রি এবং ফেয়ারই হোক, ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে এবং আগামী জানুয়ারী মাসে ট্রাম্প নতুন করে শপথ নেয়ার পরেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে গোলযোগ শুরু হবে।
কিন্তু নির্বাচন যদি ফ্রি এণ্ড ফেয়ার হয় তাহলে ট্র্রাম্প কি করে জিতে আসবে, সেটা কি করে সম্ভব!
আমেরিকাতো আর থার্ড-ওয়ার্ল্ড-কান্ট্রি নয় যে দিনেদুপুরে ভোট ডাকাতি করে ব্যালট বাক্স ভরে নিজেদের মতো ফলাফল ঘোষণা করে জিতে আসবে!
ডেমোক্র্যাটদের এতো এতো সমর্থন থাকার পরেও ট্রাম্পের পক্ষে কি কওে ভোট দিয়ে জিতে আসা সম্ভব!
আমেরিকাতে ভোট ডাকাতি হবে না ঠিকই, কিন্তু ডিজিটাল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হতে পারে যদি ট্রাম্পকে জিতিয়ে নিয়ে আসতে হয়।
এটা বুঝতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে, ডিজিটাল মার্কেটিং-এর ক্ষমতা। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মার্কেটিং ক্ষমতা।
ডিজিটাল মার্কেটিং-এর ক্ষমতা বুঝতে হলে একটি উদাহরণ দেখলেই বুঝা যাবে। প্রাতরাশ সম্পন্ন করার সময় ট্রাম্পের একটি টুইট বিশ্বের স্টক মার্কেটের ভ্যালু কমে এবং বাড়ে কয়েক’শ বিলিয়ন।
শত বছরের সবচেয়ে বড় করোনা প্যানডেমিকের সময় যেখানে বিশ্বের ইকোনমির অবস্থা চরমে এবং স্টক মার্কেটের ধ্বস নামার কথা, সেখানে স্টক মার্কেটের সূচক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে!
এটা কি করে সম্ভব হচ্ছে!
হচ্ছে , কারণ ট্রাম্প স্টিমুলাস প্যাকেজের নামে ট্রিলিয়ন ডলার স্টক মার্কেটে ঢেলে স্টক মার্কেটকে আর্টিফিসিয়েলী ফুলিয়ে রেখে মানুষের পকেটে পয়সা দিয়ে খুশি রাখছে।
এছাড়া আমেরিকান প্রতিটি নাগরিকের জন্য সরাসরি চেক ইস্যু করে বাড়িতে টাকা পৌঁছে দিচ্ছে যাতে মানুষ “ফলস” ইকোনোমিতে “ফিল গুড ফ্যাক্টর” অনুভব করতে পারে।
ব্রিটেনে ব্রেক্সিটতো হওয়ার কথা ছিল না, কিন্তু শুধু মাত্র “ডিজিটাল টার্গেটেড ক্যাম্পেইন” করে ব্রেক্সিট সমর্থনকারীরা জিতে গেছে।
ডিজিটাল টার্গেটেড মার্কেটিং এবং “ফেইক নিউজ” এর ব্যাপার বুঝতে হলে আরো বড় পরিসরে বিস্তারিত আলাপ করতে হবে।
তবে এটুকু বলা যায়, কিছুদিন আগে “ব্ল্যাক লাইভস মেটার্স” আন্দোলন সাধারণভাবে ডেমোক্রেটদের পক্ষে যাওয়ার কথা থাকলেও এর সুফল পাবে রিপাবলিকান এবং উগ্রপন্থী রেসিস্ট গ্রুপগুলো।
আর রেজাল্ট ভোগ করবে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার জিতে।
আমেরিকার সমস্ত মিডিয়া ব্ল্যাক লাইফ মেটার্স আন্দোলন কাভার করলেও এবং এর পক্ষে থাকলেও মনে রাখতে হবে মানুষ ব্যাসিকালি নিজ রেস, ধর্ম, গোত্র বা জাতির প্রতি সবসময় দুর্বল থাকে।
যদি কখনো দেখে তার জাতি, ধর্ম বা রেস্ হুমকির সম্মুখীন তখন নিজের অবচেতন মনেই ভিতরে ভিতরে তাকে সমর্থন করে তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।
সুপার ইন্টেলেকচুয়াল ডিজিটাল মার্কেটিং গ্রুপ এই এগুলো খুব ভালো করেই জানে এবং তারা ব্ল্যাক লাইফ মেটার্স আন্দোলন যে আসলে সাদা জাতিকে ভবিষ্যতে মাইনোরিটি কওে ফেলবে সেটা খুব ভালোভাবেই এ-আই (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দিয়ে প্রচার করবে তাদের নিজেদের হার্ডকোর সমর্থকদের মধ্যে।
ফলে এই নির্বাচনে অন্য যেকোন সময়ের চাইতে চরম রেসিস্ট গ্রুপগুলো সবচেয়ে বেশী একটিভ থাকবে এবং ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবে ভোট দেয়ার জন্য।
আর একটি সুক্ষ বিষয় আছে যা ডেমোক্র্যাটদের বিপক্ষে কাজ করবে।
আমেরিকাতে কালোরা বাদামী রং -এর ভারতবর্ষের লোকদেরকে “নিউ জিউ” হিসেবে দেখে।
শত বছরের স্ল্যাভারি থেকে বহু কষ্ট ত্যাগ স্বীকার করে কালোরা এতদূর আসলেও মাত্র ৫০ বছর আগে আসা এই বাদামী আদমিগুলো শিক্ষা-দীক্ষায় অনেক উপরে সাদাদের প্রায় সমকক্ষ হওয়ায় নিচু স্তরের সংখ্যাগুরু কালোদের অলিখিত হিংসায় পরিণত হয়েছে। যা আমেরিকার বসবাসকারী অনেক এশিয়ানরা বুঝতে পারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ।
ফলে এই “ব্ল্যাক লাইফ মেটার্স” আন্দোলের পর কালোরা ধরেই নিয়েছিল ডেমোক্র্যাট রানিং মেট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন একজন কালোকে নির্বাচন করবে।
কিন্তু জো বাইডেন বহু কালোদের মনে দাগ দিয়ে একজন “নয়া জিউ” ভারতীয়কে সাথে নেয়ায় অনেক কালোরা এবার ভোটদানে বিরত থাকবে বলে আমার ধারণা।
আর এটা যাতে হয় তারজন্য ট্রাম্পের ইলেক্ট্রোরাল ম্যাকানিজম তাদের ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সদ্য কাঁচা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা দিয়ে সেই হিংসাটাকে জিইয়ে রাখবে।
ফলে বহু কালোরা এবার মন খারাপ কওে ভোট দান থেকে বিরত থাকবে, কারণ একজন ভারতীয় যারা কিনা গান্ধীর (গান্ধীকে আফ্রিকার অনেক দেশেই কালো-বিদ্বেষী হিসেবে মনে করা হয়) বংশধর তাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে না।
তাহলে যদি বেশিসংখ্যক উগ্রপন্থী সাদা ভোটার ভোট কেন্দ্রে নেয়া যায়, আর কালোদের যাওয়া বন্ধ করা যায় তাহলে ট্রাম্পের আবার জিতে আসা ঠেকায় কে!
এজন্যই আমি আশাবাদী আমেরিকান নির্বাচন “রাশান স্টাইলে” হলে হোয়াইট হাউজের বাসিন্দার পরিবর্তন হচ্ছে না, ট্রাম্পই থেকে যাচ্ছে।
তবে শেষ কথা হচ্ছে, যদি আমেরিকার সাধারণ মানুষের শুভবুদ্ধির উদয় এবং লিবারেল মানুষরা সাধারণ নাগরিকদেও জোর করে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারে তাহলে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বুদ্ধিসম্পন্ন প্রেসিডেন্টের এখানেই সমাপ্তি ঘটতে পারে, ট্রাম্পের এখানেই বিদায়।

(বি. দ্র. একটি ছোট্ট পূর্বাভাস দেয়া যেতে পারে, যদি ইলেকশনের আগে স্টক মার্কেটের ধ্বস নামে, তাহলে বুঝতে হবে বাতাসের গতি পরিবর্তন হয়ে গেছে এবং ট্রাম্প হেরে যাচ্ছে! আর যদি ইলেকশনের দিন পর্যন্ত স্টকমার্কেট সূচক উপরে উঠতে থাকে, তবে বুঝতে হবে ট্রাম্প জিতে যাচ্ছে!)

লেখক: রাজনীতি বিশ্লেষক, কলামিষ্ট ও কৌশলবিদ। ইমেইল: shafixhaque@gmail.com

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close