সম্পাদকীয়

রায়হান হত্যার বিচারও চাইতে হবে?

গোঁজামিলের পরিণতি ও কবরের শান্তি

এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় ।। ইসু‍্য ২১৭৩
আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের দায়িত্ব পালনে আইনগতভাবে বাধ্য। এজন্য বাড়তি কোনো আদেশ নির্দেশের প্রয়োাজন হয় না। যেখানেই এই বাড়তি আদেশের প্রয়োজন হয়, বুঝতে হবে সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে না অথবা তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে।
অপরাধ সকল দেশ ও সমাজে আছে। কিন্তু গুটিকয় ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বাদে কোথাও এরকম দেখা যায়না। যে কোনো অপরাধের বিচারের জন্য মানুষকে রাস্তায় নামতে হয়। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করতে হয়। আবার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের উপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চড়াও হয়ে অপরাধীদের আস্কারা দেওয়া এখন যেন একটা নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছে। যার পরিণতিতে দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অপরাধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনগত দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া। এসব বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের অনেকে অসংখ্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ার মধ্যদিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীকে চরম অসহায়ত্বের পথে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এই দেউলিয়াত্বের কারণেই জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ তারা আর সহ্য করতে পারে না বরং অপরাধীদের পক্ষ নিয়ে জনগনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মূল দায়িত্ব পালন না করে জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের উপর হামলে পড়ে আরেক অপরাধে লিপ্ত হয়।

এবার আসা যাক, রায়হান হত্যার বিচার প্রসঙ্গে। সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রলীগের দুর্বৃত্তদের ভয়াবহ অপকর্মের রেশ না কাটতেই নোয়াখালীতে একই পরিচয়ের দুর্বৃত্তদের ভয়াবহ অপরাধ আর দুদিন না যেতেই ঘটলো সিলেটে রায়হান হত্যা। এ যেন সমগ্র বাংলাদেশ খুন ধর্ষণ আর রাহাজানির উপত্যকা আর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য।

রায়হান হত্যার পরেও দেশেবিদেশে প্রতিবাদের ঝড়। কিন্তু সরকার মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ। বলা হচ্ছে, প্রধান আসামি দেশ থেকে পালিয়েছে। এমন যখন অবস্থা তখন রায়হানের বোনকে কাঁদতে কাঁদতে জাতির কাছে বিচার চাইতে হয়। লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে রায়হানের বোনের কান্না উপস্থিত প্রবাসীদের প্রত্যেককে কাঁদিয়েছে। তিনি বলেছেন শুধুমাত্র দেশ-বিদেশে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখলেই তাদের পরিবার রায়হান হত্যার বিচার পাবে। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে যে, এই চরম অরাজকতা আর বিচারহীনতার অবসান হবে, কবে? কিভাবে?
বাংলাদেশকে অপরাধীদের অভয়ারণ্য পরিণত করার দায় কাউকে না কাউকে তো নিতেই হবে। সম্প্রতি শাসকদলের সম্পাদক সিনিয়র মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বীকার করেছেন, এসব ঘটনার দায় সরকার এড়াতে পারে না। কিন্তু এমন অন্যায় অবিচার এর দায় নিয়ে সরকার গদি আঁকড়ে বসে আছেন। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে জনগণের কতৃত্ব জনগণের কাছে ফেরত দেয়াই হচ্ছে গণতন্ত্র আর আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থ্রার প্রথম ও শেষ কথা। রাজনৈতিক অভিসন্ধী, ফন্দি ফিকির, কুতর্ক আর পেশী শক্তি দিয়ে গোঁজামিল দেয়া যায়, জনগণকে দাবিয়ে রাখা যায়। কবরের শান্তি জারি রাখা যায়। তবে সেটা সীমিত সময়ের জন্য।
ইতিহাস সাক্ষী- দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের জয় অবশ্যম্ভাবী।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close