ফিচার

বিএনপি’র জন্মকথা: আধিপত্যবাদ বিরোধী এক লড়াকু দল

লেখক: সাংস্কৃতিক কর্মী। জাসাসের সভাপিত, যুক্তরাজ‍্য।

মুক্তকথা:
।। এমাদুর রহমান ।।

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের পরিস্থিতি খুবই নাজুক হয়ে পড়েছিল। অনির্বাচিত সরকারের চরম অব্যস্থাপনা, দুর্নীতি, লুন্ঠন, আইনের শাসনের অভাব, স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ, আধিপত্যবাদের কাছে নতজানু, দুর্ভিক্ষ, লাল-বাহিনী, নীল-বাহিনীর ত“পরতা, সেনাবাহিনীর প্যারালাল রক্ষিবাহিনী সৃস্টি, বাকস্বাধীনতা হরণ, সংবাদপত্রের টুঠি চেপে ধরা, বিরোধী মতামতকে দাবড়িয়ে রাখা এবং ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল বাতিল করে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে বাকশাল কায়েম করা। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে নাভিশ্বাস জন্ম নেয়।
স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের উপর হুমকি, সেনাবাহিনীর মধ্যে চরম বিশৃংখলা ফলে তৎকালিন আওয়ামী লীগের কিছু রাজনীতিবিদ, কিছু সেনাসদস্য ও জাসদ নামক রাজনৈতীক দলের চক্রান্তে গঠিত হয় ১৫ আগষ্ট।
১৫ আগষ্ট শেখ মুজিব হত্যার পর তারই ঘনিষ্ট বন্ধু ও দলের নেতা খন্দকার মুস্তাক ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এরপরও নানামুখি ষঢ়যন্ত্র থেমে থাকেনি। নভেম্বর মাস ৭৫-এর রাজনৈতীক ছত্রছায়ায় সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্যু-পাল্টা ক্যু সংগঠিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক তৎকালীন সেকেন্ড ইন কমান্ড জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। এরপর সংগঠিত হয় জেল হত্যা। এসব কর্মকান্ড দেশের সাধারণ জনগণ ও সাধারণ দেশপ্রেমিক সৈনিক নিরবে পর্যবেক্ষণ করছিল।
৭ নবেম্বর ভোরে দেশপ্রমিক সিপাহি ও সাধারণ জনতার সমন্বয়ে একটি বিপ্ল­ব সংগঠিত হয় আর এ বিপ্ল­বের মহানায়ক হিসাবে জাতির সামনে আসেন জিয়াউর রহমান যেমন করে এসেছিলেন ৭১-এর ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে । সারা দেশের মানুষ স্বস্থির নিশ্বাস ফেললো। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিপ্ল­ব একটি স্বরণীয় দিন। এই দিনে একটি দর্শনের বীজবপন হয়েছিল। জিয়া দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা নিয়েই মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটান। গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে দেশ উন্নয়নে কাজ করতে থাকেন। জিয়া বাংলাদেশের সীমা রেখার ভিতরে বসবাসরত সকল ধর্মের সকল নৃতাত্বিত গোষ্ঠী ছোট বড় সকল সম্প্রাদায়কে একিভুত করে তাদের আত্মপরিচয়ের কালজয়ী দর্শনের জন্ম দেন “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ”। এই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দর্শনের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সামাজিক সাংস্কৃতিক ধর্মীয় মুল্যবোধের সমন্নয়ে ১৯ দফা কর্মসূচীর প্রণয়ন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি গঠন করেন। আধুনিক বাংলাদেশ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ স্বপ্ন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া। একটি চক্রান্তের মাধ্যমে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে ৮১ সালের ৩০ মে শহীদ হন জিয়াউর রহমান। আজ পর্যন্ত এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার উত্তরসূরী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান।
বিএনপি আজ ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করছে। স্বাধীনতা উত্তর অনেক দলের সাথে শুধুমাত্র গণমুখী কর্মসূচীর ও সঠিক নেতৃত্বের কারণে মানুষের আস্থার রাজনৈতীক দলে পরিনত হয়েছে। যখনই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ও গণতন্ত্রের উপর আঘাত আসে তখনই অতন্দ্র প্রহরীর হয়ে চীনের প্রাচিরের মত দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দল বিএনপি। কালের পরিক্রমায় বিএনপি প্রমাণ করতে পেরেছে সাম্রাজ্যবাদ আদিপত্যবাদের মোড়লীপনা বিরোধী ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী একমাত্র দল বিএনপি। বাংলাদেশের উপর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উপর শকুনীরা আঘাত করতে হলে প্রথমেই আঘাত করতে হয় বিএনপির উপর এবং তার নেতৃত্বদানকারী শহীদ জিয়ার পরিবারের উপর। শত ষড়যন্ত্রের ভেদ চিন্ন করে এখনও ইস্পাত কঠিন জগদ্দল পাথরের মত দাডিয়ে রয়েছে বিএনপি। বিএনপি প্রতিষ্ঠাতার আদর্শ, রেখে যাওয়া কর্মসূচী, যোগ্য উত্তরসূরি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানসহ লক্ষ্য কোটি নেতা কর্মীর ভালবাসা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতীক দল হিসাবে আজ প্রতিষ্ঠিত করেছে।বার বার বিএনপির উপর দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হচ্ছে। সর্বশেষ ১/১১-এর কুশীলব মঈনউদ্দিন ফখরুদ্দিন ও তাদের দোসর আওয়ামীলীগ বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি থেকে শুরু করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে প্রেরণ, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) দেশছাড়া, লক্ষাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে কোটির অধিক নেতাকর্মীর উপর মামলা, খুন-গুম, নির্যাতনের পরও লড়াইকু মনোভাব নিয়ে মাথা উঁচু করে সম্মানের দাঁড়িয়ে রয়েছে বিএনপি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close